নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে এবার রাজনৈতিক বিতর্ক। নিজের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন বিকাশরঞ্জন। সেখানে হামলাকারীদের ‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই মন্তব্য নিয়েই এবার তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু দাবি করেন, হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, হামলার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানানোয় কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে হামলাকারীদের যুক্ত করে সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করায় আপত্তি রয়েছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে ওই মন্তব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে কী লিখেছিলেন?
ঘটনার সূত্রপাত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। নিজের বাড়িতে হামলার ঘটনার কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সকাল প্রায় পাঁচটা নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে করে তাঁর বাড়ির সামনে আসে। তাঁর দাবি, দুষ্কৃতীরা মদের বোতল ছুড়ে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়।
বিকাশরঞ্জন জানান, ওই ঘটনায় তাঁর বাড়ির এক কর্মী অল্পের জন্য রক্ষা পান। হামলার বিবরণ দিতে গিয়ে সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি ‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।
বাড়িতে হামলার অভিযোগের পাশাপাশি হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যই পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বিকাশরঞ্জনের ওই পোস্টের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, হামলার ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি যুক্ত করায় আপত্তি রয়েছে তাঁর।
হামলার ঘটনায় গ্রেফতার এক যুবক, তৃণমূল-যোগের দাবি শুভেন্দুর
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
তাঁর দাবি, ঘটনার কথা জানার পর তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় বাপ্পা গুছাইত নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই যুবক সুশান্ত গুছাইতের ছেলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, গ্রেফতার হওয়া যুবক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে একাধিক ছবি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে শুভেন্দুর এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুভেন্দু জানান, হামলার ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনাকে সমর্থন করা যায় না। অভিযুক্ত যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত থাকুন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ মন্তব্য ঘিরে বিকাশরঞ্জনকে নিশানা
হামলার ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পরই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমাজমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বিকাশরঞ্জনকে বামপন্থী রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র এবং প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে হিন্দুবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য হামলাকারীদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।
শুভেন্দুর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলে সেই ঘটনার অভিযোগ জানানো এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত না করে একটি ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, বিকাশরঞ্জনের পোস্টে ব্যবহৃত ওই শব্দবন্ধকে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসে আঘাত করে। সেই কারণেই বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে বিকাশরঞ্জনের মন্তব্যের আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে শুভেন্দু যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি তাঁর নিজস্ব দাবি। এই অভিযোগের সত্যতা বা আইনি গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য সামনে আসেনি।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোস্ট সংশোধনের দাবি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমাজমাধ্যমের পোস্টে আপত্তিকর বলে চিহ্নিত শব্দটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, বিকাশরঞ্জন চাইলে বাড়িতে হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত পোস্টটি রাখতে পারেন। কিন্তু হামলাকারীদের বোঝাতে ব্যবহৃত ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি সরিয়ে নিতে হবে।
শুভেন্দু বলেন, তাঁর সাংবাদিক বৈঠক দেখার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই শব্দটি না সরালে বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে গড়ফা ও কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, প্রয়োজন হলে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সমাজমাধ্যম সংস্থাকে চিঠি দিয়ে পোস্টটি সরানোর অনুরোধ জানানো হবে।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য একজন আইনজীবী হলেও তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার অভিযোগের তদন্ত এবং সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্যের বিষয়টি পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে। বাড়িতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পোস্টের নির্দিষ্ট শব্দবন্ধ নিয়েও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
হামলার অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনায় এখন মূল বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্ট।
একদিকে বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে মদের বোতল ছুড়ে জানালার কাচ ভেঙেছে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।
এর পাশাপাশি হামলাকারীদের ‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ বলে উল্লেখ করায় বিকাশরঞ্জনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, পোস্ট থেকে ওই শব্দটি সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের দাবি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নতুন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে কি না, অথবা সমাজমাধ্যমের পোস্টটি সরানোর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ জারি হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, অভিযুক্তের গ্রেফতারি নিয়ে শুভেন্দুর দাবি এবং সমাজমাধ্যমের মন্তব্য ঘিরে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি—তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

