নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে ফের সংসদে অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী শিবির। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ বিরোধী শিবির লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই নতুন করে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রের দাবি। এর আগে বিরোধীদের আনা অপসারণের নোটিশ লোকসভা ও রাজ্যসভায় খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এবার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর সামনে আসার পর নতুন করে সেই উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
ফের অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর জন্য বিরোধীরা দুই সংসদীয় কক্ষেই নতুন করে নোটিশ দিতে চলেছে। কংগ্রেসের একটি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই দুই কক্ষেই যৌথ বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে নোটিশ জমা দেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিরোধীদের আনা এমন একটি নোটিশ রাজ্যসভায় চেয়ারম্যান এবং লোকসভায় স্পিকার খারিজ করেছিলেন। সেই সময় রাজ্যসভায় জমা দেওয়া নোটিশে ৬৩ জন সাংসদের সমর্থন ছিল বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল। তার আগে বিরোধীরা লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই জায়গাতেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে নোটিশ জমা দিয়েছিল।
কতজন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় সংসদের দুই কক্ষেই নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লোকসভায় এই ধরনের নোটিশ আনার জন্য অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এর আগে বিরোধীদের দেওয়া নোটিশে লোকসভায় ১২০ জন এবং রাজ্যসভায় ৭৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।
এবার নতুন করে নোটিশ আনার ক্ষেত্রে সেই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা যায় কি না, এবং নোটিশ সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেন কি না, সেটাই পরবর্তী বিষয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দুই কক্ষেই নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ১৪ বার আপত্তির দাবি
এই নতুন উদ্যোগের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আপত্তিগুলির মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশও ছিল, যেগুলি দুই নির্বাচন কমিশনারের দাবি অনুযায়ী তাঁদের অজ্ঞাতসারে নেওয়া হয়েছিল। একটি দিনেই চারবার এমন আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয়, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কাজের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা সামনে এসেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন-সহ সিদ্ধান্তগুলি তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের অন্দরের আপত্তি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা সিজেপির
এই বিতর্কের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টিও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সময়সীমার মধ্যে পদত্যাগ না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানোর কথাও জানিয়েছে দলটি।
সিজেপির পক্ষ থেকে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গণেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা। তবে এগুলি সিজেপির অভিযোগ ও দাবি, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।
বিরোধীদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নজর
জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি নিয়ে এর আগে বিরোধী দলগুলি সংসদে নোটিশ দিয়েছিল। সেই উদ্যোগ খারিজ হওয়ার পর এবার নতুন করে দুই কক্ষে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে নোটিশের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।
ভোট চুরি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী; অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য সংবিধান নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংসদের দুই কক্ষের নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাই নতুন নোটিশ দেওয়া হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে কি না এবং পরবর্তী সাংসদীয় প্রক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
#GyaneshKumar #GyaneshKumarImpeachmentMotion #GyaneshKumarRemoval #ElectionCommission #SIR #OppositionIndia #IndianParliament #CJP #AbhijeetDipke
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

