Rashtrapati Bhavan History: রাষ্ট্রপতি ভবনের ইতিহাস শুধু একটি ভবনের গল্প নয়, বরং ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন ভারতের উত্থানের প্রতিচ্ছবি। স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মেলবন্ধনে তৈরি এই ভবনের প্রতিটি কোণেই লুকিয়ে রয়েছে বিস্ময়কর অতীত ও গৌরবময় বর্তমানের কাহিনি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি-এর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রপতি ভবন শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়—এটি ইতিহাস, রাজনীতি, ঔপনিবেশিকতা এবং স্বাধীনতার এক জীবন্ত দলিল। আজ যেখান থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দেশ পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন, সেই ভবনের শিকড় গেঁথে আছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষমতা প্রদর্শনের সময়ে।
ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ থেকে শুরু করে দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিভা পাটিল, এ পি জে আব্দুল কালাম এবং প্রণব মুখোপাধ্যায়—এই সব বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের পদচারণায় এই ভবন আজ এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রতীক।
এই প্রতিবেদন পড়লে আপনি জানতে পারবেন—কীভাবে ঔপনিবেশিক শাসনের অহংকার থেকে জন্ম নেওয়া এই স্থাপত্য আজ স্বাধীন ভারতের গর্ব হয়ে উঠেছে, এবং কীভাবে সাধারণ ভারতীয়দের শ্রমে গড়ে উঠেছিল এই বিশাল স্থাপত্য।
আরও পড়ুন : কুড়ি বছরের যুবকের সঙ্গে ভারতীয় লিপির অমর যোগসূত্র: ইতিহাস আজও যাকে ভুলতে পারেনি
রাজধানী বদলের বিতর্ক
১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে যে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে নতুন করে নতুন দিল্লি-তে স্থাপন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল। কলকাতা তখন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠছিল, যা ব্রিটিশদের কাছে অস্বস্তিকর ছিল। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। কারণ, ভারতীয়দের মতামত ছাড়াই ব্রিটিশ শাসকরা ঠিক করছিলেন কীভাবে একটি নতুন রাজধানী গড়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, এই বিশাল প্রকল্পের জন্য অর্থ আসছিল ভারতীয়দের করের টাকা থেকে।
তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই শুরু হয় নতুন রাজধানী নির্মাণের কাজ। এটি ছিল শুধু প্রশাসনিক স্থানান্তর নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা: ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভারতের উপর তাদের আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
স্থাপত্যের নকশায় ইউরোপীয় ভাবনা, ভারতীয় ছোঁয়া
রাষ্ট্রপতি ভবনের মূল নকশা তৈরি করেন বিখ্যাত ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন হারবার্ট বেকার। এই ভবনের স্থাপত্যে ইউরোপীয় ক্লাসিক্যাল স্টাইলের সঙ্গে ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা যায়। বিশাল গম্বুজ, প্রশস্ত সিঁড়ি, খোলা প্রাঙ্গণ—সব কিছুতেই রয়েছে সাম্রাজ্যিক মহিমার ছাপ।
তবে শুধু ইউরোপীয় ভাবনা নয়, ভারতীয় মোটিফও এতে জায়গা পেয়েছে। রাজস্থানি ঝরোখা, মুঘল বাগান, এবং ভারতীয় কারুকার্যের ছাপ এই ভবনকে একটি অনন্য পরিচয় দিয়েছে। এই স্থাপত্য যেন একদিকে ব্রিটিশ শক্তির প্রতীক, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্কৃতির অমলিন ছাপ বহন করে।
