হাইওয়েতে শুধু স্পিড নয়, এবার খুঁজুন গল্প। জঙ্গলমহলের গভীরে ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর থেকে ঝাড়খণ্ডের ‘কুইন অফ হিলস’। চেনা ছক ভেঙে বেরিয়ে পড়ুন এই ৭টি ঠিকানায়। রইল রুট ম্যাপ, রাস্তার হালহকিকত এবং থাকার খুঁটিনাটি সহ Easy bike routes-এর মেগা গাইড।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বাইক কেনা মানেই কি শুধু অফিস আর বাড়ি? নাকি মাঝে মাঝে দীঘা বা বকখালি গিয়ে সমুদ্রে পা ডুবিয়ে আসা? সত্যি করে বলুন তো, এতে কি আর মনের সেই ‘ওয়ান্ডারলাস্ট’ (Wanderlust) মেটে?
একজন বাইকারের আসল পরিচয় তার গন্তব্যে নয়, তার যাত্রাপথে। দীঘা বা শান্তিনিকেতনের রাস্তা এখন এতই চেনা যে চোখ বন্ধ করেও চালানো যায়। কিন্তু আপনি যদি সত্যিকারের ‘রাইডার’ হতে চান, তবে আপনাকে পিচ ঢালা রাস্তার মোহ মায়া কাটিয়ে একটু অন্য পথে হাঁটতে হবে। যেখানে গুগল ম্যাপ মাঝে মাঝে থমকে যায়, যেখানে ধাবার খাবারে মাটির গন্ধ থাকে, আর যেখানে বাঁক ঘুরলেই অপেক্ষা করে নতুন কোনো বিস্ময়।
আজ আমরা আপনাকে এমন ৭টি রুটের সন্ধান দেব, যা হয়তো আপনার জিপিএস-এ সেভ করা নেই। এই জায়গাগুলো কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, কিন্তু এখানকার পরিবেশ আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল থেকে পুরুলিয়ার পাহাড়, কিংবা ঝাড়খণ্ডের আদিম অরণ্য।
নতুন বাইকার বন্ধুরা, ভয় পাবেন না। এই রুটগুলো ‘আনকমন’ হলেও ‘দুর্গম’ নয়। বরং হাইওয়েতে বাইক চালানোর হাত পাকাতে এবং পাহাড়ি রাস্তায় কর্নারিং (Cornering) শিখতে এই রুটগুলোই সেরা স্কুল। হেলমেটটা ঠিক করে নিন, গ্লাভসটা টাইট করুন। কারণ আজ আমরা যাচ্ছি চেনা গণ্ডির বাইরে।
আসুন, ইঞ্জিন স্টার্ট করি।

১. জয়পুর জঙ্গল ও ঝিলিমিলি: ব্রিটিশ এয়ারপোর্টের খোঁজে
দূরত্ব: কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ – ২০০ কিমি (একদিকের)। সময়: ৫ ঘণ্টা। হাইওয়ে: NH-19 (Durgapur Expressway) এবং অহল্যাবাঈ রোড।
শুরুতেই এমন একটা রুট, যা ইতিহাস এবং রোমাঞ্চে মোড়া। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল মানেই লাল মাটি আর শালের জঙ্গল। আর এই জঙ্গলের ভেতরেই লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা (ডানকুনি) -> চণ্ডীতলা/মশাট -> আরামবাগ -> কামারপুকুর -> কোতুলপুর -> জয়পুর জঙ্গল -> বিষ্ণুপুর বাইপাস -> ঝিলিমিলি। (টিপস: বর্ধমান ঘুরে যাওয়ার চেয়ে আরামবাগ হয়ে এই রুটটি অনেক বেশি সোজা বা ‘Direct’। স্টেট হাইওয়ে (SH-2) ধরে সোজা আরামবাগ পৌঁছে, সেখান থেকে কামারপুকুর হয়ে জয়পুর। রাস্তা বেশ ভালো এবং সিঙ্গল লেনে বাইক চালানোর দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। যাওয়ার পথেই কামারপুকুর চটি-তে ব্রেকফাস্ট সেরে নিতে পারেন।)
কেন যাবেন? (বাইকার্স ভিউ) এই রুটের প্রধান আকর্ষণ হলো জয়পুর জঙ্গল। ঘন জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে পিচ ঢালা কালো রাস্তা। সূর্যের আলো শাল গাছের ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে পড়ে রাস্তায়। বাইকের ভাইজর তুলে দিলে জঙ্গলের সোঁদা গন্ধ বুক ভরে নেওয়া যায়।
