Foreign Delegates Visit West Bengal Election: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের চমক! শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের বুথ ঘুরে দেখে জর্জিয়ার প্রতিনিধি কী বললেন? জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: চারদিকে এখন ভোটের হাওয়া। ভারতের নির্বাচন মানেই গণতন্ত্রের এক সুবিশাল উৎসব। আর সেই উৎসব যদি হয় পশ্চিমবঙ্গে, তবে তার উন্মাদনা ও উত্তাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ, ২৩শে এপ্রিল সারা দেশের পাশাপাশি এই রাজ্যেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Assembly Elections 2026) সম্পন্ন হলো। তবে এবারের ছবিটা একটু অন্যরকম। রাজনীতি, সংঘাত বা মিটিং-মিছিলের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে বাংলার এবং দেশের ভোট আজ বিশ্বের দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আজকের এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনার নিখুঁত ব্যবস্থাপনা স্বচক্ষে দেখতে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল, এমনকি সুদূর দক্ষিণ ভারতের বুথেও পা রাখলেন আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা (Foreign Delegates WB Election)।
ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগ ‘ইন্টারন্যাশনাল ইলেকশন ভিজিটরস প্রোগ্রাম’ বা IEVP ২০২৬ (International Election Visitors Programme 2026)-এর অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবার ভারতের বুকে আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। কেনিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, জর্জিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা আজ বুথে বুথে ঘুরে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেন, তা এক কথায় অভাবনীয়। তাঁরা শুধু মক পোল (Mock Poll) বা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনই করলেন না, মেতে উঠলেন সাধারণ মানুষের উৎসবের আমেজে। দেখলেন কীভাবে দুর্গম পাহাড়ি পথেও ইভিএম (EVM) পৌঁছে যায়, কীভাবে বয়স্কদের জন্য ঘরে বসে ভোটের ব্যবস্থা হয়, এবং কীভাবে একটি ভোটকেন্দ্র হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ মানবিক ও সর্বজনীন।

উৎসবের আবহে নির্বাচন: শিলিগুড়ির বুকে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের নাচ ও মুগ্ধতা
সাধারণত নির্বাচন বলতেই আমাদের মনে একটা চাপা উত্তেজনা, কড়া নিরাপত্তা আর থমথমে পরিবেশের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু আজ শিলিগুড়ির একটি পোলিং স্টেশনে পৌঁছাতেই বিদেশি অতিথিদের সেই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। নির্বাচন কমিশনের শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বুথ চত্বরে এক দারুণ উৎসবের আমেজ। ভোট চলাকালীনই বিদেশি প্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী রীতিতে স্বাগত জানানো হয়। তাঁদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় হলুদ উত্তরীয়। শুধু তাই নয়, বাংলার নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করাতে বুথ চত্বরেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ নৃত্যের।
হলুদ শাড়ি ও লাল পাড় দেওয়া পোশাকে সজ্জিত স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা যখন মাদলের তালে হাতে হাত ধরে পা মেলালেন, তখন আর নিজেদের আটকে রাখতে পারেননি বিদেশি অতিথিরাও। ছবির ফ্রেমে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত, যেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা হাসিমুখে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নাচে মেতে উঠেছেন। এই দৃশ্য প্রমাণ করে যে, ভারতের নির্বাচন নিছক কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে একটি সামাজিক উৎসব। ভোটকেন্দ্রে তৈরি করা হয়েছিল আকর্ষণীয় ‘ভোটার সেলফি জোন’ (Voter Selfie Zone), যেখানে বড় বড় করে লেখা ছিল— “আমার ভোট, আমার ভবিষ্যৎ” (My Vote My Future) এবং “আমি ২৩ এপ্রিল ভোট দেব, আপনি দেবেন তো?”। এই ধরনের উদ্ভাবনী প্রচার ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁরা উপলব্ধি করেছেন যে, মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং উৎসবের আনন্দে শামিল করেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথমুখী করা সম্ভব।

ভোটকেন্দ্রে শিশু সুরক্ষা কক্ষ ও মেডিক্যাল ডেস্ক: শিমুলবাড়িতে মানবিক উদ্যোগ
গণতন্ত্র তখনই সফল হয়, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ—বিশেষ করে মহিলারা, প্রবীণরা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা (PwD)—বিনা বাধায় তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঠিক সেই জায়গাটিতেই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। আজ কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের (24 Kurseong AC) শিমুলবাড়ি পোলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা আক্ষরিক অর্থেই চমকে গিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা ‘শিশু সুরক্ষা কক্ষ’ বা ক্রেশ হাউস (Crèche House)।