রাষ্ট্রপতি ভবন নির্মাণে প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছিল। এই বিশাল প্রকল্পে হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিক, কারিগর এবং শিল্পী কাজ করেছিলেন। প্রায় ৭০ কোটি ইট এবং বিপুল পরিমাণ পাথর ব্যবহার করে এই ভবন তৈরি হয়। কিন্তু এই নির্মাণের পিছনে যে মানবিক গল্প রয়েছে, তা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। এই শ্রমিকদের অনেকেই ছিলেন সাধারণ গ্রামাঞ্চলের মানুষ, যারা কঠোর পরিশ্রম করে এই স্থাপত্যকে বাস্তব রূপ দেন। তাদের শ্রম, ঘাম এবং দক্ষতা ছাড়া এই ভবন কখনোই তৈরি সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ, ব্রিটিশদের পরিকল্পনা হলেও, এই ভবনের আসল নির্মাতা ছিলেন ভারতীয়রাই।
রাষ্ট্রপতি ভবনের স্থাপত্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই নজরে আসে এর বিশাল গম্বুজ। এই গম্বুজটির নকশা মূলত অনুপ্রাণিত হয়েছে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল-এর সপ্তদশ শতাব্দীর অর্ধগোলাকার গম্বুজ থেকে। তবে শুধু পাশ্চাত্যের প্রভাবেই এটি সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরবর্তীকালে এই গম্বুজের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়, যেখানে ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সাঁচী স্তূপ-এর তৃতীয় শতাব্দীর স্তূপের আকৃতির অনুকরণ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের গম্বুজ এক অনন্য রূপ পায়, যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের স্থাপত্যশৈলীর এক অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা যায়। শুধু গম্বুজই নয়, পুরো ভবনের নকশাতেই এই সংমিশ্রণ স্পষ্ট। গ্রিক, রোমান এবং ভারতীয় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যগুলি এখানে এমনভাবে একত্রিত হয়েছে, যা এই ভবনকে বিশ্বমানের এক স্থাপত্য নিদর্শনে পরিণত করেছে।
প্রায় ১৫৪ হেক্টর জমির উপর বিস্তৃত এই বিশাল ভবনটি ১৯২৯ সালে সম্পূর্ণ হয়। এর পিছনে রয়েছে সুদৃশ্য মুঘল গার্ডেন, যা আজও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। প্রথমে এটি ছিল ব্রিটিশ ভাইসরয়ের সরকারি বাসভবন। কিন্তু স্বাধীনতার পর এর পরিচয়ে আসে বড় পরিবর্তন। এটি ভারতের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে পরিণত হয় এবং নতুন নাম পায়—রাষ্ট্রপতি ভবন। ১৯৫০ সালে ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখানে বসবাস শুরু করেন। সেই মুহূর্ত থেকেই এই ভবন ঔপনিবেশিকতার প্রতীক থেকে গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হয়। এইভাবেই রাষ্ট্রপতি ভবন শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশালতা এবং স্থাপত্যগত জটিলতা তার প্রতিটি অংশেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই ভবনে মোট প্রায় ৩৪০টি কক্ষ রয়েছে, যা একে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রপ্রধানের বাসভবনে পরিণত করেছে। পাশাপাশি রয়েছে ৭৪টি বারান্দা, ১৮টি সিঁড়ি এবং প্রায় ৩৭টি ফোয়ারা, যা পুরো স্থাপত্যকে এক অনন্য সৌন্দর্য প্রদান করে।
ভবনের অলংকরণেও রয়েছে সূক্ষ্ম শিল্পকৌশল। জটিল খোদাই কাজ, সূক্ষ্ম জালি (Jali) নকশা এবং স্তম্ভগুলির মাথায় ভারতীয় মন্দিরের ঘন্টা-আকৃতির ক্যাপিটাল—সব মিলিয়ে এটি ভারতীয় ঐতিহ্যের গভীর প্রভাবকে তুলে ধরে।
এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯১২ সালে এবং সম্পূর্ণ হয় ১৯২৯ সালে। নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, যার মধ্যে মুঘল গার্ডেন এবং কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণের খরচও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময়ের হিসাবে এই ব্যয় যথেষ্ট বড় হলেও, স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স উল্লেখ করেছিলেন যে এই খরচ দু’টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের খরচের থেকেও কম ছিল। বর্তমান মূল্যে এই প্রকল্পের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২.৬৫ বিলিয়ন টাকা। নির্মাণকাজে প্রায় ২৯,০০০ শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিপুল পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল।
কেমন এই মুঘল গার্ডেন?
