নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি। মকর সংক্রান্তির পর কলকাতার পারদ ছিল ১৫ ডিগ্রির কাছাকাছি, যা বেশ মনোরম। কিন্তু আবহাওয়ার উত্তাপ এটুকু কম থাকলেও, আজ রাজ্য রাজনীতির পারদ চরমে উঠল SIR Form 7-কে কেন্দ্র করে। আজই ছিল ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর সেই নিয়েই শাসক ও বিরোধী দলের সংঘাতে মাঘের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছাপিয়ে গেল রাজনীতির ময়দান।
কোথাও পুড়ল বিডিও অফিস (BDO Office), কোথাও হাতাহাতি, আবার কোথাও ফর্ম ৭ জমা দেওয়া আটকাতে সংঘাতে জড়াল শাসক দল, পাল্টা ধরনায় বসল বিরোধীরা। অভিযোগ, বেছে বেছে নাম বাদ দিতেই নাকি দেদার জমা পড়ছে এই ফর্ম। কোথাও আবার বিডিও অফিসে তালা দেওয়া যাতে আর কোনও ফর্ম জমা না পড়ে।
কিন্তু কেন এই বিরোধ? কী এই ফর্ম ৭? কেউ কি চাইলেই আপনার নামে ফর্ম ৭ জমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে আপনার নাম বাদ (Voter Name Deletion) দিয়ে দিতে পারে? জানুন আসল সত্যিটা এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম (Election Commission Rules)।
ফর্ম ৭ আসলে কী? (What is Form 7?)
সহজ কথায়, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকা বা ইলেকট্রোরাল রোল (Electoral Roll) থেকে নাম বাদ দেওয়ার বা আপত্তি জানানোর ফর্ম হলো ‘ফর্ম ৭’। মূলত তিনটি কারণে এটি জমা দেওয়া হয়: ১. মৃত্যুজনিত কারণ (Death): কোনো ভোটার মারা গেলে তাঁর নাম বাদ দিতে। ২. স্থানান্তর (Shifting): কেউ ওই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও পাকাপাকি চলে গেলে। ৩. ডুপ্লিকেট এন্ট্রি (Duplicate Entry): একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার বা একাধিক জায়গায় থাকলে। এছাড়াও, নতুন কারোর নাম ওঠার বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়।
কেউ ফর্ম জমা দিলেই কি নাম বাদ যায়? (Does Form 7 Delete Name Automatically?)
আজকের গণ্ডগোলের মূল কারণ হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভীতি। অনেকেই ভাবছেন, কেউ শত্রুতা করে তাঁর নামে ফর্ম ৭ জমা দিলেই বুঝি ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটা যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম (ECI Guidelines) অত্যন্ত কড়া।
নাম বাদ দেওয়ার আসল পদ্ধতি (The Verification Process):
১. নোটিশ পাঠানো (Notice Generation): কারও নামে ফর্ম ৭ জমা পড়লে, নির্বাচন কমিশন বা ERO (Electoral Registration Officer) সঙ্গে সঙ্গে নাম বাদ দেয় না। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে আগে নোটিশ পাঠানো হয়।
২. শুনানি বা হিয়ারিং (Hearing Process): নোটিশ পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। সেখানে তিনি নিজের সপক্ষে প্রমাণ (যেমন আধার কার্ড, বাসের প্রমাণ, বা তিনি যে জীবিত আছেন তার প্রমাণ) দিলে ফর্ম ৭ খারিজ (Rejected) হয়ে যায়।
৩. সরেজমিনে তদন্ত (Field Verification): অনেক ক্ষেত্রে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা সরকারি আধিকারিকরা সশরীরে বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করেন। যদি দেখা যায় অভিযোগ ভুয়ো, তবে যে ফর্ম জমা দিয়েছে, উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আপনার নাম সুরক্ষিত তো? যা করবেন (How to Check Voter Status)
রাজনীতির এই ডামাডোলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রযুক্তির সাহায্য নিন। আপনার নাম ভোটার লিস্টে ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে:
- Voter Helpline App: প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিজের এপিক নম্বর (Voter ID No) দিয়ে সার্চ করুন।
- NVSP পোর্টাল: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার স্ট্যাটাস চেক করুন।
নিউজ অফবিট টিপস: মনে রাখবেন, বৈধ কারণ এবং সঠিক প্রমাণ ছাড়া ভারতের নির্বাচন কমিশন কারও নাম বাদ দেয় না। যদি আপনার কাছে বৈধ পরিচয়পত্র থাকে এবং আপনি ওই ঠিকানায় বসবাস করেন, তবে হাজারটা ফর্ম ৭ জমা পড়লেও আপনার ভোটাধিকার কেউ কাড়তে পারবে না (Voting Rights Protected)। অযথা গুজবে কান দেবেন না।
মিথ্যে ফর্মে অভিযোগ? হতে পারে জেল-জরিমানা (Penalty for False Objection)
শত্রুতা করে কারোর নাম বাদ দিতে চাইছেন? সাবধান! নির্বাচন কমিশন বা Election Commission স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৭ ছেলেখেলা করার জায়গা নয়।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ (Representation of the People Act, 1950)-এর ৩১ ধারা (Section 31) অনুযায়ী, যদি কেউ জেনেশুনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ফর্মে মিথ্যে তথ্য দেন বা মিথ্যে ঘোষণা (False Declaration) করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- শাস্তি: দোষী সাব্যস্ত হলে ওই ব্যক্তির এক বছর পর্যন্ত জেল (Imprisonment up to one year), জরিমানা অথবা দুটোই হতে পারে।
- যদি তদন্তে দেখা যায় কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যের নাম বাদ দিতে বহু সংখ্যক ফর্ম জমা দিয়েছেন, তবে উল্টে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই FIR দায়ের করতে পারে কমিশন।

