Panihati Election Tension: মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণাকে বুকে চেপেই এবার ভোটের ময়দানে তিনি। কিন্তু পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ বুথে পৌঁছতেই উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত আগস্ট রাতের পর থেকে তাঁর পরিচয় শুধুই ‘অভয়ার মা’। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আর শুধু এক শোকস্তব্ধ মা নন, তিনি পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী— রত্না দেবনাথ। আজ, বুধবার, রাজ্যে দ্বিতীয় দফার মেগা নির্বাচনে পানিহাটির ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই ঘটল এক নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত ঘটনা। বুথ পরিদর্শনে গিয়ে শাসকদলের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু এই চরম উত্তেজনার মাঝে ভোট দিয়ে বেরিয়ে কী বললেন রত্না দেবী? কেনই বা পানিহাটির মতো এলাকায় এমন ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল?
পানিহাটির ১৬৫ নম্বর বুথে বিক্ষোভ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান
আজ সকাল থেকেই রাজ্যের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। সকালের দিকে ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও, বেলা বাড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। এদিন সকালে ১৬৫ নম্বর বুথে নিজের এলাকার ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। কিন্তু তাঁর গাড়ি নিউ আদর্শ নগর এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে।
অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী-সমর্থক তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রার্থীর গাড়ি লক্ষ্য করে ক্রমাগত ‘গো ব্যাক’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রত্না দেবনাথের গাড়ি এগোতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগানও তোলা হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে তৃণমূল ও বিজেপি— দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেন দুই দলের কর্মীরা। রাজনৈতিক এই সংঘাতের জেরে ওই এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। কিন্তু উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে তাঁদের রীতিমতো বেগ পেতে হয়। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে জওয়ানদের প্রবল বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। লাঠির ঘায়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও এলাকার পরিবেশ থমথমে হয়ে পড়ে। বিজেপি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাল্টা সরব হয় গেরুয়া শিবির।
ভোট দিয়ে কী বললেন অভয়ার মা?
এত বিক্ষোভ, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং উত্তেজনার মাঝেও রত্না দেবনাথের চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত নীরব দৃঢ়তা এবং চাপা যন্ত্রণা। বুথ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আবেগঘন অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। দুই বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, “আগেরবার যখন ভোট দিতে এসেছিলাম, আমরা তিনজন একসঙ্গে এসেছিলাম। আজ আমার মেয়ে আমার পাশে নেই। আমার আর কিছু বলার নেই। আগামী ৪ তারিখ এই রাজ্যের মানুষই ব্যালট বক্সে সব জবাব দেবে।”
নিজের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে রত্না দেবী আরও বলেন, “এই লড়াই আমি শুধু নিজের জন্য লড়ছি না। এই লড়াই আমার মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য এবং সারা পশ্চিমবঙ্গ তথা বিশ্বের প্রত্যেকটি মেয়ের নিরাপত্তার জন্য। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা আজ সবার সামনে প্রকট। আমার মেয়ের সঙ্গে কেন এমন হল, কী ভাবে হল— আমি জানতে চাই এই অন্যায়ের শেকড় ঠিক কত গভীরে লুকিয়ে আছে।”
আরও পড়ুন: বুথ এবার বাড়ির নিচেই! ৯০% ভোট কাস্টের লক্ষ্যে কমিশনের চমক
আরজি করের ছায়া এবং রাজনৈতিক সমীকরণ
আরজি করের ঘটনার পর এটিই রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। রত্না দেবনাথের সরাসরি রাজনীতির আঙিনায় পদার্পণ এবং পানিহাটির প্রার্থী হওয়া এই কেন্দ্রটিকে গোটা রাজ্যের নজরে নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের আবেগকে হাতিয়ার করে রত্না দেবী যখন বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়েছিলেন, তখন থেকেই শাসক দলের অন্দরে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছিল। আরজি কর ইস্যু যে শাসকদলের জন্য একটি বড় ধাক্কা, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আজকের এই বিক্ষোভ সেই রাজনৈতিক উত্তাপ ও অস্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
বিরোধী শিবিরের দাবি, আরজি করের ঘটনার বিচার না হওয়া সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, তা চাপা দিতেই ভয় দেখিয়ে রত্না দেবনাথকে আটকানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। অন্যদিকে, শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি প্রার্থী নিজেই এলাকায় উসকানি ছড়াচ্ছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করছেন, যার প্রতিবাদ করেছেন সাধারণ মানুষ।
পানিহাটি জুড়ে এখন চাপা উত্তেজনা। আরজি করের ঘটনার পর এই নির্বাচন কি কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই, নাকি তা সামাজিক ন্যায়বিচারের গণভোট— তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে। রত্না দেবনাথের এই একক লড়াইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন কতটা, তা স্পষ্ট হবে ফলাফলের দিন। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনে পানিহাটির এই হিংসাত্মক চিত্র রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর আরও একবার বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
আপনার কী মনে হয়? আরজি কর ইস্যু কি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে চলেছে? আপনার মতামত আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। রাজ্য রাজনীতির প্রতিটি খুঁটিনাটি খবর পেতে চোখ রাখুন NewsOffBeat-এ।
Most Viewed Posts
- ‘মায়া ভরা রাতি’ আবার ফিরছে—অরিজিৎ সিং-এর কণ্ঠে নতুন করে জেগে উঠবে এক চিরন্তন গান
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের ঝড়! ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলছে যুব মুখ?
- বিতর্ক পিছু ছাড়েনি, মামলা মাথায় নিয়েই ভোটের ময়দানে! তৃণমূল-বিজেপির হেভিওয়েটদের ভোটযুদ্ধ ঘিরে উত্তাপ
- বাড়িতে রাখুন এই নয় গাছ, সৌভাগ্য ফিরবেই