রাষ্ট্রপতি ভবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং দর্শনীয় অংশগুলির মধ্যে অন্যতম হলো এর বিখ্যাত বাগান—মুঘল গার্ডেন, যা বর্তমানে “অমৃত উদ্যান” নামে পরিচিত। এই বাগানটি শুধু একটি উদ্যান নয়, বরং প্রকৃতি, নকশা এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই বাগানটি রাষ্ট্রপতি ভবনের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। এর নকশা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লেডি এডউইন লুটিয়েন্স-এর। তাঁর পরামর্শেই এই বাগানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে মুঘল এবং ভারতীয় বাগানশৈলীর এক চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।
১৯২৯ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনের সঙ্গে সঙ্গেই এই বাগানটির নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং প্রথমদিকে এটি “মুঘল গার্ডেন” নামেই পরিচিত ছিল। তবে ২০২৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এর নতুন নামকরণ করেন—“অমৃত উদ্যান”। এই নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাগানটির ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এক নতুন পরিচয় যুক্ত হয়েছে।
এই বাগানের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বৈচিত্র্যময় ফুলের সমাহার। এখানে গোলাপসহ প্রায় ২০০ ধরনের ফুলের গাছ রয়েছে, যা বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রঙে বাগানটিকে রাঙিয়ে তোলে। পাশাপাশি এখানে রয়েছে “সিঙ্কিং ফ্লাওয়ার বেড”, “হার্বাল গার্ডেন” এবং “বাংলা ফিউশন গার্ডেন”—যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও উদ্যানশৈলীর বিশেষ ছাপ দেখা যায়।
এছাড়াও বাগানের একটি বিশেষ অংশে রয়েছে জাপানি গার্ডেন এবং অর্কিড হাউস, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই অংশগুলো বাগানটিকে আরও বৈচিত্র্যময় এবং আন্তর্জাতিক মাত্রা প্রদান করেছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের কয়েকটি বিখ্যাত হল ভারতের রাষ্ট্রপতির সরকারি অনুষ্ঠান ও সভাসমিতির কেন্দ্রবিন্দু। এগুলো ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যে নির্মিত এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান হলগুলির মধ্যে দুর্বার হল, অশোক হল এবং নদ্বয়ন হল অন্যতম।
দুর্বার হল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থান, যা ২৫,০০০ বর্গফুট আয়তনের এবং ৬০০ জনের জন্য অংশগ্রহণ সম্ভব। এর সাদা মার্বেলের গম্বুজ এবং খোলা স্থাপত্য দর্শনীয়। এখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ হয় এবং জাতীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অশোক হল ভবনের সবচেয়ে বড় হল, যা ৩৩,০০০ বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এবং ২,৫০০ জন ধারণ করতে পারে। এটি সম্মেলন, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়। নামকরণ অশোক সম্রাটের নামে এবং এর খোলা স্থান বৌদ্ধ স্থাপত্যের প্রভাব বহন করে।
নদ্বয়ন হল বৈঠক ও ছোট অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত, যা গঙ্গা-যমুনার সংযোগের প্রতীক। এছাড়া আশির্বাদ হল রাষ্ট্রপতির অভ্যর্থনার জন্য এবং ব্যাঙ্কেট হল রাষ্ট্রীয় ভোজের জন্য পরিচিত। এই হলগুলি ভবনের মহিমা ও ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।
রাষ্ট্রপতি ভবন নির্মাণে কেন এত দেরি হয়েছিল?
