DIY Hair Mask for Damaged Hair হলো কেমিকেলে ড্যামেজ হওয়া চুলের সেরা ঘরোয়া সমাধান। ডিম ও মেয়োনিজ দিয়ে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করে চুল ফিরিয়ে আনুন রেশমি উজ্জ্বলতা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চুলটা একসময় ছিল মসৃণ, উজ্জ্বল, হাত বোলালেই সিল্কের মতো নরম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্ট্রেটনিং আর নানা কেমিক্যাল ব্যবহারের পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আজ যেন নিজেকেই চিনতে কষ্ট হয়। চুল রুক্ষ, আগা ফাটা, আচড়ালেই ভেঙে পড়ছে গোছা গোছা। এই পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক নয়, চুলের ভেতরের প্রাণশক্তিও যেন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
অনেকেই ভাবেন, আবার আগের মতো সুন্দর চুল পেতে গেলে দামী পার্লার ট্রিটমেন্টই ভরসা। কিন্তু সত্যি কি তাই? আমাদের রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু উপাদান, যা নষ্ট হয়ে যাওয়া চুলে ফিরিয়ে দিতে পারে পুষ্টি আর কোমলতা। ডিম আর মেয়োনিজের সহজ মিশ্রণ কীভাবে চুলের হারানো প্রোটিন ফিরিয়ে এনে তাকে আবার রেশমি করে তুলতে পারে, সেই গল্পই জানাব আজ। এই প্রতিবেদন পড়ে আপনি জানতে পারবেন কেন চুল ড্যামেজ হয়, আর কীভাবে ঘরেই শুরু করতে পারেন কার্যকর প্রোটিন পরিচর্যা।
আরও পড়ুন : দামি হোক বা সাধারণ—এই ৫টি ট্রিক জানলেই সুগন্ধির ঘ্রাণ টিকবে অনেকক্ষণ
কেন কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে চুল ড্যামেজ হয়?
স্ট্রেটনিং বা রিবন্ডিং-এর সময় চুলের প্রাকৃতিক গঠন ভেঙে নতুনভাবে সেট করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় হাই-হিট আয়রন ও শক্তিশালী কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা চুলের কিউটিকল স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে চুলের ভেতরের প্রোটিন কমে যায়, আগা ফেটে যায়, চুল ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়ে, স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের ৯০% গঠনই প্রোটিন-নির্ভর। তাই প্রোটিন লস হলে চুল দুর্বল হবেই।
ডিম ও মেয়োনিজ কেন চুলের জন্য এত উপকারী?
রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের ফলে চুলের কেরাটিন (Keratin) প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। এই মাস্কটি সেই ঘাটতি পূরণ করে। ডিম হলো প্রোটিনের শক্তিশালী উৎস। এতে রয়েছে বায়োটিন, ভিটামিন A, D ও E—যা চুলের গোড়া মজবুত করে। অন্যদিকে মেয়োনিজে থাকে ডিমের কুসুম ও তেল, যা গভীর কন্ডিশনিং করে চুলকে নরম করে তোলে। ডিমের সাদা অংশ স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখে, আর কুসুম চুলে পুষ্টি জোগায়। মেয়োনিজের ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের শুষ্কতা কমায় এবং ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে আছে প্রচুর প্রোটিন ও বায়োটিন, যা চুলের ফলিকলকে মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। মেয়োনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের গভীরে ময়েশ্চার লক করে চুলকে করে তোলে রেশমি ও নরম।
একটি পাত্রে ডিম ও মেয়োনিজ খুব ভালো করে ফেটিয়ে নিন যতক্ষণ না এটি একটি মসৃণ ক্রিমে পরিণত হচ্ছে। এরপর এতে মধু ও তেল মিশিয়ে নিন। চুল কয়েক ভাগে ভাগ করে নিন। ব্রাশ বা হাতের সাহায্যে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে চুলের আগায় বেশি করে লাগান, কারণ সেখানেই ড্যামেজ বেশি থাকে। মাস্কটি লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। চুল শুকিয়ে শক্ত হওয়া পর্যন্ত রাখা যাবে না। প্রথমে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন চুল। কখনোই গরম জল দেবেন না চুলে। এরপর একটি সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
সপ্তাহে মাত্র একদিন এই প্রোটিন ট্রিটমেন্টটি করুন। অতিরিক্ত প্রোটিন ব্যবহারের ফলে আবার চুল শক্ত হয়ে যেতে পারে। ডিমের গন্ধ দূর করতে মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। কেমিক্যাল ড্যামেজ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ট্রিটমেন্টের পর চুলে সরাসরি রোদ বা হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অনেকে একবার ব্যবহার করেই ম্যাজিকাল ফল আশা করেন। কিন্তু মনে রাখবেন—চুলের ক্ষতি একদিনে হয়নি, সারতেও সময় লাগবে। সাধারণত ৩–৪ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে শাইন ও সফটনেস ফিরে আসে।
স্যালন ট্রিটমেন্ট দ্রুত ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের ক্ষতি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক প্রোটিন মাস্ক ধীরে কাজ করলেও চুলের স্বাস্থ্যের ভিত মজবুত করে। এটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং নিয়মিত ব্যবহারযোগ্য। চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, আত্মবিশ্বাসের প্রতীকও। তাই কেমিক্যালের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নিন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

