Dhurandhar The Revenge Sequel Success Story: মাত্র তিন মাসে তৈরি সিকুয়েল, মুক্তির তিন দিনেই তিনশো কোটির রেকর্ড—ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ দেখিয়ে দিল কীভাবে শক্তিশালী গল্প, অ্যাকশন ও আবেগ মিলিয়ে দর্শকের মন জয় করা যায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: হল থেকে বেরিয়েই মুম্বাইতে প্রথম দিনের প্রথম শো দেখে এক দর্শক বলছেন—’পাঁচের মধ্যে পাঁচ।’ কেউ বলছেন, ‘একেবারে পয়সা উসুল, লাইট না জ্বালানো পর্যন্ত ওঠার প্রশ্নই নেই।’ আবার আরেকজন দর্শক জানাচ্ছেন, তাঁর মা ছবিটি দেখে এতটাই মুগ্ধ যে বন্ধুদের নিয়ে আবার সিনেমা হলে যেতে চাইছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া খুব কম সিনেমার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। আর সেই কারণেই ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’ এখন শুধু একটি ছবি নয়, একপ্রকার সাংস্কৃতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মাত্র তিন দিনেই সারা বিশ্ব জুড়ে তিনশো কোটি টাকার ব্যবসা—এই সাফল্য শুধু সংখ্যার নয়, এটি দর্শকের ভালোবাসারও প্রমাণ।
তিন মাসেই সিকুয়েলের ম্যাজিক
বলিউডের ইতিহাসে এমন নজির প্রায় নেই বললেই চলে। মাত্র তিন মাস আগে মুক্তি পেয়েছিল ধুরন্ধরের প্রথম অংশ। ডিসেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া সেই ছবিটি শুরু থেকেই দর্শকদের মন জয় করেছিল। কিন্তু সাধারণত একটি ছবির সিকুয়েল তৈরি হতে যেখানে বছর লেগে যায়, সেখানে ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ মুক্তি পেল মার্চ মাসেই—মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে।
এই দ্রুততার পেছনে রয়েছে দর্শকদের তীব্র আগ্রহ। প্রথম ছবির শেষে গল্প এমনভাবে শেষ হয়েছিল যে দর্শকদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়—এর পর কী? সেই কৌতূহলই নির্মাতাদের দ্রুত সিকুয়েল তৈরি করতে উৎসাহিত করে। আর সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দিয়েছে ছবির বক্স অফিস সাফল্য।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এত কম সময়ে তৈরি হওয়া সিকুয়েল সাধারণত মানের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। গল্প, অভিনয়, অ্যাকশন—সবকিছুতেই ছবিটি প্রথম অংশকে ছাপিয়ে গেছে বলেই মনে করছেন বহু দর্শক।
প্রথম দিনেই শত কোটির ইতিহাস (Dhurandhar The Revenge Sequel Success Story)
এই ছবির মাধ্যমে রণবীর সিং তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন। এটি তাঁর প্রথম ছবি যেখানে মুক্তির প্রথম দিনেই একশো কোটির বেশি আয় হয়েছে। এর আগে তাঁর বহু সফল ছবি থাকলেও, এমন রেকর্ড তিনি কখনও করেননি।
প্রথম ধুরন্ধর ছবিটি শুরু করেছিল আটাশ কোটি দিয়ে। সেই তুলনায় ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ প্রথম দিনেই সেই সংখ্যাকে প্রায় চার গুণ ছাড়িয়ে যায়। এই উত্থান শুধু একটি ছবির নয়, এটি একটি ব্র্যান্ডের শক্তিরও প্রতিফলন।
রণবীরের অভিনয় এই ছবিতে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর চরিত্রের গভীরতা, আবেগ, এবং অ্যাকশন দৃশ্যে পারফরম্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। অনেকেই বলছেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।
ছবির জনপ্রিয়তা শুধু একটি ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুক্তির তৃতীয় দিনে তেলেগু এবং তামিল ভাষায় ছবিটি মুক্তি পায়। যদিও ডাবিং এবং সার্টিফিকেশনের কারণে কিছু জায়গায় দেরিতে শো শুরু হয়েছে, তবুও দর্শকদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
এই বহুভাষিক মুক্তি ছবির ব্যবসাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতীয় দর্শকদের কাছেও ছবিটি সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নির্মাতারা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতে এই সংস্করণগুলির মাধ্যমে ছবির আয় আরও বাড়বে।
এক ঘণ্টায় লক্ষাধিক টিকিট বিক্রি (Dhurandhar The Revenge Sequel Success Story)
ছবির মুক্তির আগেই শুরু হয়েছিল উন্মাদনা। বুকিং প্ল্যাটফর্মে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এক লাখ নয় হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সংখ্যা শুধু বড় নয়, এটি একটি নতুন রেকর্ড। এর আগে বহু বড় ছবি মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু এত দ্রুত টিকিট বিক্রির ঘটনা খুবই বিরল। এই ঘটনা প্রমাণ করে, দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কতটা আগ্রহ ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে ছবির প্রচার কৌশল। ট্রেলার, গান, এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার—সবকিছু মিলিয়ে একটি বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যা মুক্তির দিন পূর্ণতা পায়।
