Jungle Safari Guide: জঙ্গলে সাফারিতে যাওয়া মানে শুধু রোমাঞ্চ নয়, দায়িত্বও বটে। সামান্য প্রস্তুতির অভাব আপনার পুরো ভ্রমণ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই বনভ্রমণের আগে জেনে নিন কোন জিনিসগুলো একেবারেই ভুলে যাওয়া যাবে না এবং কীভাবে প্রস্তুত থাকলে অভিজ্ঞতা হবে নিরাপদ ও উপভোগ্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একটা ভোর। কুয়াশা তখনও পুরো কাটেনি। জিপ গাড়ির ইঞ্জিন ধীরে ধীরে গর্জন তুলছে। সামনে লাল মাটির রাস্তা, দু’পাশে ঘন সবুজ বন। গাইড হালকা গলায় বললেন, “চুপ করে বসুন… সামনে হয়তো কিছু নড়ছে।” হৃদস্পন্দন একটু বেড়ে যায়। সবাই নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বোঝা যায়—জঙ্গল কেবল ভ্রমণের জায়গা নয়, এটা এক অনুভূতি। এখানে মানুষ অতিথি, প্রকৃতিই আসল অধিপতি।
আরও পড়ুন : রেলে মিলবে এমার্জেন্সি কোটায় সিট
কিন্তু এই অভিজ্ঞতা যেমন মুগ্ধতার, তেমনই প্রস্তুতিরও। অনেকেই ভাবেন, জঙ্গলে যাওয়া মানে শুধু টিকিট কাটা আর গাড়িতে উঠে বসা। বাস্তবটা কিন্তু ভিন্ন। সামান্য কিছু জিনিস ভুলে গেলে পুরো সাফারি ভেস্তে যেতে পারে। এমনকি প্রবেশই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জানাব—জঙ্গলে ভ্রমণ বা সাফারিতে গেলে কোন কোন জিনিস একেবারেই না নিলে চলবে না, কেন চলবে না, আর কীভাবে প্রস্তুত থাকলে আপনার অভিজ্ঞতা হবে নিরাপদ ও স্মরণীয়।
পরিচয়পত্র না থাকলে প্রবেশ বন্ধ
জঙ্গলে প্রবেশের আগে প্রথমেই যাচাই হয় পরিচয়পত্র। আপনার নাম, বয়স, সংরক্ষিত আসনের তথ্য—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হয়। অনেকেই ভাবেন, নাম নথিভুক্ত থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে পরিচয়পত্র ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাফারিতে উঠতে দেওয়া হয় না। তাই সরকারি স্বীকৃত পরিচয়পত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। এটি ছাড়া পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনাই ব্যর্থ হতে পারে। আগাম সংরক্ষণ করা থাকলেও তার প্রমাণ সঙ্গে রাখা জরুরি। অনেক সময় দূরবর্তী বনাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল থাকে। তাই সংরক্ষণ সংক্রান্ত নথি বা রসিদ সঙ্গে রাখা নিরাপদ।
পানীয় জল
সাফারি সাধারণত কয়েক ঘণ্টার হয়। খোলা গাড়িতে রোদ, ধুলো, তাপ—সব মিলিয়ে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পানীয় জল না থাকলে মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা বা অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা ধাতব পাত্রে জল নেওয়া উচিত। অনেক বনাঞ্চলে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। জল সঙ্গে নেওয়া মানে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উপযুক্ত রঙের পোশাক
উজ্জ্বল লাল, নীল বা ঝলমলে পোশাক প্রাণীদের সতর্ক করে দেয়। তারা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যেতে পারে। সবুজ, মাটি রঙা, খয়েরি বা হালকা ধূসর পোশাক পরাই শ্রেয়। এটি শুধু নিয়ম নয়, এটি বন্যপ্রাণীর প্রতি সম্মান। তাই নিরপেক্ষ রঙের আরামদায়ক পোশাক অবশ্যই পরতে হবে।
অন্যান্য জিনিস কী কী লাগবে?
খোলা গাড়িতে সাফারি করার সময় রোদ সরাসরি মাথায় পড়ে। তাই টুপি বা মাথা ঢাকার কাপড় না নিলে মাথা ঘোরা বা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোদ, ধুলো এবং হালকা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে এটি খুবই জরুরি। রোদ ও ধুলো থেকে চোখ বাঁচাতে গাঢ় কাচের চশমা বা রোদচশমা প্রয়োজন। এটি না নিলে দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে চোখে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। জঙ্গলের পথে ধুলো উড়তে পারে। তাই মুখ ঢাকার জন্য বড় কাপড় বা ওড়না রাখা উচিত।
এটি ধুলো থেকে রক্ষা করবে এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হবে।
আলোকচিত্র গ্রহণের যন্ত্র
যদি বন্যপ্রাণী বা প্রাকৃতিক দৃশ্য সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে ছবি তোলার ব্যবস্থা রাখুন। তবে মনে রাখতে হবে—ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা যাবে না। ফ্ল্যাশ প্রাণীদের আতঙ্কিত করতে পারে। সব প্রাণী খুব কাছে আসে না। অনেক সময় দূরে দেখা যায়। দূরবীন না থাকলে অনেক সুন্দর দৃশ্য মিস হয়ে যেতে পারে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেক সময় দূরে ঝোপের আড়ালে বা পাথরের খাঁজে বাঘ শুয়ে থাকে। খালি চোখে যা কেবল পাথর মনে হবে, বাইনোকুলার দিয়ে দেখলে হয়তো সেখানেই ডোরাকাটা বাঘের দেখা পাবেন।অতিরিক্ত মেমোরি কার্ড এবং পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন। জঙ্গলে নেটওয়ার্ক থাকে না, তাই ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হতে পারে।
জঙ্গলে ওঠানামা বা হাঁটার প্রয়োজন হতে পারে। তাই মজবুত ও আরামদায়ক জুতো না নিলে অসুবিধা হতে পারে।
খোলা স্যান্ডেল বা পিচ্ছিল জুতো এড়িয়ে চলাই ভালো। যাদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তারা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।
পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা বা অ্যালার্জির ওষুধও রাখা ভালো। জঙ্গলের ভিতরে চিকিৎসা সুবিধা সবসময় সহজলভ্য হয় না। কড়া পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট মেখে জঙ্গলে যাবেন না। বন্যপ্রাণীদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর, বিজাতীয় গন্ধে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারে।
জঙ্গলে সাফারি শুধু বাঘ বা বড় প্রাণী দেখার জন্য নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অভিজ্ঞতা। সঠিক প্রস্তুতি না নিলে সেই অভিজ্ঞতা অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। তাই পরিচয়পত্র, অনুমতিপত্র, জল, উপযুক্ত পোশাক, মাথা ও চোখের সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং সচেতন মানসিকতা—এই কয়েকটি বিষয় কখনোই ভুলবেন না। মোবাইলের রিংটোন বন্ধ রাখুন। প্রকৃতিকে সম্মান করুন, নিয়ম মেনে চলুন, তাহলেই আপনার জঙ্গলভ্রমণ হবে নিরাপদ, স্মরণীয় এবং সুন্দর।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

