TMC Defection Operation: একাধিক সাংসদ ও বিধায়কের দলত্যাগের ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ভাঙনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, সেই প্রশ্নে উঠে আসছে বিভিন্ন বিজেপি নেতার নাম এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কদের দল ছাড়ার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা। এই তথাকথিত ‘অপারেশন তৃণমূল’-এর নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকের ছবি সামনে এসেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ দলত্যাগীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করেছেন।
এই গোটা ঘটনায় উঠে এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশের নাম। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দলের সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলাতে ভূমিকা নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএম রমেশ দাবি করেন যে তিনি তৃণমূলের বহু সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এই পুরো রাজনৈতিক অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পেশায় ব্যবসায়ী সিএম রমেশ জানান, তৃণমূলের বহু সাংসদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। সংসদের ক্যান্টিনে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ফলে তাঁদের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২০ সালে তাঁর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানেও তৃণমূলের একাধিক সাংসদ উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর আরও দাবি, তৃণমূলের সাংসদদের দল ছাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়নি। বরং তাঁদের দুটি আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল—প্রথমত, তাঁদের সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে এবং দ্বিতীয়ত, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দল থেকে নিজেদের আলাদা করার জন্য একটি নথিতে স্বাক্ষর করার বিষয়টিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সিএম রমেশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বক্তব্য, সিএম রমেশ নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করতেই এই ধরনের মন্তব্য করছেন। মহুয়া আরও বলেন, অতীতেও ২০১৯ সালে তেলুগু দেশম পার্টির ভাঙনের সময় সিএম রমেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতাদের একাংশের দাবি, দলবদলের আগে কয়েকজন সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে সিএম রমেশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এমনকি সতাব্দী রায়ের বাসভবনে আয়োজিত একটি নৈশভোজে এই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল বলেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের এই ভাঙন শুধুমাত্র দলীয় সংকট নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির কৌশল ও পর্দার আড়ালের সমীকরণের বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে এই সমস্ত দাবি ও পাল্টা দাবির সত্যতা রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
#TMCDefection #TrinamoolCongress #WestBengalPolitics #MamataBanerjee
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

