নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: এবার থেকে বাড়িতে বা হাসপাতালের বাইরে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে আর চিকিৎসক খুঁজতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে হোমিওপ্যাথি এবং রাজ্য ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির যোগ্য চিকিৎসকরাও মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দিতে পারবেন। এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
বাড়িতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে এতদিন মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র কে দিতে পারবেন, তা নিয়ে নানা জটিলতা ও বিভ্রান্তি ছিল। গত ৭ অক্টোবর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছেন রাজ্যের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রধান নিবন্ধক তথা স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা।
বিজ্ঞপ্তিটি রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলা নিবন্ধক এবং সমস্ত পুরনিগমের পুর কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই নিয়ম যাতে গোটা রাজ্যে কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা নিবন্ধকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কোন চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দিতে পারবেন
পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনী বিধি, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট নিয়মে ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি এবং হোমিওপ্যাথিতে অন্তত একটি স্বীকৃত ডিগ্রি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই ‘অন্তত একটি ডিগ্রি’ বলতে ঠিক কোন যোগ্যতাকে বোঝানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এই শব্দবন্ধকে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে যে আইন ও বিধি কার্যকর রয়েছে, সেই আইন ও বিধি অনুযায়ী চিকিৎসকের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু কোনও একটি ডিগ্রি থাকলেই হবে—এমন সরল ব্যাখ্যা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য যে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিবন্ধন এবং আইনত চিকিৎসা করার অধিকার প্রয়োজন, সেগুলিই বিবেচনা করতে হবে।
বাড়িতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কী বদল আসছে
বাড়িতে বা হাসপাতালের বাইরে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে এতদিন যে অস্পষ্টতা ছিল, নতুন নির্দেশিকায় তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, আয়ুর্বেদ বা হোমিওপ্যাথিতে স্বীকৃত যোগ্যতা থাকা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নিবন্ধনে বৈধভাবে নথিভুক্ত চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দিতে পারবেন।
তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের আইনত চিকিৎসা করার অধিকার থাকতে হবে। অর্থাৎ, স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি চিকিৎসককে সংশ্লিষ্ট রাজ্য নিবন্ধনে বৈধভাবে নথিভুক্ত থাকতে হবে।
এই ব্যবস্থার ফলে বাড়িতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে নির্দেশিকায় উঠে এসেছে।
১৯৬৯ সালের আইনের ধারাতেও রয়েছে উল্লেখ
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ১৯৬৯-এর ১০ নম্বর ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারার ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা চিকিৎসকদের মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আয়ুর্বেদ বা হোমিওপ্যাথিতে স্বীকৃত যোগ্যতা থাকা, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নিবন্ধনে বৈধভাবে নথিভুক্ত থাকা এবং আইনত চিকিৎসা করার অধিকার থাকা চিকিৎসকেরাই সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীনে মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দিতে পারবেন।
ফলে নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল, কোন যোগ্যতার চিকিৎসক এই শংসাপত্র দিতে পারবেন, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা।
গোটা রাজ্যে একই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই বিষয়ে যেন জেলা ও পুরসভাভেদে আলাদা ব্যাখ্যা তৈরি না হয়। সেই কারণে রাজ্যের সমস্ত জেলা নিবন্ধক এবং পুরনিগমগুলির পুর কমিশনারদের কাছে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির ভিত্তিতে চিকিৎসকদের যোগ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বৈধ যোগ্যতা ও নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফলে বাড়িতে বা হাসপাতালের বাইরে মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর কারণের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন ও জটিলতা ছিল, নতুন নির্দেশিকায় তার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