লুকানো রত্ন: ব্রিটিশ এয়ারফিল্ড জয়পুর জঙ্গলের কাছেই (পিয়ারডোবা সংলগ্ন এলাকায়) রয়েছে ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত এয়ারফিল্ড বা রানওয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ব্যবহৃত হতো। এখন জনমানবহীন, রানওয়ের ফাটলে ঘাস গজিয়েছে। কিন্তু বাইক নিয়ে ওই বিশাল রানওয়ের ওপর দিয়ে চালানোর অনুভূতি—যেন আপনি কোনো হলিউড মুভির হিরো! এটি অফবিট এবং ইনস্টাগ্রামের জন্য সেরা স্পট।
কোথায় থাকবেন? এখানে থাকার সেরা জায়গা ‘বনলতা রিসোর্ট’ (Banalata Resort)। জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে এই বিশাল রিসোর্ট। এখানকার শাক-সবজি, দুধ, মাছ—সব এদের নিজস্ব ফার্মের। এখানে এক রাত কাটিয়ে, এয়ারফিল্ড দেখে পরদিন ভোরে ঝিলিমিলি বা ‘বারো মাইল জঙ্গল’-এর দিকে রাইড করতে পারেন। ঝিলিমিলির রাস্তা দিয়ে রাইড করা মানে সবুজ সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে যাওয়া।

২. গড়পঞ্চকোট (Garpanchkot): পাহাড়ের নিচে কেল্লার ধ্বংসাবশেষ
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ২৬০ কিমি। সময়: ৫.৫ – ৬ ঘণ্টা। হাইওয়ে: NH-19 (Old NH-2) বা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড।
পুরুলিয়া মানেই কি শুধু অযোধ্যা পাহাড়? একদম নয়। নতুন বাইকারদের জন্য গড়পঞ্চকোট হলো পারফেক্ট ডেস্টিনেশন। পাঞ্চেত পাহাড়ের ঠিক নিচে ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> পানাগড় -> দুর্গাপুর -> আসানসোল বাইপাস -> নিয়ামতপুর -> কুলটি -> নাকা চেকপোস্ট -> ঝাড়খণ্ড বর্ডারে ঢুকে বাঁদিকে ‘দিশেরগড় ব্রিজ’ -> সাঁওতালডিহি -> গড়পঞ্চকোট। (টিপস: আসানসোল থেকে দিশেরগড় ব্রিজের ওপর দিয়ে দামোদর নদী পার হওয়ার দৃশ্যটা অসাধারণ। ব্রিজটা বাইকারদের খুব প্রিয়।)
কেন যাবেন? এই রুটটি আপনাকে হাইওয়ে রাইডিং-এর আসল মজা দেবে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে স্পিড তোলার পর, শেষ ৩০ কিলোমিটার আপনি পাবেন গ্রাম্য রাস্তা এবং ছোট পাহাড়ি রাস্তা। গড়পঞ্চকোট পৌঁছে দেখবেন পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন দুর্গের ভাঙাচোরা অংশ। এটি বর্গী আক্রমণের সাক্ষী। বাইক নিয়ে আপনি একদম পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত যেতে পারবেন। সবুজে মোড়া পাঞ্চেত পাহাড় আর নিচে দামোদর নদের জলাধার—বিকেলের আলোয় বাইক থামিয়ে এই দৃশ্য দেখার জন্যই তো এত দূর আসা।
কোথায় থাকবেন? এখানে WBFDCL-এর নেচার রিসোর্ট আছে। এছাড়াও বেশ কিছু প্রাইভেট রিসোর্ট ও ইকো-টুরিজম কটেজ গড়ে উঠেছে। পাহাড়ের দিকে মুখ করা বারান্দায় বসে কফি খাওয়ার মজাই আলাদা।

৩. মাথাবুরু ও ডাউরি খাল (Mathaburu): পুরুলিয়ার ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ৩১০ কিমি। সময়: ৭ ঘণ্টা। হাইওয়ে: NH-19 এবং পুরুলিয়া রোড।
