Nepal Flood Rescue: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ। উদ্ধারকাজে ভারতের সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেন বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। চারটি ত্রাণবাহী বিমান, সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল এবং দ্রুত পরিচয় শনাক্তকরণে সহযোগিতার কথাও জানাল নেপাল।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালের ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ হড়পা বানের পরও উদ্ধারকাজ চলছে। একের পর এক দেহ উদ্ধার হলেও এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতেই নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল ভারতের সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত থেকে ইতিমধ্যেই চারটি বিমান ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে এসেছে। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দলও নেপালে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ছয়শোর বেশি দেহ উদ্ধারের পর অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নেপালের হাসপাতালগুলিতে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে চলছে হাহাকার। নিখোঁজ নেপাল পুলিশের কর্মী হরেন্দ্র যাদবের খোঁজে তাঁর ভাই সুরেন্দ্র যাদব হাসপাতাল চত্বরে পোস্টার লাগিয়ে ঘুরছেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল সোমবার। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নেই।
ভারতের সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ নেপালের বিদেশমন্ত্রী
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের পর ভারত সরকার যে ভাবে নেপালকে সাহায্য করেছে, তার জন্য তাঁরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ইতিমধ্যেই ভারত থেকে চারটি বিমান নেপালে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছে।
উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে বিশেষজ্ঞ সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। সুড়ঙ্গ উদ্ধারের জন্য যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে, সেই দল ইতিমধ্যেই নেপালে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সহায়তা নেপালের চলমান উদ্ধারকাজকে আরও শক্তিশালী করছে।
বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রের সঙ্গে বিপর্যয়ের প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেপাল সরকারকে সম্ভাব্য সমস্ত ধরনের সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা চলছে।
দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও সাহায্য চাইছে নেপাল
বিপর্যয়ের পর ছয়শোর বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু অনেক দেহ এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগার সংক্রান্ত সহায়তা চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী।
বিশেষ করে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজদের পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ সহায়তার পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য নেপাল সক্রিয় ভাবে যোগাযোগ করছে।
হাসপাতালে হাসপাতালে নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ
নেপালের বিপর্যয়ের পর হাসপাতালগুলিতে এখন একের পর এক পরিবারের উৎকণ্ঠার ছবি সামনে আসছে। নিখোঁজ মানুষদের খোঁজে স্বজনেরা হাসপাতাল চত্বরে ঘুরছেন। তাঁদের হাতে দেখা যাচ্ছে নিখোঁজদের ছবি ও পরিচয়-সংক্রান্ত পোস্টার।
এমনই এক পরিবারের সদস্য সুরেন্দ্র যাদব তাঁর ছোট ভাই হরেন্দ্র যাদবের খোঁজে হাসপাতালে এসেছেন। হরেন্দ্র যাদব নেপাল পুলিশের কর্মী ছিলেন এবং রসুয়ার সিয়াপ্রভাসী এলাকায় তাঁর দায়িত্ব ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বিপর্যয়ের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। নেপাল পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও এখনও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর ছবি ও যোগাযোগের নম্বর দেওয়া পোস্টার হাসপাতাল চত্বরে টাঙিয়ে ভাইকে খুঁজছেন সুরেন্দ্র।
সোমবার শেষ কথা, তারপর আর কোনও যোগাযোগ নেই
সুরেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, ঘটনার আগে সোমবার শেষবার তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনও অপেক্ষা করছেন, যদি কোনও ভাবে হরেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
হাসপাতালে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের খোঁজে থাকা সুরেন্দ্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও সাহায্য বা নির্দিষ্ট খবর পাননি। তাঁর আবেদন, নেপাল প্রশাসন যেন দ্রুত তাঁর ভাইকে খুঁজে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।
হরেন্দ্র যাদবের পরিবারের পরিস্থিতি এখন নেপালের বহু নিখোঁজ মানুষের পরিবারের উৎকণ্ঠারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে উদ্ধারকাজ চলছে, অন্যদিকে প্রতিটি পরিবার অপেক্ষা করছে কোনও একটি খবরের জন্য।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭০৬, এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার
নেপালে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এখনও পর্যন্ত ৭০৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এর পরেও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না এবং নিখোঁজদের মধ্যে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
ভোতে কোশি নদীর হড়পা বানের ধাক্কায় বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। উদ্ধারকারী দলগুলি বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকার পাশাপাশি হাসপাতালগুলিতেও নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।
বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্যে যেমন ভারতের সাহায্যের জন্য নেপালের কৃতজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে, তেমনই একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে যে উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। নিখোঁজ মানুষদের খোঁজ, উদ্ধার হওয়া দেহের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দুর্গতদের সহায়তা—এই কাজগুলি এখনও চলছে। হাসপাতালগুলিতে স্বজনদের অপেক্ষা এবং কান্নার ছবিও সেই পরিস্থিতিরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।
নেপালের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলি নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৭৩৪টি দেহ ও মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ২,৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ এখনও চলছে।
নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, বিদেশি পর্যটক এবং অন্যান্য মানুষ রয়েছেন। ফলে নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
#NepalFlood #NepalFloodRescue #BhoteKoshiFlood #NepalDisaster #IndiaNepalRelief #NepalRescue #ShishirKhanal #NepalMissingPersons
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

