স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারত ও বিএনপি সম্পর্ক বরাবরই এক জটিল অধ্যায় — সহযোগিতা, সন্দেহ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবার কখনও নীরব কূটনৈতিক সেতুবন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রকৃত সম্পর্ক (Khaleda Zia & India Relations) কেমন ছিল? বিরোধিতা না কৌশল? নাকি এক অজানা সমঝোতার ইতিহাস লুকিয়ে আছে পর্দার আড়ালে? জানুন অজানা সেই গল্প।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে উজ্জ্বল মুখ খালেদা জিয়া। তিনি প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। বয়স হয়েছিল ৮০। বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে সিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সাধারণ গৃহবধূ থেকে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক মুখ। যাত্রাটা এত সহজ ছিল না। ১৯৪৫ সালের ১৫ ই আগস্ট তাঁর জন্ম। জন্মের সাথেই তৈরি হয় ভারতের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। অবিভক্ত বাংলা। তাঁর বাবার ছিল চায়ের ব্যবসা। জলপাইগুড়ি অঞ্চলে তাঁরা থাকতেন। সেখানেই জন্ম হয় খালেদা জিয়ার। যদিও খালেদা জিয়ার আদি বাড়ি পূর্ব পাকিস্তান। মায়ের দিক থেকেও তার এদেশের সাথে সম্পর্ক। মায়ের বাড়ি ছিল উত্তর দিনাজপুরের চাঁদবাড়ি এলাকায়। যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
সূচনা এভাবে হলেও দেশভাগের পর বিচ্ছেদ ঘটে। খালেদা জিয়া চলে যান বাংলাদেশে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানের সেনা অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহ হয় খালেদা জিয়ার। তাঁর রূপের সৌন্দর্য আকৃষ্ট করতো সকলকেই। পরিবারের আত্মীয়-স্বজনেরা তাঁকে ডাকতেন পুতুল বলে। সংসার করছিলেন দুই পুত্র এবং স্বামীকে নিয়ে। রাজনীতিতে আসার তার পরিকল্পনা ছিলই না। আচমকা ঘটল দুর্ঘটনা। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান খুন হলেন। তখন থেকেই স্বামীর তৈরি করা দল বিএনপি’র দায়িত্ব তিনি নিজে হাতে তুলে নেন। এরপর কিভাবে ভারতের সাথে তাঁর সম্পর্ক (Khaleda Zia & India Relations) গড়ে ওঠে? কেমন ছিল সেই সম্পর্ক? জানতে অবশ্যই বিস্তারিত করুন প্রতিবেদনটি।
আরও পড়ুন : ভারত বাংলাদেশের মিম যুদ্ধ │ গুজব নাকি সত্যি │India Bangladesh Meme War
ভারতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার যোগাযোগ: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর যখন খালেদা জিয়া রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করেন, তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিল মূলত ভারত-বান্ধব ধারা থেকে সরে যাওয়ার পথে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তখনও তাজা, কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে স্বাধীনতার পরবর্তী হতাশা ভারত-বিরোধী মনোভাবকে শক্তিশালী করেছিল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এই জাতীয়তাবাদী আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তখন সীমিত, শীতল, এবং সন্দেহপ্রবণ। তাঁর প্রথম দফা ক্ষমতায় (১৯৯১–১৯৯৬) ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়নি। তিস্তা চুক্তি না হলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছিল।
রাজনীতির টানাপোড়েন (Khaleda Zia & India Relations)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অঘোষিত বিভাজন বহু বছর ধরে চলছে — একপাশে ভারতপন্থী আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী বিএনপি। খালেদা জিয়া এই দ্বিতীয় ধারার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর বক্তব্য, নীতি, এমনকি দলীয় প্রচারে ভারত বাংলাদেশের উপর আধিপত্য বিস্তার করছে — এই তত্ত্ব বারবার সামনে এসেছে। তবে এর পিছনে শুধু রাজনীতি নয়, তিস্তার জলবন্টন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, ট্রানজিট ইস্যু, শিলিগুড়ি করিডোর নিয়েও দিল্লির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। তবু ভারতের কূটনীতিকরা সবসময় খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বিরোধী হিসেবে দেখেননি। বরং তাঁকে বাস্তববাদী জাতীয়তাবাদী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন — যিনি ভারতের বিপক্ষে কথা বললেও, কখনও ভারতবিরোধী নীতিতে দেশকে বিপদে ফেলেননি।

দিল্লির সাথে নীরব কূটনীতির গল্প (Khaleda Zia & India Relations)
২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগে খালেদা জিয়ার ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়।তখনকার ভারতীয় নেতৃত্ব — মনমোহন সিং এবং প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বিএনপি ঘনিষ্ঠ কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে। ২০০৪ সালের ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ওপর হামলার পরও দিল্লি সরাসরি খালেদা জিয়াকে দায়ী করেনি, বরং বিষয়টাকে স্টেট ফেলিওর হিসেবেই দেখেছিল। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ভারতের স্পষ্ট ঝোঁক আওয়ামী লীগের দিকে গেলে বিএনপি-ভারত সম্পর্ক আবারও ঠান্ডা হয়ে যায়।
ভারতে বাজপেয়ী আমলের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব শশাঙ্ক বলেছিলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক পাঁচ বছরে তলানিতে ঠেকেছিল। তবে ব্যক্তিগত স্তরে দুজনের সম্পর্ক ভালো ছিল। ভারতসফরে খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানান অটল বিহারী বাজপেয়ী। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা যেমন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি তাঁর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই অঞ্চলের ভূরাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তিনি ভারতের বিরোধিতা করেছেন, কিন্তু ভারতকে কখনও অস্বীকার করেননি।
Most Viewed Posts
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

