নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা পড়ুয়াদের আন্দোলনের মাঝেই এল বড় খবর। শনিবার, ২৫ জুলাই, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে পড়ুয়াদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তাঁর পদত্যাগ। সেই দাবিতেই অনড় ছিলেন আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এই একটি দাবিতে কোনও সমঝোতায় যেতে রাজি হননি তাঁরা। এর মধ্যেই তৃতীয় দফার বৈঠকের আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসায় আন্দোলনে বড়সড় মোড় এসেছে। তাঁর পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
যে দাবিতে অনড় ছিল পড়ুয়াদের আন্দোলন, অবশেষে সেই দাবিতেই বড় সিদ্ধান্ত
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের দাবিও সামনে আসে।
তবে আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অ-সমঝোতাযোগ্য দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। গতকাল কেন্দ্রের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বৈঠক হলেও এই দাবিতে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। কেন্দ্রের তরফে একাধিক বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে জট কাটেনি।
এরপর শনিবার ফের তৃতীয় দফার আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। ফলে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হল বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
একাধিক বৈঠকেও মেলেনি সমাধান, পদত্যাগের দাবিতে এক ইঞ্চিও নড়েনি আন্দোলন
কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র তাঁদের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে শনিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যেই সামনে এল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—শুধু অন্যান্য দাবি মেনে নিলেই হবে না, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও মানতে হবে। এই অবস্থানেই তাঁরা অনড় ছিলেন। ফলে আলোচনা চললেও আন্দোলন থামেনি।
গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতাতেও পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। আন্দোলনের মূল দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সমর্থন তৈরি হয়। এরই মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
তৃতীয় বৈঠকের আগেই পদত্যাগ, আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন
শনিবার কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে যে দাবিকে ঘিরে এতদিন ধরে আলোচনা থমকে ছিল, সেই দাবির ক্ষেত্রে এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেল।
আন্দোলনকারীদের তরফে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। এখন সেই পদত্যাগের পর আন্দোলনের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তবে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই দাবিগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
অর্থাৎ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আন্দোলনের একটি বড় দাবিকে পূরণ করলেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে বৃহত্তর প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও সামনে আসেনি। তাই আন্দোলনের পরবর্তী দিক কোন পথে যায়, এখন সেদিকেই নজর।
পড়ুয়াদের আন্দোলনে বড় রাজনৈতিক বার্তা
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশজুড়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। একদিকে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন, অন্যদিকে সরকারও একাধিক দফায় আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিঃসন্দেহে আন্দোলনের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। সেই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্ন।
এখন পদত্যাগের পর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব কে পান, সেদিকেও নজর থাকবে। পাশাপাশি পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, প্রশ্নফাঁস রোধ করা এবং পড়ুয়াদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশজুড়ে চলা পড়ুয়াদের আন্দোলনে এক বড় মোড়। যে দাবিতে আন্দোলনকারীরা এতদিন অনড় ছিলেন, সেই দাবিই শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এর পর কি আন্দোলন থামবে, নাকি বাকি দাবিগুলি পূরণের জন্য নতুন করে আন্দোলনের পথেই হাঁটবেন পড়ুয়ারা?
#DharmendraPradhan #DharmendraPradhanResignation #EducationMinister #StudentProtest #NEETProtest #EducationNews #IndiaNews #StudentMovement #EducationReform