অযোধ্যা পাহাড়ের ভিড় এড়াতে চান? অথচ পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় বাইক হেলাতে (Leaning) চান? চলে আসুন মাথাবুরু।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> দুর্গাপুর -> বাঁকুড়া -> হুড়া -> পুরুলিয়া শহর -> অযোধ্যা হিলটপ যাওয়ার পথে ‘সিরকাবাদ’ হয়ে মাথাবুরু। অথবা, বলরামপুর হয়েও ওঠা যায়। তবে সিরকাবাদের রাস্তাটি বাইকারদের জন্য স্বর্গ। খাড়াই চড়াই এবং হেয়ার পিন বেন্ড (Hairpin Bend) আপনাকে লাদাখের ফিল দেবে।
কেন যাবেন? মাথাবুরুকে বলা হয় পুরুলিয়ার ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’। ক্যাম্পিং করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই। এখানকার ‘ডাউরি খাল’ বা বামনি ফলস-এর অফবিট ভার্সনটি ট্রেকারদের প্রিয়। বাইকার হিসেবে এই রুটটি আপনাকে ‘হিল রাইডিং’-এর প্রথম পাঠ শেখাবে। কীভাবে ক্লাচ কন্ট্রোল করে পাহাড়ের বাঁকে বাইক ঘোরাতে হয়, তা শেখার জন্য মাথাবুরু সেরা। আর এখানে টুরিস্টদের ভিড় নেই বললেই চলে। শুধুই আদিবাসী গ্রাম আর পলাশ ফুলের জঙ্গল।
কোথায় থাকবেন? মাথাবুরুতে ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড আছে। নিজের টেন্ট থাকলে তো কথাই নেই। নাহলে ইকো-ক্যাম্পে থাকতে পারেন। রাতে ক্যাম্পফায়ার, আদিবাসী নাচ আর চিকেন বারবিকিউ—বাইক ট্রিপ সার্থক!

৪. বাংরিপোসি (Bangriposi): হাইওয়ে যেখানে ছবির মতো
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ২২০ কিমি। সময়: ৪.৫ – ৫ ঘণ্টা। হাইওয়ে: NH-16 (Old NH-6) বা বম্বে রোড।
বাংলার বাইরে পা রাখতে চান? ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত বাংরিপোসি হলো সবথেকে সহজ এবং সুন্দর বাইক ডেস্টিনেশন।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> কোলাঘাট -> খড়গপুর -> লোধাশুলি (জঙ্গলমহল) -> ঝাড়গ্রাম ক্রসিং -> জামশোলা বর্ডার -> বাংরিপোসি। (টিপস: খড়গপুরের পর থেকে রাস্তাটি (NH-49) এতই মসৃণ এবং সুন্দর যে মনে হবে ইউরোপের কোনো হাইওয়েতে বাইক চালাচ্ছেন। দুপাশে ঘন জঙ্গল, আর মাঝখান দিয়ে চওড়া রাস্তা।)
কেন যাবেন? নতুন বাইকাররা যারা পাহাড়ি রাস্তায় ভয় পান, কিন্তু সমতলের একঘেয়েমি কাটাতে চান—তাদের জন্য বাংরিপোসি সেরা। এখানে ছোট ছোট টিলা আছে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘ঘাটি’ বলে। এই ঘাটি রাস্তা দিয়ে রাইড করা খুব সহজ এবং মনোরম। পাশে বয়ে গেছে বুড়িবালাম নদী। নদীর চরে বাইক নামিয়ে কিছুক্ষণ অফ-রোডিং প্র্যাকটিস করতে পারেন। কাছেই ঠাকুরানি পাহাড়। বর্ষাকালে বা শীতকালে এই জায়গার রূপ খোলে।
কোথায় থাকবেন? খায়েরি রিসোর্ট (Khairi Resort) এখানকার সেরা থাকার জায়গা। আদিবাসী স্টাইলের কটেজ। ওড়িশা টুরিজমের লজও আছে।

৫. ম্যাকলুস্কিগঞ্জ (McCluskieganj): ঝাড়খণ্ডের এক টুকরো লন্ডন
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ৪৫০ কিমি (একটু লম্বা রুট, কিন্তু সেরা)। সময়: ৯ – ১০ ঘণ্টা (মাঝখানে ব্রেক নিয়ে)। হাইওয়ে: NH-19 এবং রাঁচি রোড।