রাষ্ট্রপতি ভবনের নির্মাণকাজে এত দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল, যা এই বিশাল প্রকল্পের জটিলতা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্পষ্ট করে তোলে।
এই ভবনটি ছিল অত্যন্ত বৃহৎ এবং উচ্চাভিলাষী একটি স্থাপত্য প্রকল্প। প্রায় ১৫৪ হেক্টর জমির উপর বিস্তৃত এই বিশাল কমপ্লেক্সে শুধু মূল ভবন নয়, বরং বাগান, কর্মচারীদের কোয়ার্টার, রাস্তা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোও তৈরি করা হচ্ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্মাণে বেশি সময় লাগা অনিবার্য ছিল।
স্থাপত্যের নকশা ছিল অত্যন্ত জটিল। এডউইন লুটিয়েন্স-এর পরিকল্পনায় ইউরোপীয়, মুঘল এবং ভারতীয় শৈলীর সমন্বয় ঘটানো হয়েছিল। এই সূক্ষ্ম নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজে বিশেষ যত্ন নিতে হয়েছে—যেমন জালি কাজ, খোদাই, স্তম্ভের নকশা—যা সময়সাপেক্ষ ছিল।
নির্মাণের সময় ব্যবহৃত প্রযুক্তি আজকের মতো আধুনিক ছিল না। সেই সময়ে অধিকাংশ কাজই হাতে করতে হতো, এবং প্রায় ২৯,০০০ শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে কাজের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর ছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮)-এর প্রভাবও এই নির্মাণকাজে পড়েছিল। যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ, উপকরণের অভাব এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার বদলে যাওয়ায় নির্মাণকাজ কিছু সময়ের জন্য ধীর হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রপতি ভবন কীভাবে পরিদর্শন করা যায়?
রাষ্ট্রপতি ভবন পরিদর্শন করতে চাইলে আগে থেকেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অনলাইনে টিকিট বুক করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং খুবই সহজভাবে করা যায়।
প্রথমেই আপনাকে Rashtrapati Bhavan Official Website (rashtrapatibhavan.gov.in) এ গিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেখানে আপনার পছন্দের তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে হবে এবং সঙ্গে কতজন সদস্য যাবেন, তাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
পরিদর্শনের সময়সূচি সাধারণত সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকে, যাতে সাধারণ নাগরিকরা সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারেন। বুকিং সম্পন্ন হলে একটি কনফার্মেশন ইমেল আপনার কাছে পাঠানো হয়। সেই ইমেলের প্রিন্টআউট নিয়ে পরিদর্শনের দিন সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশপথ রয়েছে—গেট নম্বর ৩৫ দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হয়। এখানে ফটোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাই ভিজিটের সময় এই নিয়মটি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুর এবং অডিও ট্যুরের বিশেষ সুবিধাও রয়েছে, যা এই ঐতিহাসিক স্থানের প্রতিটি অংশ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে সাহায্য করে। এছাড়াও শিশু ও বয়স্কদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে এই ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতি সোমবার, মঙ্গলবার এবং জাতীয় ছুটির দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতি ভবন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে।
এই প্রকল্পটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা—তাই কোনো তাড়াহুড়ো না করে নিখুঁতভাবে নির্মাণের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই সমস্ত কারণ মিলিয়েই রাষ্ট্রপতি ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল।
এই ভবনের প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি করিডর যেন ইতিহাসের সাক্ষী—ঔপনিবেশিক শাসন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, এবং আধুনিক ভারতের বিকাশের গল্প বলে। আজকের দিনে রাষ্ট্রপতি ভবন ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি, স্থায়িত্ব এবং ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- বৃদ্ধ বয়সে ডিভোর্স চাইছেন পঙ্কজ-ডিম্পল! মাঝখানে ফেঁসে গেলেন অপরশক্তি খুরানা?
- ‘গুজারিশ’-এর ইথান মাসকারেনহাস আজ বাস্তব! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, দেশে প্রথমবার ইউথেনেশিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যুর) অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের
- স্বেচ্ছামৃত্যু কি ভারতে বৈধ? স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন কে করতে পারেন? ভারতে ইউথানেসিয়া নিয়ে কী বলছে আইন
- মাছ-মাংস না খেলেও শরীর থাকবে ফিট! জেনে নিন, ৩টি হেলদি সুস্বাদু নিরামিষ রেসিপি
- যোটক বিচার কি সত্যিই কাজ করে? বিয়ের আগে আসলে কোনটা জরুরি, কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

