Dharmendra Pradhan Resignation: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এটি কি শুধুই জনরোষের ফল, নাকি আন্দোলন থামিয়ে বিরোধীদের বড় রাজনৈতিক অস্ত্র ভোঁতা করার সুপরিকল্পিত কৌশল—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুধু দিল্লির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে যায় পাটনা, কলকাতা, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক শহরে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠিত এই আন্দোলনে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণ কেন্দ্রের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দাবি করেছে, এটি তাদের নৈতিক জয়। বিরোধী দলগুলিও একই সুরে জানিয়েছে, জনরোষের মুখে নতি স্বীকার করতেই বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি শাসনামলে কৃষক আন্দোলন কিংবা সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময়ও সরকার কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সরায়নি। দেশ-বিদেশে প্রবল চাপের মুখেও সরকার অনড় ছিল। তাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে শুধুমাত্র আন্দোলনের ফল হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
ভোটের অঙ্কেই কি এই সিদ্ধান্ত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সামনে এখন দুটি বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য—উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন। সেই কারণেই তরুণ ভোটারদের ক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দিতে চায়নি কেন্দ্র।
উত্তরপ্রদেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় ১২ লক্ষেরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন। আগামী বছরের শুরুতেই ৪০৩টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৩১২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যু যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকত, তাহলে তরুণ ভোটারদের একাংশের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারত, যার প্রভাব পড়তে পারত আসন্ন নির্বাচনে।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা
যন্তর মন্তরের আন্দোলনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, কোনও বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি ডাক ছাড়াই শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বহু অভিভাবকও। একইসঙ্গে পাটনা, কলকাতা, মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদের ছবি সামনে আসে।
এই পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্র আগেভাগেই সম্ভাব্য রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কৃষক আন্দোলন এবং সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
বিরোধীদের ইস্যু ভোঁতা করার কৌশল?
সরকার ইতিমধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের একাধিক দাবিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পর এখন সরকার দাবি করতে পারবে যে অভিযোগগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে বিরোধীদের হাতে থাকা অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যুর ধার অনেকটাই কমে যেতে পারে। প্রতি বছর ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী নিট-ইউজি পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা তরুণ সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষোভ যাতে আগামী নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে প্রভাব না ফেলে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত এক ঢিলে দুই পাখি মারল বিজেপি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ যেমন একদিকে আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ করল, তেমনই নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের গতিও অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়ে দেয় যে তারা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করছে। ফলে যে আন্দোলন দেশজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, তা কার্যত থেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে শুধু আন্দোলনই সীমিত হল না, বিরোধী দলগুলির হাত থেকেও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু কার্যত কেড়ে নেওয়া হল। এতদিন প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে কেন্দ্রকে চাপে রাখার যে সুযোগ বিরোধীরা পাচ্ছিল, তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ বিরোধীদের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ আন্দোলন যখন থেমে গেল এবং প্রধান দাবিগুলিও পূরণ হয়ে গেল, তখন সরকারকে ঘিরে আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্রই ভোঁতা হয়ে পড়ল।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছিল অত্যন্ত হিসেবি এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ভালো বা মন্দ দিক নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, তবে নির্বাচনের আগে আন্দোলনের তীব্রতা কমিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে একটি অত্যন্ত কৌশলী রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছেন তাঁরা।
#DharmendraPradhan #DharmendraPradhanResignation #BJP #BJPStrategy #IndianPolitics #PoliticalAnalysis #NEETProtest #StudentProtest #OppositionPolitics #BreakingNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

