NCP MPs NDA Alliance নিয়ে জোর জল্পনা, মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বাংলার সাংসদরা। এনডিএর বৈঠকে আমন্ত্রণ ঘিরে প্রশ্ন, তাঁরা কি জোটের শরিক থাকবেন, নাকি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন?
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পর এবার দিল্লির রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। আগামী মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, দিল্লির বঙ্গভবনে বাংলার এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে এনসিপিআই সাংসদরা এনডিএর বৈঠকেও ডাক পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এনসিপিআই কি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএর শরিক হতে চলেছে, নাকি বিজেপির সঙ্গে সরাসরি একীভূত হওয়ার পথেই এগোচ্ছে? সাংসদ শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে অবশ্য আপাতত সরাসরি দলীয় একীভূতকরণের কোনও ইঙ্গিত নেই। তাঁর দাবি, মঙ্গলবারের বৈঠকে সাংসদদের বক্তব্য শোনা হবে এবং তাঁরা এতদিন যে কথাগুলি প্রকাশ্যে বলতে পারেননি, সেগুলিও এবার বলার সুযোগ পেতে পারেন। ফলে ২৮ জুলাইয়ের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে শুভেন্দু-এনসিপিআই বৈঠক, কী নিয়ে হবে আলোচনা?
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে দলের সাংসদদের বক্তব্য শোনা হবে এবং তাঁদের মতামত জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাংসদ শতাব্দী রায়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন সাংসদরা যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেননি, এবার সেই বিষয়গুলি নিয়ে মুখ খোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে এই বৈঠক শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা নেই। এনসিপিআই সাংসদরা বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি এনডিএর শরিক হিসেবে নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখবেন—এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বৈঠকের পরেই।
এনডিএর বৈঠকে ডাক, বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এনসিপিআই সাংসদদের এনডিএর বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। এই ঘটনাই রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও তীব্র করেছে।
কারণ, কোনও রাজনৈতিক দল বা সাংসদ গোষ্ঠীকে এনডিএর বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর অর্থ সাধারণত সেই জোটের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। ফলে এনসিপিআই সাংসদদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা কি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএর অংশ হতে চলেছেন?
তবে এনডিএর শরিক হওয়া এবং বিজেপিতে সরাসরি যোগ দেওয়া—এই দুটি বিষয় এক নয়। কোনও দল বা সাংসদ গোষ্ঠী নিজেদের পৃথক পরিচয় বজায় রেখেও এনডিএর শরিক হতে পারে। আবার অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দিলে দলের সাংগঠনিক পরিচয় আলাদা থাকে না। তাই মঙ্গলবারের বৈঠকে এনসিপিআই কোন পথ বেছে নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে কী ইঙ্গিত?
এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায়ের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে দলের সমস্ত সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী কথা বলবেন এবং তাঁদের কিছু বলার আছে কি না, তা জানতে চাইবেন।
শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে দলবদল সংক্রান্ত আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়। তাঁর দাবি, তাঁরা নিয়ম মেনেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি চূড়ান্ত নথি বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থাৎ এনসিপিআই সাংসদদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কিছু অংশ এখনও বাকি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের বৈঠক সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে এনডিএর দরজা—কীভাবে বদলাল সমীকরণ?
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বাংলার ১৯ জন সাংসদ দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি লোকসভায় এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছিলেন।
একইসঙ্গে এনডিএর শরিক হিসেবে সংসদে আসন বিন্যাসে তাঁদের জন্য পৃথক অবস্থান বা আসনের ব্যবস্থা করার আবেদনও করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে এনডিএর কাছে সাংসদ সংখ্যার দিক থেকে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি যুক্ত হতে পারে।
কারণ, দাবি অনুযায়ী, এনসিপিআইয়ের ১৯ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠীর সাংসদ সংখ্যা এনডিএর অন্যান্য শরিকদের তুলনায় বেশি হতে পারে। ফলে তাঁরা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএর শরিক হন, তাহলে সংসদীয় রাজনীতিতে জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই কারণেই এনসিপিআই সাংসদদের অবস্থান নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সর্বদল বৈঠক থেকে মঙ্গলবারের বৈঠক—কোন পথে এনসিপিআই?
বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে এনসিপিআইকে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজুর পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয় এবং এনসিপিআইয়ের প্রতিনিধিরা সেই বৈঠকে অংশও নেন।
এরপরই মঙ্গলবারের বৈঠক এবং এনডিএর বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে। কারণ, সংসদে একটি পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানানোর পর এবার এনডিএর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে পৌঁছয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এনসিপিআই যদি এনডিএর শরিক হিসেবে থাকে, তাহলে তারা নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখেই কেন্দ্রীয় জোটের অংশ হতে পারে। আর যদি বিজেপিতে সরাসরি যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বড় মাত্রায় বদলে যাবে।
তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়ার সময় আসেনি। মঙ্গলবারের বৈঠকেই হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হবে।
এনডিএর শরিক, নাকি বিজেপিতে যোগদান—নজর মঙ্গলবারের দিকে
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কী হতে চলেছে। ২৮ জুলাইয়ের বৈঠককে ঘিরে তাই নজর বাংলার পাশাপাশি দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও।
একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক, অন্যদিকে এনডিএর বৈঠকে আমন্ত্রণ—দুটি ঘটনাই এনসিপিআইয়ের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তবে দলের সাংসদরা শেষ পর্যন্ত এনডিএর শরিক হিসেবে নিজেদের আলাদা পরিচয় বজায় রাখবেন, নাকি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে আপাতত দলীয় একীভূতকরণের কোনও সরাসরি ঘোষণা নেই। বরং সাংসদদের মতামত শোনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার কথাই উঠে এসেছে।
তাই মঙ্গলবারের বৈঠক শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তবে এটুকু স্পষ্ট, ২৮ জুলাইয়ের বৈঠক বাংলার রাজনীতি থেকে দিল্লির সংসদীয় সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এনসিপিআইয়ের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
#NCPMPs #NDAAlliance #ShuvenduAdhikari #NDA #BJP #BengalPolitics #WestBengalPolitics #IndianPolitics #ParliamentPolitics #PoliticalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