বেশিরভাগ সমালোচকরা ছবির অ্যাকশন দৃশ্য, রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় এবং দেশাত্মবোধক আবহকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন। ছবিটির দৈর্ঘ্য কিছুটা বেশি হলেও ক্লাইম্যাক্স অংশটি দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে অ্যাকশন এবং অ্যাকশন-ড্রামার মিশ্রণ, সঙ্গে বিষয়বস্তুর শক্তিশালী উপস্থাপন—এই সমস্ত উপাদানই ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আর এই কারণেই বক্স অফিসে ছবিটির সাফল্য এবং জনপ্রিয়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে।
ছবির মূল গল্প কী? (Dhurandhar The Revenge Sequel Success Story)
গল্পটি শুরু হয় ২০০০ সালে, যখন ২১ বছর বয়সী সেনাপ্রার্থী জসকিরাত সিং রাঙ্গি (রণবীর সিং) বিধায়ক সুখবিন্দর সিং ও তার ১১ জন পরিবারের সদস্যকে হত্যা করে, কারণ তারা তার বাবাকে মেরেছিল এবং তার বোনেদের ধর্ষণ করেছিল। জসকিরাত জেলে যায় এবং দুই বছর পর অজয় সানয়াল (আর মাধবন) তাকে অপারেশন ধুরন্ধরের জন্য নিয়োগ করেন।
এরপর গল্প এগোয় ২০০৯ সালে — রণবীর সিংয়ের চরিত্র হামজা আলি মাজারি করাচির লিয়ারি আন্ডারওয়ার্ল্ড দখল করে নেয় রেহমান দাকাইতের মৃত্যুর পর। তার লক্ষ্য ছিল মেজর ইকবাল ও রহস্যময় “বড়ে সাহেব”-এর সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। পরিচালক আদিত্য ধর এই পর্বে গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেন — এটি শুধু দেশপ্রেমী গুপ্তচর অ্যাকশনের গল্প নয়, বরং জসকিরাতের একটি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের গভীর ও আবেগময় কাহিনীতে পরিণত হয়।
সমালোচকদের মতামত
অ্যাকশন সিকোয়েন্স আজকাল প্রায় সব বড় বাজেটের ছবিতেই দেখা যায়, কিন্তু এই ছবিতে সেই উপস্থাপন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সমালোচকদের মতে, হাই ভোল্টেজ স্টান্ট, বিস্ফোরণময় দৃশ্য এবং শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড সঙ্গীত—সবকিছু মিলিয়ে পুরো ছবিটিকেই এক টানটান উত্তেজনার আবহে বেঁধে রাখা হয়েছে। দর্শক এক মুহূর্তের জন্যও সেই উত্তেজনা থেকে বিচ্ছিন্ন হন না।
তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, প্রথম পর্বটি গল্পের দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। দ্বিতীয় পর্বে কিছু জায়গায় পরিচালক মূল কাহিনী থেকে খানিকটা সরে গিয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবুও, এই সিকুয়েলটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে আলাদা হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানের স্কেলে তৈরি ব্যাকস্টোরি, প্রতিশোধের গল্প এবং প্রতিটি অ্যাকশন দৃশ্যে এমন আবেগ জড়ানো হয়েছে যে দর্শক সহজেই গল্পের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছেন। এই সংযোগই ছবিটিকে দীর্ঘ সময়ের পরও ক্লান্তিকর হতে দেয়নি।
বিশেষ করে ছবির শেষের দিকটি আবার নতুন করে এনার্জি ফিরিয়ে আনে। ক্লাইম্যাক্সে এসে গল্প এমনভাবে মোড় নেয় যে দর্শক আবারও উত্তেজনার শিখরে পৌঁছে যান। সেখানে চমক, সাসপেন্স এবং আবেগ একসঙ্গে মিশে এক শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করে।
ছবিতে ভিএফএক্স-এর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য। অনেক সমালোচক এই প্রযুক্তিগত দিকটির প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড সঙ্গীত ছবির আবহ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা প্রতিটি দৃশ্যকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে ছবিটির উদ্বোধন অত্যন্ত সফল। যদিও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকের মতে, ছবিটি প্রথম পর্বের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে, কিছু জনপ্রিয় বিনোদনভিত্তিক মাধ্যম ছবিটিকে রোমাঞ্চকর বলে উল্লেখ করেছে এবং রণবীর সিংয়ের অভিনয়কে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলে অভিহিত করেছে। আবার আরেকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছবির টুইস্টগুলি ধারাবাহিকভাবে দর্শকদের চমকে দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এত কম সময়ের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি সিকুয়েল যে এতটা জনপ্রিয়তা পেতে পারে এবং দর্শকদের এমন টানটান রোমাঞ্চ উপহার দিতে পারে—এটি সত্যিই বিরল। আর সেই কারণেই এই ছবির সাফল্যকে আলাদা করে প্রশংসা করতেই হয়।
ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ শুধু একটি সফল ছবি নয়, এটি বলিউডের জন্য একটি নতুন দিশা। এত কম সময়ে সিকুয়েল তৈরি করে, এবং সেই সিকুয়েলকে সুপারহিট করে তোলা—এটি প্রমাণ করে যে দর্শকের চাহিদা বুঝতে পারলে অসম্ভব কিছু নয়।
এই ছবির সাফল্য ভবিষ্যতে আরও নির্মাতাদের সাহস জোগাবে দ্রুত সিকুয়েল (Dhurandhar The Revenge Sequel Success Story) তৈরি করতে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে—মান ধরে রাখা। সব মিলিয়ে, ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি এক নতুন যুগের সূচনা। দর্শকের ভালোবাসা আর বক্স অফিসের ঝড়—এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হয়েছে এই ইতিহাস।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

