দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী থেকে রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব (Nandini Chakraborty Chief Secretary) হয়ে ওঠা, যাত্রাপথটা মলিন ছিল না। প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে পূর্ণেন্দু পত্রী বারবার সাহিত্যের পাতায় উঠে এসেছে এই নামটি, ‘নন্দিনী ‘। ‘রক্তকরবীর’ নন্দিনী ছিল মানবতার প্রতীক। ঠিক যেভাবে অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, বাস্তবের এই নন্দিনী ও হারতে শেখেননি। দক্ষ হাতে সামলেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাজ্যে সরকারের পালাবদল ঘটেছে। কখনো বিরোধ, কখনো নিজের দক্ষতায় হয়ে উঠেছেন চোখের মনি (Nandini Chakraborty Chief Secretary)। তিনি শুধু প্রশাসনিক মহলেই অনুপ্রেরণা তা কিন্তু নয়, তিনি পথ দেখিয়েছেন আগামী প্রজন্মকে। প্রশাসনিক কার্যে দক্ষ সেই রমণীর গল্প আজ শুনবেন এই প্রতিবেদন থেকে।
আরও পড়ুন : এসআইআর (SIR) হিয়ারিং কিভাবে হচ্ছে? │ SIR Hearing Process
পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিব পদে মনোনীত হলেন। এই প্রথম প্রশাসনিক শীর্ষপদে কোন মহিলা দায়িত্ব নিলেন।আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর নন্দিনী চক্রবর্তী দ্বিতীয় বাঙালি হিসাবে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। লীনা চক্রবর্তীর পর দ্বিতীয় স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নন্দিনী চক্রবর্তী কাজ করেছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করবার পর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কর্মজীবন শুরু করেন মহকুমা শাসকের পদ দিয়ে। একাধিক জেলার মহকুমা শাসকের পদ তিনি সামলেছেন। বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে বর্তমান সরকার – সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব। কেএমডিএ, শিল্প দপ্তর, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে ভূমিকা পালন করেছেন। যা রাজ্যের জন্য একটি অসামান্য ভ‚মিকা ও নারী নেতৃত্বের জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তাঁকে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম করেছে।
রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব প্রথম বাঙালি মহিলা হিসেবে নন্দিনী চক্রবর্তী গ্রহণ করলেন — যা নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক। তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, তাকে ঘিরে বিতর্ক অনেক। বর্তমান শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর সামলানোর সময় শাসকের রোষে পড়তে হয়। ২০২২-এ তাঁকে রাজভবনে প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস নন্দিনী চক্রবর্তীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়েছিলেন। তারপরেও তিনি সেখানে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার তাকে পর্যটন দপ্তরে স্থানান্তরিত করেন। বার্লিন থেকে পর্যটনে পুরস্কার এনে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। স্বরাষ্ট্র সচিব হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন দপ্তরে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান আজ তাঁকে প্রশাসনিক দপ্তরের শীর্ষ পদে বসিয়েছে (Nandini Chakraborty Chief Secretary)।
জগদীশ প্রসাদ মিনা রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। মনোজ পন্থ অবসর নেওয়ার পরও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকছেন; তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব পদে দায়িত্ব পালন করবেন। নন্দিনী চক্রবর্তীর এই নিয়োগ শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং সামাজিকভাবেও এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে — নারীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, ক্ষমতা ও দায়িত্বের সমতা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
Most Viewed Posts
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