একটু লম্বা ট্যুরের প্ল্যান করছেন? ২-৩ দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন ‘মিনি লন্ডন’ থেকে। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের এই গ্রামটি যেন সময়ের ক্যাপসুলে বন্দি।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> আসানসোল -> ধানবাদ -> বোকারো -> রামগড় -> রাঁচি রিং রোড -> ম্যাকলুস্কিগঞ্জ। রাঁচি থেকে ম্যাকলুস্কিগঞ্জের রাস্তাটি ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে গেছে। রাস্তার দুপাশে ইউক্যালিপটাস আর শালের সারি।
কেন যাবেন? ম্যাকলুস্কিগঞ্জ মানেই নস্টালজিয়া। এখানে এখনো দাঁড়িয়ে আছে সাহেবদের তৈরি পুরোনো বাংলো, ভাঙা চার্চ আর বেকারির দোকান। বাইক নিয়ে লাল মোরামের রাস্তায় বাংলোগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হবে আপনি কোনো ইংরেজি সিনেমার সেটে আছেন। এটি বাইকারদের জন্য একটি ‘এনডিউরেন্স টেস্ট’ (Endurance Test)। অর্থাৎ আপনি একদিনে কতক্ষণ বাইক চালাতে পারেন, তার পরীক্ষা। জায়গাটি এত শান্ত যে বাইকের ইঞ্জিন বন্ধ করলে নিজের নিশ্বাস শোনা যায়।
কোথায় থাকবেন? গর্ডন গেস্ট হাউস বা পুরোনো কোনো বাংলোকে বর্তমানে হোমস্টে বানানো হয়েছে, সেখানে থাকুন। সাহেবদের আমলের আসবাবপত্র আর ফায়ারপ্লেস আপনাকে মুগ্ধ করবে।

৬. কিরিবুরু ও মেঘাহাতুবুরু: ৭০০ পাহাড়ের দেশ
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ৩৭০ – ৪০০ কিমি। সময়: ৮ – ৯ ঘণ্টা। হাইওয়ে: NH-16 এবং চাইবাসা রোড।
এই রুটটি তাদের জন্য, যারা জঙ্গল ভালোবাসেন। এশিয়ার সবথেকে বড় শাল জঙ্গল—’সারান্ডা ফরেস্ট’-এর বুক চিরে বাইক চালানোর সাহস থাকলে তবেই এই রুটে আসুন।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> খড়গপুর -> জামশোলা -> বহড়াগোড়া -> জামশেদপুর -> চাইবাসা -> ঝিংপানি -> কিরিবুরু। (সতর্কতা: চাইবাসা থেকে কিরিবুরু যাওয়ার রাস্তাটি জঙ্গলের গভীর দিয়ে। রাস্তা কোথাও খুব ভালো, কোথাও লাল মাটির।)
কেন যাবেন? কিরিবুরু এবং মেঘাহাতুবুরুকে বলা হয় ‘Land of 700 Hills’। এখানকার সূর্যাস্ত বা ‘সানসেট পয়েন্ট’ থেকে যা দৃশ্য দেখা যায়, তা ভারতের খুব কম জায়গা থেকেই দেখা সম্ভব। মেঘ পায়ের নিচে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু আসল মজা হলো যাত্রাপথ। সারান্ডা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বাইক চালানোর সময় মনে হবে যেন কোনো সবুজ সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে রাস্তা লাল ধুলোয় ঢাকা। এটি অ্যাডভেঞ্চার লাভারদের জন্য স্বর্গ। তবে এই রুটে একা না যাওয়াই ভালো, গ্রুপে যান।
কোথায় থাকবেন? সেল (SAIL)-এর গেস্ট হাউস আছে, তবে পারমিশন লাগে। মেঘাহাতুবুরুতে কিছু প্রাইভেট হোটেল এবং লজ আছে। খুব লাক্সারি আশা করবেন না, বেসিক সুবিধা পাবেন।

৭. নেতারহাট (Netarhat): ছোটনাগপুরের রানি
দূরত্ব: কলকাতা থেকে ৫৫০+ কিমি। সময়: ১১ – ১২ ঘণ্টা (মাঝখানে রাঁচিতে হল্ট নেওয়া ভালো)। হাইওয়ে: রাঁচি-নেতারহাট রোড।
লিস্টের শেষে সবথেকে বড় ধামাকা। নেতারহাট। যাকে বলা হয় ‘কুইন অফ ছোটনাগপুর’। এটি নতুন বাইকারদের জন্য আল্টিমেট চ্যালেঞ্জ।
