রঙচটা প্রাচীরের দেওয়াল ঘেঁষে টুপ করে সন্ধ্যা নামে। হামাগুড়ি দিয়ে অন্ধকার ঢোকে আমাদের বেডরুমে। যৌনতায় মিশে থাকে জীবনের টানাপোড়েন। ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনে ভরসা খুঁজতে থাকে মধ্যবিত্ত মন। চৌকাঠের চিহ্ন রেখে যায় বদলে যাওয়া সময়, আর না বদলানো কিছু মানসিকতা দরজায় খিল দিয়ে দিনবদলের স্বপ্ন দেখে। প্রতি বুধবার সন্ধ্যায় এই আবছা আলো আঁধারিতে জমে থাক ‘জীবনের ঘূর্ণিপাক‘। লিখছেন প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ।
রঙ যদি বসন্তের আগমনের সংবাদ নিয়ে হাজির হয়, আবির নিয়ে আসে বসন্তের ভ্যালিডিটি। বসন্তে থাকতে গেলে আবির মাস্ট। আবার অকাল বসন্ত যাপনের জন্য ডাক পড়ে সেই আবিরেরই। আবির আসলে উদ্দামতার পরিচায়ক। উদ্দামতার ব্যপ্তি কোথায় গিয়ে টেনে ধরতে হয় পারস্পরিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য, তা আবির খুব ভালো হ্যাণ্ডল করতে পারে। গুরুজনদের পায়ে আবির দেওয়া যেমন শ্রদ্ধা, সম্মান ও সারল্যকে সূচিত করে তেমনই সমবয়সীদের গালে আবির দেওয়া আসলে প্রীতি, সৌহার্দ্য আর সংবেদনশীলতার কথাই বলে। হার্বাল আবির সচেতনতার কথা বলে, নন হার্বাল আবির উদ্দামতার পক্ষে সওয়াল করে।
আবিরের ছোঁয়াতে মানুষ রঙিন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বর্ণের আবির মানুষকে বর্ণময় করে তুলতে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে সাধারণত। হার্বাল আবিরের পেলবতা প্রেমিকার গালের পেলবতাকে টেনশনে ফেলে দিতে না পারলেও, আবির বেঁচে থাকে আবিরের জন্যই। জলরঙা ক্যানভাসে শিল্পী বসন্তের যে ছবির অবয়ব তুলে ধরতে শুরু করেন সেই অবয়বটাকে স্পষ্ট করে তোলার জন্য প্রয়োজন হয় আবিরের। আবিরের আলাপনের। পলাশরঙা সকালের দ্রাব্যতার সঙ্গে গোধূলির সখ্যকে মিলিয়ে দিতে পারে উড়ন্ত আবির।
আবির বর্ণিল আবেগের কাছে বসন্ত এনে দেয়, বসন্তকেও রঙিন করে তোলে। স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের মাঝে সার্থক দিবাস্বপ্ন হিসেবে আবির থেকে যায় ওয়াই ইক্যুয়ালস টু প্রেমহীনতার দোসর হয়ে। এভাবেই গালের আধমাখা আবির প্রেম হয়ে আসুক, এভাবেই চোখের কোণের আবির ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে চোখে চোখে অর্জিত হোক আস্থা। আগলে রাখার। একসঙ্গে পথ চলার।

