India BRICS Summit: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ভারতের দিকে। চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতির সম্ভাবনা বৈঠককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই মঞ্চে তিন দেশের নেতৃত্বের উপস্থিতি বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লি যখন ব্রিকস সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির নজরও ক্রমশ ভারতের দিকে ঘুরছে। কারণ এই সম্মেলনে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। একই মঞ্চে ভারত, চিন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, বরং বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে এবং পুতিনের উপস্থিতি রাশিয়ার তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শি জিনপিংয়ের ভারত সফরও প্রত্যাশিত।
এই সম্মেলন তাই শুধু ব্রিকসের বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বাণিজ্য, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা, ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর আলোচনা এবং ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে দিল্লির এই বৈঠক বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে। প্রশ্ন একটাই—ভারত, চিন ও রাশিয়ার এই ত্রিমুখী উপস্থিতি কি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণের সূচনা করবে?
দিল্লিতে মুখোমুখি হতে পারেন তিন দেশের শীর্ষ নেতা
ভারতের কাছে এবারের ব্রিকস সম্মেলনের গুরুত্ব অনেকটাই আলাদা। কারণ একদিকে ভারত নিজেই এবারের সম্মেলনের আয়োজক ও সভাপতিত্বকারী দেশ, অন্যদিকে একই সময়ে চিন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের সফর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর তাঁর ভারতে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালের পর তাঁর ভারত সফর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা, গালওয়ান সংঘর্ষ এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নানা উদ্যোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বরাবরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে জ্বালানি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দিল্লিতে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষাও হতে পারে।
ভারত-চিন সম্পর্ক কি সত্যিই নতুন পথে? (India BRICS Summit)
ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং পর্যটন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ সেই পরিবর্তনের অংশ।
২০২৪ সালে কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের সময় নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়েছিল। এরপর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা যায়। ২০২৬ সালের জুনে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দিল্লি সফর এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও দুই দেশের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ।
তবে সম্পর্কের উন্নতি মানেই সব বিরোধ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভারসাম্য, কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
তাই দিল্লিতে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য বৈঠক হলে সেটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে না। সীমান্ত, বাণিজ্য এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশ নিয়ে কোনও নতুন বার্তা আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
পুতিনের উপস্থিতি ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? (India BRICS Summit)
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা বরাবরই বড় বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে দিল্লির ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। (India BRICS Summit)
ব্রিকসের দিল্লি সম্মেলনে পুতিনের উপস্থিতি সেই সম্পর্ককে আরও একবার প্রকাশ্যে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ভারতকে এমন একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও চিনের সঙ্গে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যান্য বড় শক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক অটুট থাকে।
এখানেই ভারতের কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশ্নটি সামনে আসে। কারণ ব্রিকস এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সদস্য দেশগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সবসময় এক নয়। ভারত ও চিনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে, আবার ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। চিন ও রাশিয়ার নিজেদের মধ্যেও গভীর কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
এই জটিল সমীকরণের মাঝখানে ভারত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। তাই দিল্লিতে পুতিন ও শি জিনপিংয়ের একসঙ্গে উপস্থিতি ভারতের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয় নয়, বরং নিজের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করার সুযোগ।
বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থব্যবস্থায় বড় আলোচনা হতে পারে
ব্রিকসের গুরুত্ব শুধু রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও এই গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্র। সাম্প্রতিক সময়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
জ্বালানির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কেনার বিষয়টি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচিত। ফলে রাশিয়া, চিন ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়লে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে।
তবে এখানেও ভারতের সামনে ভারসাম্যের প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক—দুই দিক সামলানোই দিল্লির বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
ব্রিকস কি ভারত-চিন-রাশিয়ার নতুন সমীকরণের মঞ্চ হতে পারে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন কি ভারত, চিন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন কোনও ত্রিপাক্ষিক সমীকরণের সূচনা করবে?
এর সরাসরি উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। কারণ তিন দেশের স্বার্থ এক নয়। ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত ও বাণিজ্য নিয়ে সমস্যা রয়েছে। রাশিয়া আবার চিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হলেও ভারতের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ভারত নিজেও কোনও একটি শক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে যুক্ত না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে। (India BRICS Summit)
তবে তিন নেতার একই শহরে, একই সম্মেলনের মঞ্চে উপস্থিতি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ছবি তৈরি করবে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন অংশীদারিত্ব খুঁজছে।
দিল্লির এই সম্মেলনে যদি ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতি, ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা এবং ব্রিকসের অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে সেটি আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনই এটিকে কোনও নতুন জোট বা স্থায়ী ত্রিপাক্ষিক সমীকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
#BRICSSummit #IndiaBRICS #India #XiJinping #VladimirPutin #IndiaChinaRelations #IndiaRussiaRelations #GlobalPolitics #InternationalRelations
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