অনেক সময় দেখা যায়, বাড়িতে ছোট সন্তানকে দেখার কেউ না থাকায় অনেক মা ভোট দিতে আসতে পারেন না। তাঁদের সুবিধার্থেই এই অভিনব উদ্যোগ। মায়েরা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের এই ক্রেশে রেখে ভোটদান কক্ষে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। পাশাপাশি, শিলিগুড়ির ভোটকেন্দ্রে দেখা গেল চোখজুড়ানো গোলাপি রঙের শামিয়ানায় মোড়া একটি বিশেষ জোন। সেখানে রয়েছে ‘চাইল্ড অ্যান্ড মাদার কাউন্টার’ (Child & Mother Counter) এবং ‘মেডিক্যাল ডেস্ক’ (Medical Desk)। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট।
গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে ভোটারদের যাতে কোনো কষ্ট না হয়, তার জন্য পানীয় জল, পর্যাপ্ত ছায়া এবং বসার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছিল আজকের এই বুথগুলোতে। বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য প্রস্তুত ছিল হুইলচেয়ার। এই ‘সিমলেস অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা বাধাহীন ব্যবস্থাপনা দেখে মুগ্ধ পরিদর্শকরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, বাংলার এই ভোটকেন্দ্রগুলো সত্যিই চমৎকার, সুশৃঙ্খল (systematic, very well managed), অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive), এবং সবদিক থেকে ভোটার-বান্ধব (Accessible)।
জর্জিয়া ও নেপালের বিস্ময়: ওয়েবকাস্টিং ও ইভিএম-এর নিখুঁত ব্যবহার
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আজ দার্জিলিং জেলায় পরিদর্শনে আসা জর্জিয়ার (Georgia) প্রতিনিধিরা ওয়েবকাস্টিংয়ের (Webcasting) এই উদ্যোগকে গণতন্ত্রের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। দার্জিলিঙের একটি ভোটকেন্দ্রে তৈরি করা হয়েছিল ‘ওয়াল অফ ডেমোক্রেসি’ (Wall of Democracy – Darjeeling 2026), যেখানে বড় করে লেখা ছিল “আপনার ভোট, আপনার অধিকার, আপনার দায়িত্ব” (Your Vote, Your Right, Your Responsibility)।
জর্জিয়ার এক মহিলা প্রতিনিধি সেই দেওয়ালে নিজের স্বাক্ষর করে একটি সুন্দর বার্তা রেখে যান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি দুর্দান্ত বিষয়। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে বুথের ভেতরের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোকেও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।” পাহাড়ি এলাকার দুর্গম বুথগুলোতেও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালানো যে কতটা কঠিন কাজ, তা উপলব্ধি করেই তাঁরা এই প্রশংসা করেছেন।
একইভাবে, প্রতিবেশী দেশ নেপালের (Nepal) প্রতিনিধি রাজেন্দ্র কুমার কে. সি. (Rajendra Kumar K C) ভারতের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার পুরো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ভালো। এবং এখানকার ইভিএম (EVMs) মেশিনগুলো অত্যন্ত কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য।” ভারতের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা চর্চা থাকলেও, আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত সফল, দ্রুত এবং নিরাপদ ভোটগ্রহণ পদ্ধতি হিসেবেই আজ ফের সমাদৃত হলো।
বয়স্কদের জন্য ‘হোম ভোটিং’ ও ডেসপ্যাচ সেন্টারের প্রাণবন্ত রূপ
আজকের আসল ভোটগ্রহণ পর্বের পাশাপাশি, গত দু’দিন ধরে এই প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রস্তুতির নানা দিক খতিয়ে দেখেছেন। কেনিয়ার (Kenya) প্রতিনিধি রথ খাটিয়েভি কুলুন্দু (Ms. Ruth Khatievi Kulundu) ভারতের ভোট ব্যবস্থার একটি বিশেষ দিক দেখে সবচেয়ে বেশি অভিভূত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষম (PwDs) ভোটারদের জন্য যে ‘হোম ভোটিং’ (Home voting facility) বা বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে।” ভারতের মতো বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দেশে, যেখানে অনেক প্রবীণ মানুষের পক্ষেই হেঁটে বুথ অবধি আসা সম্ভব নয়, সেখানে নির্বাচন কমিশন স্বয়ং তাঁদের দোরগোড়ায় ব্যালট বাক্স নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে—এই মানবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে গভীর রেখাপাত করেছে।
অন্যদিকে, ভোটের ঠিক আগের দিন শিলিগুড়ির ডেসপ্যাচ সেন্টার (Dispatch Center) এবং কন্ট্রোল রুমের কর্মব্যস্ততা দেখে ফিলিপিন্স (Philippines) থেকে আগত দুই প্রতিনিধি রোজেলিও বি. সিলভা জুনিয়র (Rogelio B. Silva, Jr.) এবং মিসেস মেলিসা অ্যান এম. তেলান (Ms. Melissa Anne M. Telan) রীতিমতো উচ্ছ্বসিত ছিলেন। মিসেস তেলান তাঁর অভিজ্ঞতায় জানান, “ডেসপ্যাচ সেন্টারের প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ।” নামিবিয়ার (Namibia) প্রতিনিধি পেত্রুস শামা (Petrus Shaama) জানান যে প্রাথমিক ব্রিফিং থেকেই তাঁরা নির্বাচন প্রস্তুতির একটি চমৎকার রূপরেখা পেয়েছিলেন, যা তাঁদের অবাক করেছে। হাজারো নিয়মকানুনের কড়াকড়ির মধ্যেও হাসিমুখে পোলিং কর্মীরা যেভাবে ইভিএম বুঝে নিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছিলেন, সেই লজিস্টিকাল মাস্টারক্লাস তাঁদের নজর কেড়েছে।
