Dealing with Narcissist: সব সময় নিজের প্রশংসা চাওয়া এবং আপনার আবেগকে গুরুত্ব না দেওয়া মানুষটির মনেও কি ভয় কাজ করে? জানুন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার ৫টি গোল্ডেন রুল।আপনার সঙ্গী কি সব সময় নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত? জানুন আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সাথে সংসার করেও নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখার উপায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমের শুরুতে মনে হয়েছিল, আকাশের চাঁদটা বোধহয় আপনার হাতেই এসেছে। এমন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, এমন আত্মবিশ্বাস—কার না ভালো লাগে? কিন্তু সংসার শুরু করার কিছুদিন পরেই কি মনে হচ্ছে, এই সম্পর্কের আকাশে আপনি শুধুই এক ম্লান তারা? যেখানে সূর্যের মতো প্রখর হয়ে জ্বলছেন শুধুই আপনার সঙ্গী?
তিনি কথা বলেন, আপনি শোনেন। তিনি প্রশংসা চান, আপনি জোগান দেন। কিন্তু দিনশেষে যখন আপনি নিজের একটু ক্লান্তি বা আবেগের কথা বলতে যান, তখন দেখেন উল্টো দিকের মানুষটির কাছে তা পৌঁছচ্ছেই না। এই যে একতরফা অনুভূতি, এই যে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছোট বা নগণ্য মনে হওয়া—মনস্তত্ত্বের ভাষায় একেই হয়তো নার্সিসিস্টিক সম্পর্কের লক্ষণ বলা হয়।
তবে মনে রাখবেন, Dealing with Narcissist মানেই যুদ্ধ ঘোষণা নয়। বরং এটি হলো এমন এক মনস্তাত্ত্বিক দাবার চাল, যেখানে সাপও মরবে না, লাঠিও ভাঙবে না। আজ আমরা জানব, কীভাবে এক আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সাথে থেকেও নিজের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মসম্মান অটুট রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন : প্রেগন্যান্সি কিট ছাড়াই সুখবর? শরীরের এই বিশেষ ‘নীল সংকেত’ জানিয়ে দেবে আপনি মা হতে চলেছেন কিনা!
নার্সিসিজম: অহংকার নাকি গভীর নিরাপত্তাহীনতা?
কাউকে ‘নার্সিসিস্ট’ বলে দেগে দেওয়া খুব সহজ। কিন্তু সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্ব বলছে, বিষয়টি অতটা সরল নয়। গ্রিক পুরাণের সেই নার্সিসাস নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে যাঁরা ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ (NPD)-এর বা কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, তাঁদের এই আচরণের পেছনে থাকে গভীর এক নিরাপত্তাহীনতা।
এঁরা আসলে একটি ফুটো বালতির মতো। আপনি যতই ভালোবাসা বা প্রশংসা ঢালুন না কেন, তাঁদের ভেতরের শূন্যতা কিছুতেই ভরে না। তাই এঁরা সব সময় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান। সঙ্গীর আবেগকে উপেক্ষা করাটা অনেক সময় তাঁদের ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা নয়, বরং অন্যের অনুভূতি বোঝার অক্ষমতা বা ‘ইমোশনাল ব্লাইন্ডনেস’। এটি বোঝা জরুরি, কারণ এই বোধটুকুই আপনাকে অহেতুক কষ্ট পাওয়া থেকে মুক্তি দেবে।
চিনবেন কীভাবে? সম্পর্কের সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো
মনস্তত্ত্ববিদরা কিছু বিশেষ আচরণের কথা বলেন, যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সঙ্গী এই গোত্রের কিনা:
১. প্রশংসার কাঙাল: এঁরা সব সময় চান আপনি তাঁদের রূপ, গুণ বা কাজের প্রশংসা করুন। কিন্তু বিনিময়ে আপনার ছোটখাটো অর্জনেও তাঁদের বিশেষ কোনো মাথাব্যথা থাকে না। ২. সহমর্মিতার অভাব (Lack of Empathy): আপনি জ্বরে পুড়ছেন, অথচ তিনি হয়তো নিজের অফিসের সমস্যা নিয়ে বকবক করছেন। আপনার কষ্টটা তিনি অনুভবই করতে পারছেন না। ৩. সব দোষ আপনার: সংসারে কোনো সমস্যা হলে, তার দায়ভার সুকৌশলে আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া। এমনভাবে কথা ঘোরানো (Gaslighting) যাতে আপনি ভাবতে বাধ্য হন, ভুলটা আপনারই ছিল।
সংসার ও শান্তি: সামলানোর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সাথে সংসার করা মানেই রোজ একটু একটু করে নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলা। কিন্তু আপনি যদি কৌশলগুলো জানেন, তবে এই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
১. ‘গ্রে রক’ মেথড (Become a Grey Rock)
এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এক মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি। একটি ধূসর রঙের পাথরের দিকে তাকালে যেমন আমাদের কোনো বিশেষ অনুভূতি হয় না, ঠিক তেমনই সঙ্গীর অযৌক্তিক আচরণে যখন আপনি ভাবলেশহীন থাকবেন, তখন তিনি আর মজা পাবেন না। নার্সিসিস্টরা ড্রামা বা আপনার আবেগি প্রতিক্রিয়া (কান্নাকাটি বা চিৎকার) থেকে শক্তি পান। যখন তিনি আপনাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলবেন, তখন উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে “ও আচ্ছা”, “ঠিক আছে” বা “আমি বুঝতে পারছি”—এইটুকু বলে চুপ করে যান। যখন তিনি দেখবেন আপনি আর রিয়্যাক্ট করছেন না, তিনি নিজেই থামবেন।
২. লক্ষ্মণরেখা বা বাউন্ডারি তৈরি করুন
ভালোবাসা মানেই নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া নয়। নিজের জন্য একটি অদৃশ্য দেওয়াল তুলুন। শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলুন, “তুমি আমার সাথে চিৎকার করে কথা বললে আমি এই আলোচনায় থাকব না।” তিনি হয়তো প্রথমে রাগ করবেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝবেন আপনার আত্মসম্মানে আঘাত করে কথা বলা যাবে না। এটি ঝগড়া নয়, এটি আপনার অধিকার।
৩. তর্কে নয়, তথ্যে বিশ্বাসী হন (Dealing with Narcissist)
আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব। কারণ তাঁরা যুক্তি দিয়ে নয়, ইগো দিয়ে কথা বলেন। তাই নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা ছেড়ে দিন। তিনি যদি বলেন, “তুমি আমাকে অপমান করেছ”, আপনি শান্তভাবে বলুন, “আমি দুঃখিত তুমি এমনটা ভাবছ, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য সেটা ছিল না।” ব্যস, এটুকুই। নিজেকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে লম্বা চওড়া ব্যাখ্যা দেবেন না।
৪. নিজের আলোর উৎস খুঁজুন
নার্সিসিস্ট সঙ্গীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তাঁরা আপনাকে আপনার নিজের চোখ দিয়ে দেখতে দেন না। তাঁরা চান, আপনি তাঁদের চোখ দিয়ে নিজেকে বিচার করুন। এই ফাঁদে পা দেবেন না। আপনার ভালো লাগা, আপনার শখ, আপনার বন্ধুদের সাথে আড্ডা—এগুলো আঁকড়ে ধরুন। সঙ্গীর প্রশংসার জন্য অপেক্ষা না করে, আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে বলুন, “আমি যথেষ্ট, আমি মূল্যবান।”
৫. ‘মি-টাইম’ বা একান্ত সময় (Dealing with Narcissist)
সংসারের বাইরেও আপনার একটি জগত থাকা জরুরি। গান শোনা, বই পড়া বা মেডিটেশন—দিনে অন্তত ৩০ মিনিট এমন কিছু করুন যা একান্তই আপনার। এই সময়টুকু আপনাকে রিচার্জ করবে এবং সঙ্গীর নেতিবাচক ভাইব থেকে ডিটক্স করতে সাহায্য করবে।
সাম্প্রতিক গবেষণা কী বলছে? (Dealing with Narcissist)
Journal of Personality and Social Psychology-তে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নার্সিসিজম আসলে একটি স্পেকট্রাম বা বর্ণালী। সব আত্মকেন্দ্রিক মানুষই মানসিকভাবে অসুস্থ নন। গবেষকরা বলছেন, সঙ্গীর এই আচরণের পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে, যদি নিজের প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করা যায় (যাকে বলা হয় ‘Cognitive Reframing’), তবে সম্পর্কের জটিলতা প্রায় ৪০% কমিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ, তিনি বদলাবেন না, কিন্তু তাঁর আচরণ আপনাকে আর আগের মতো কষ্ট দেবে না।
পরিশেষে বলি, সম্পর্ক মানে (Dealing with Narcissist)সহাবস্থান, বিসর্জন নয়। যদি দেখেন সব কৌশল প্রয়োগ করার পরেও আপনার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, বা আপনি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছেন, তবে একজন প্রফেশনাল কাউন্সিলর বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে দ্বি ধা করবেন না। কারণ, দিনশেষে আপনার ভালো থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি। সঙ্গী আত্মকেন্দ্রিক হতে পারেন, কিন্তু আপনার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন আপনিই থাকেন।
Most Viewed Posts
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