যাত্রাপথ ও রুট ম্যাপ (Best Route): কলকাতা -> রাঁচি (রাত্রিযাপন) -> লোহারদাগা -> ঘাগরা -> নেতারহাট। লোহারদাগার পর থেকে আসল মজা শুরু। এখান থেকে নেতারহাট পর্যন্ত রাস্তাটি পাহাড়ি এবং প্রচুর বাঁক বা ‘Hairpin Bends’ আছে।
কেন যাবেন? আপনি যদি লাদাখ বা সিকিম যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তবে নেতারহাট হলো তার প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। এখানকার ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’ থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা এক ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা। পাইন, ওক আর নাসপাতির জঙ্গলে ঘেরা এই হিল স্টেশন। রাঁচি থেকে নেতারহাট যাওয়ার রাস্তার সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মসৃণ রাস্তা সাপের মতো পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে গেছে। বাইক লিন (Lean) করিয়ে চালানোর আনন্দ এখানে ষোল আনা।
কোথায় থাকবেন? ঝাড়খণ্ড টুরিজমের ‘প্রভাত বিহার’ বা ‘হোটেল প্রভাত’। এখান থেকে সূর্যোদয় সবথেকে ভালো দেখা যায়। এছাড়াও এখন অনেক টেন্ট সিটি এবং ক্যাম্পিং সাইট হয়েছে।
বাইক রাইডের আগে চেক-লিস্ট (Safety First)
এই রুটগুলো আনকমন, তাই এখানে সবসময় মেকানিক বা সাহায্যের লোক নাও পেতে পারেন। তাই বেরোনোর আগে এই কাজগুলো মাস্ট:
১. বাইক সার্ভিসিং: লম্বা ট্রিপে যাওয়ার অন্তত ৩-৪ দিন আগে বাইক সার্ভিস করান। ক্লাচ প্লেট, ব্রেক প্যাড, চেইন লুব্রিকেশন এবং ইঞ্জিন অয়েল চেক করুন।
২. পাংচার কিট: টিউবলেস টায়ার হলেও সাথে পাংচার কিট এবং পোর্টেবল এয়ার পাম্প রাখা বাধ্যতামূলক। জঙ্গলমহল বা কিরিবুরুর রাস্তায় অনেক দূর পর্যন্ত কোনো দোকান নেই।
৩. অফলাইন ম্যাপ: ঝাড়খণ্ড বা জঙ্গলমহলের অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক থাকে না। তাই আগে থেকেই গুগল ম্যাপে রুটটি ডাউনলোড করে রাখুন।
৪. ফার্স্ট এইড: সাধারণ ব্যান্ডেজ, ডেটল, পেইন কিলার স্প্রে এবং ওআরএস (ORS) সাথে রাখুন।
৫. গ্রুপ রাইডিং: এই রুটগুলোতে একা না গিয়ে অন্তত ২-৩টি বাইকের গ্রুপে যাওয়া সবথেকে নিরাপদ। এতে সাহস বাড়ে এবং বিপদে সাহায্য পাওয়া যায়।
৬. ফুয়েল প্ল্যানিং: হাইওয়েতে পেট্রোল পাম্প পেলেও, জঙ্গল বা পাহাড়ি এলাকায় ঢোকার আগেই ট্যাঙ্ক ফুল (Tank Full) করে নেবেন।
চাকা ঘুরুক অজানার পথে
বাইক শুধু একটি মেশিন নয়, এটি স্বাধীনতার প্রতীক। এই ৭টি রুট আপনাকে সেই স্বাধীনতার স্বাদ দেবে। দীঘা বা পুরীর ভিড়ে না হারিয়ে, এবার ছুটিতে বাইকের হ্যান্ডেল ঘোরান এই অফবিট পথের দিকে। লাল মাটির রাস্তা, জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর পাহাড়ের হাতছানি—সব মিলিয়ে আপনার রাইডিং ডায়েরিতে যুক্ত হোক কিছু নতুন গল্প।
শুধু মনে রাখবেন—গন্তব্যে পৌঁছানোটা লক্ষ্য নয়, পথটাকে উপভোগ করাটাই আসল। হেলমেট পরুন, সেফ রাইড করুন।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

