Shatarup Ghosh Mamata Banerjee: দুর্নীতি, দলত্যাগ, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ন্যাকাষষ্ঠী’ বলে কটাক্ষ করলেন সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ। এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। বিশেষ করে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নিজেকে বিষয়টি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে ‘ন্যাকাষষ্ঠী’ বলে কটাক্ষ করেন।
শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁর দলের যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাঁদের অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িত এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতেই বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। এই মন্তব্যের জবাবে সিপিআই(এম) নেতা প্রশ্ন তোলেন, যদি ওই নেতারা সত্যিই দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তাহলে তাঁদের এতদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছিল কেন?
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন যে তিনি নাকি জানতেনই না দলের অনেক নেতা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এই মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে শতরূপ ঘোষ বলেন, ‘ন্যাকাষষ্ঠী! গোটা বাংলা জানত কারা দুর্নীতি করছে, শুধু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেন না—এ কথা মানুষ বিশ্বাস করবে কীভাবে?’
এরপর তিনি আরও বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে আজ দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তাঁদের অনেককেই বিধায়ক, সাংসদ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে বসিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই তাঁর দাবি।
শতরূপ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, একসময় যাঁদের সাধারণ জীবনযাপন ছিল, ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সম্পত্তি ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। রাজ্যের মানুষ সেই পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়ার পর যাঁরা বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন, তাঁদের নিয়ে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কিন্তু সেই নেতাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাই আজ তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলা হলেও, সেই দায় এড়ানো যায় না বলেই মন্তব্য করেন শতরূপ ঘোষ।
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনেও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন সিপিআই(এম) নেতা। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও একসময় কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন এবং পরে বিজেপির সঙ্গে জোট করে কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রী হয়েছিলেন। তাই অন্যদের বিশ্বাসঘাতক বলার আগে নিজের রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও মনে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শতরূপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন থমকে গিয়েছে, কৃষকরা ন্যায্য দাম পাননি, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে এবং বিরোধীদের আন্দোলন দমনে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর দাবি, মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করলে বহু ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বহু সরকারি বিদ্যালয় নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিজেপির উত্থান প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন শতরূপ ঘোষ। তিনি দাবি করেন, বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। অথচ বর্তমানে বিজেপি রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলির একটি হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং নীতির ফলেই বিজেপির এই উত্থান সম্ভব হয়েছে।
বক্তৃতার শেষদিকে শতরূপ ঘোষ ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, যাঁদের আজ দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিশ্বাসঘাতক বলা হচ্ছে, তাঁদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার দায়ও শাসক দলেরই। তাই এখন নিজেকে সবকিছু থেকে আলাদা দেখানোর চেষ্টা করে লাভ হবে না। ‘ন্যাকাষষ্ঠী’ করে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবেন না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শতরূপ ঘোষের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে এবং অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
#ShatarupGhosh #MamataBanerjee #CPIM #WestBengalPolitics #PoliticalControversy #TMC #BJP #BengalNews
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

