Excessive Mobile Scrolling: রাত জেগে মোবাইল স্ক্রল করা এখন সব বয়সের মানুষের নিত্য অভ্যাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই দীর্ঘক্ষণ পর্দায় চোখ রাখার ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাত বারোটা পেরিয়ে গেছে। বাড়ির সব আলো নিভে গেছে, শুধু একটি নীলচে আলো জ্বলছে অন্ধকার ঘরে। কিশোর ছেলে বিছানায় শুয়ে আঙুল চালাচ্ছে মোবাইলের পর্দায়। পাশের ঘরে তার বাবা, যিনি সারাদিন অফিসের কাজে ক্লান্ত, তিনিও শোবার আগে “আর পাঁচ মিনিট” বলে স্ক্রল করতে করতে আধঘণ্টা পার করে ফেলেছেন। এমনকি দাদু-দিদারাও এখন নাতির পাঠানো ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যায়, টেরই পান না।
আজকের দিনে প্রজন্মভেদে কোনো তফাৎ নেই—তরুণ, মধ্যবয়স্ক, এমনকি বৃদ্ধ—সকলেই যেন মোবাইলের নেশায় ডুবে। দিনের শেষে বিশ্রাম নেওয়ার কথা থাকলেও, ঘুমোতে যাওয়ার আগে নির্ঘণ্টের পর নির্ঘণ্ট ধরে চলছে স্ক্রল, ভিডিও দেখা, খবর পড়া, অজস্র তথ্যের ভিড়। অন্ধকার ঘরে সেই ছোট্ট পর্দার নীল আলো যেন পুরো পৃথিবীটাকেই হাতে এনে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই দীর্ঘক্ষণ মোবাইল দেখা কি সত্যিই নিরাপদ? মানুষের মস্তিষ্ক কি এতটা চাপ সহ্য করতে পারে? আমরা যখন ভাবছি একটু বিনোদন নিচ্ছি, তখন সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘসময় ধরে পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা, বিশেষ করে রাতে, মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দিচ্ছে। আর ঘুমের ব্যাঘাতই ভবিষ্যতে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মোবাইল বা অন্যান্য পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো দিনের আলোর মতো কাজ করে। অন্ধকার ঘরে বসে কেউ যখন দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রল করেন, তখন চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্কে এমন সংকেত যায় যে এখনো দিন চলছে। ফলে ঘুমের হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় এবং স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হয়। এর ফলে ঘুমের গভীর স্তর ঠিকমতো সম্পূর্ণ হয় না। বিশেষজ্ঞের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের অন্তত আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, যাতে গভীর ও হালকা ঘুমের একাধিক চক্র সম্পূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসক ডা: অংশুমান মুখোপাধ্যায় জানান, কয়েকদিন ঘুম কম হলেও তার কিছু প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিশেষ করে চল্লিশের পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের অভাবের প্রভাব বেশি দেখা যায়।
ঘুম কম হলে ডিমনেশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। খিঁচুনি আসতে পারে। স্মৃতিভ্রংশ মানেই শুধু নাম ভুলে যাওয়া নয়। বিশেষজ্ঞ উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি বহু বছর ধরে রান্না করে আসেন, হঠাৎ করে সেই পরিচিত খাবারের স্বাদ বদলে যায় বা ঠিকভাবে বানাতে না পারেন, সেটিও একটি লক্ষণ হতে পারে। আবার পরিচিত জায়গায় যাওয়ার রাস্তা ভুলে যাওয়া, হিসাব করতে অসুবিধা হওয়া বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন—এসবও সতর্ক সংকেত। পঞ্চাশের পর নতুন করে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। মাসে তিনবারের বেশি মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে দীর্ঘসময় স্ক্রল করার প্রবণতা বেশি। স্থির হয়ে বসে থাকা বা একঘেয়েমি সহ্য করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। চিকিৎসকের মতে, ক্রমাগত উত্তেজক বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে থাকলে মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং মানসিক চাপ বাড়তে পারে। শিশুদের খুব অল্প বয়সে পর্দার ব্যবহার বাড়লে আচরণগত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
খিঁচুনি দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে মুখের লালা বাইরে বেরিয়ে আসে। সাধারণত দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে খিঁচুনি থেমে যায়। এর বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য জরুরি। ফল, শাকসবজি, বাদাম ও পরিমিত শস্যভিত্তিক খাদ্য উপকারী বলে বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চর্চা—যেমন বই পড়া বা ধাঁধা সমাধান—মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
ডা: অংশুমান মুখোপাধ্যায় আরো জানিয়েছেন যে, ঘুমই মস্তিষ্কের প্রধান ওষুধ। প্রতিদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীর চর্চা, পর্যাপ্ত জল খেলে, সীমিত সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। অতিরিক্ত স্ক্রলিং মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে। ভবিষ্যতে তার প্রভাবগুলো গুরুতর হতে পারে। তাই এই বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