দক্ষিণের চমক: চেন্নাইয়ের আন্না নগরে ‘হাই-রাইজ’ ও ‘কালার-কোডেড’ বুথ
IEVP ২০২৬-এর এই প্রতিনিধি দলের একটি অংশ আজ শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতেও (Tamil Nadu Elections 2026)। চেন্নাই জেলার আন্না নগর (Anna Nagar Assembly Constituency) বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখে তাঁরা যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা শহরের ভোট ব্যবস্থাপনার এক অনন্য উদাহরণ। শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে বড় বড় আবাসন বা হাই-রাইজ বিল্ডিংগুলোতে ভোটারদের বুথমুখী করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন এবার আন্না নগরে হাই-রাইজ পোলিং স্টেশন (High-rise polling station) তৈরি করেছে।
বিদেশি প্রতিনিধিরা এই হাই-রাইজ বুথগুলোতে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁরা জানান, “আমরা এই ভোট প্রক্রিয়ার বিশাল ব্যাপ্তি, সংগঠন এবং সততা (scale, organization, and integrity) দেখে গভীরভাবে প্রভাবিত।” শুধু তাই নয়, আন্না নগরে ভোটারদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছিল ‘কালার-কোডেড পোলিং স্টেশন’ (Colour-coded polling station)। এর ফলে কোন ব্লকের বা কোন এলাকার ভোটার কোন নির্দিষ্ট রঙের বুথে গিয়ে ভোট দেবেন, তা খুব সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ভিড় এড়াতে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ভোটদান সম্পন্ন করতে এই পদ্ধতি দারুণ কার্যকর হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনা দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, “এই অভিজ্ঞতা একইসঙ্গে তথ্যবহুল এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। আধিকারিকদের নিষ্ঠা এবং এই পুরো সিস্টেমের মজবুত পরিকাঠামো (robustness of the system) সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বিশ্বের দরবারে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার যে বার্তা পৌঁছল
শিলিগুড়ি, কার্শিয়াং, দার্জিলিং থেকে শুরু করে সুদূর চেন্নাইয়ের আন্না নগর—আজকের এই দিনটি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল। এই ছবিগুলো আসলে পর্দার আড়ালে থাকা হাজার হাজার পোলিং কর্মী, পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন আধিকারিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। এই আন্তর্জাতিক ভিজিটরস প্রোগ্রামের (IEVP 2026) মাধ্যমে ভারত আজ গোটা বিশ্বকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা দিল। বার্তাটি হলো—গণতন্ত্র শুধু খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ কোনো শব্দ নয়, এটি ভারতের আত্মার সঙ্গে মিশে আছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই যেখানে নির্বাচন মানেই হিংসা বা সংঘাতের ভয়, সেখানে ভারত দেখাচ্ছে কীভাবে বিপুল জনসংখ্যার দেশে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত উপায়ে মানুষের রায় গ্রহণ করা যায়। জর্জিয়া, কেনিয়া, নেপাল বা ফিলিপিন্সের প্রতিনিধিরা যখন তাঁদের নিজেদের দেশে ফিরে যাবেন, তখন তাঁরা বাংলার ও তামিলনাড়ুর এই বুথগুলোর গল্পই তুলে ধরবেন। তাঁরা জানাবেন যে, কীভাবে একটি বুথের ভেতরে শিশুদের জন্য ক্রেশ তৈরি করে একজন মায়ের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়। তাঁরা জানাবেন, কীভাবে দুর্গম পাহাড়েও ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। তাঁরা জানাবেন যে, ভারতের ভোট শুধু সংখ্যা গোনার খেলা নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস এবং উৎসবের উদযাপন। আজকের এই প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পর, ভারতের ভোট ব্যবস্থাপনা যে বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত হয়ে একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেলে পরিণত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে গোটা দেশের কাছে এক অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
এই বিষয়ে আপনার কী মতামত? আপনি কি মনে করেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের এই সফর বাংলার সম্মান বাড়াল? আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
- “ভোট সে তো যুদ্ধ নয়…”— বুথে বুথে এ কোন নতুন উৎসব? যে মানবিক উদ্যোগে ইতিহাস গড়ল বাংলার প্রথম দফার নির্বাচন!
- বাংলার ভোটে আন্তর্জাতিক চমক! শিলিগুড়ি ও কার্শিয়াংয়ের বুথে বিদেশি প্রতিনিধিরা, নির্বাচন পরিচালনা দেখে কী বার্তা দিলেন বিশ্বের দরবারে?
- প্রথম দফার ভোটে কী ফল আসতে চলেছে? উল্টে যেতে পারে সমীকরণ, বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত বড় চমকের!
- ভুলে ভরা বক্তব্যে নেতারা ট্রোলের টার্গেট! আগামী প্রজন্মের চোখে নেতারা কি তবে হাসির খোরাক? ভুল বার্তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন!
- নতুন ভোটারদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে: জানুন, প্রথমবারের বিশেষ পদ্ধতিতে কীভাবে দিচ্ছেন ভোটাররা ভোট

