India Illegal Immigration Rules ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে কেন্দ্রের কড়া নির্দেশে সীমান্ত জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪ মে ২০২৫ তারিখে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্য পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর বিএসএফ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে।
আরও পড়ুন : ফলতার আগের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা! উপনির্বাচনে এবার কী নতুন ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন?
তবে এই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪-এর আগে যাঁরা ভারতে এসেছেন এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় পড়েন, তাঁদের কোনওভাবেই হেনস্থা, আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না। অর্থাৎ, সিএএ-র আওতায় থাকা শরণার্থীদের জন্য আলাদা সুরক্ষা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, যাঁরা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁদের “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ডিটেক্ট, ডিটেন এবং ডিপোর্ট”— এই নীতিতেই এবার সীমান্তবর্তী থানাগুলিতে পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন থানাগুলিতে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে। শাসক-বিরোধী তরজার মাঝেই এখন প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং তার প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কতটা পড়ে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও কড়াভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশ করেছেন অথবা বৈধ নথি নিয়ে এলেও নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থান করছেন, তাঁদের “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিকেরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় ধরা পড়লে দ্রুত তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে তার আগে তাঁদের বায়োমেট্রিক তথ্য, মুখের ছবি এবং আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।
এছাড়াও সীমান্ত ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারগুলিকে বিশেষ পুলিশ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে, যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও আটক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার বা অস্থায়ী আটক শিবির তৈরি করতে হবে। সেখানে সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
কেন্দ্র আরও স্পষ্ট করেছে, যাঁদের ফেরত পাঠানো হবে তাঁদের নামে ভবিষ্যতে যাতে ভারতে কোনও পরিচয়পত্র তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ইউআইডিআই, নির্বাচন কমিশন এবং বিদেশ মন্ত্রককেও এই তথ্য জানানো হবে। বাংলাদেশ সীমান্তের ক্ষেত্রে বিএসএফ এবং মায়ানমার সীমান্তের ক্ষেত্রে অসম রাইফেলসকে এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
#IllegalImmigration #IndiaBorder #BSF #BangladeshBorder #RohingyaIssue #ImmigrationRules #BorderSecurity #PoliticalNews #WestBengal #CentralGovernment

