Herbal Abir College Initiative: রাসায়নিক রঙের ক্ষতি এড়াতে ভেষজ উপাদানে তৈরি আবির, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসচেতন বসন্তোৎসবের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কলেজ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাসায়নিক রং নয়, রং হবে ভেষজ — এই ভাবনা থেকেই বছর কয়েক আগে ভেষজ আবিরের পরিকল্পনা করেছিলেন ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপকবৃন্দ। সেই থেকে প্রতিবারের মতো এবারেও তাঁরা ভেষজ উপাদান দিয়ে আবির বানিয়েছেন। বিভাগের এই উদ্যোগের পাশে ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষা ড. পম্পিয়া চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, ‘বাজারে চলতি রাসায়নিক আবির ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই যে রাসায়নিক রং বর্জন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসন্তোৎসব মাতো।’
এই ভেষজ আবির তৈরিতে বিভিন্ন রঙের শাকসবজির রস মূলত ব্যবহার করা হয়েছে। আবির তৈরিতে কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। শুধু আবির তৈরিতে নয় বিপণনের কাজেও ক্ষেত্রেও তারা বড় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল।
রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে সরে এক সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প তুলে ধরল ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজ। বসন্তোৎসবকে সামনে রেখে কলেজের রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে তৈরি হল ভেষজ আবির, যা এখন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

কয়েক বছর আগে থেকেই এই ভাবনার সূচনা। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপকবৃন্দ লক্ষ্য করেছিলেন, বাজারে প্রচলিত রাসায়নিক আবির ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সেই থেকেই শুরু হয় ভেষজ উপাদান দিয়ে আবির তৈরির পরিকল্পনা। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন রঙের আবির।
এই উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর উপাদান নির্বাচন। বিভিন্ন শাকসবজি ও প্রাকৃতিক উপাদানের রস ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে এই আবির। ফলে একদিকে যেমন রঙের উজ্জ্বলতা বজায় থাকছে, অন্যদিকে ত্বকের কোনও ক্ষতির আশঙ্কাও থাকছে না। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি উৎসবের প্রস্তুতি নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন।
কলেজের অধ্যক্ষা ড. পম্পিয়া চক্রবর্তী এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, “বাজারে চলতি রাসায়নিক আবির ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। আমরা চাই ছাত্রছাত্রীরা এই বিষয়টি বুঝুক এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসন্তোৎসব উদযাপন করুক।”
এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা শুধু আবির তৈরিতেই নয়, বিপণন ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে তাদের মধ্যে দলগত কাজ, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র কলেজের এই উদ্যোগ (Herbal Abir College Initiative) একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়াচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের পথও দেখাচ্ছে। তাই বসন্তের রঙ এবার থেকে হবে তাই আরও নিরাপদ, আরও সচেতন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

