শীতে রোদের তাপ কম হয়। তখন ভিটামিন ডি-র ঘাটতির (Vitamin D Deficiency Signs) লক্ষণ দেখা যায় — ক্লান্তি, হাড়ের ব্যথা, মনমরা ভাব ও ইমিউনিটি দুর্বলতা। জেনে নিন শরীরে ভিটামিন ডি কমার লক্ষণ ও ঘাটতি পূরণের উপায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শীত মানেই সূর্যের আলো কমে যাওয়া। কিন্তু সেই সঙ্গে নীরবে কমে যেতে পারে এমন এক উপাদান, যা আমাদের শরীরের অস্থি, মস্তিষ্ক এবং ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখে — ভিটামিন ডি। শহুরে জীবনে সারাদিন ঘরে বা অফিসে কাটানো, রোদে না বেরোনো কিংবা অতিরিক্ত স্কিন প্রোটেকশন ব্যবহার — সব মিলিয়ে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি এখন নীরব মহামারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছেন। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এই রিপোর্টে জানুন — কীভাবে বোঝা যাবে শরীরে ভিটামিন ডি কমছে, কী কী ভিটামিন ডি-র ঘাটতির (Vitamin D Deficiency Signs) লক্ষণ রয়েছে।
ভিটামিন ডি কীভাবে কাজ করে শরীরে?
ভিটামিন ডি আসলে এক ধরনের ফ্যাট-সোলিউবল ভিটামিন, যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি যখন ত্বকে পড়ে, তখন শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করে। এই ভিটামিন আমাদের হাড়, দাঁত, পেশি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখতে সাহায্য করে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে “সানশাইন ভিটামিন” বলা হয়, কারণ এর মূল উৎস সূর্যের আলো। কিন্তু আমরা যত বেশি সময় ঘরের ভেতর কাটাই, ততই শরীরে এর উৎপাদন কমে যায়।
আরও পড়ুন : Protein Powder vs Natural Protein│ জানেন কি কোন প্রোটিন বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর ?
শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় (Vitamin D Deficiency Symptoms)
ভিটামিন ডি-র ঘাটতি ধীরে ধীরে দেখা দেয়, তাই অনেকেই তা প্রথমে বুঝতে পারেন না। ভিটামিন ডি-র ঘাটতির (Vitamin D Deficiency Signs) লক্ষণগুলি নিচে দেওয়া হল —
- স্থায়ী ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি আপনি বারবার অবসাদে ভোগেন, তা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারন হতে পারে।
- হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা: বিশেষ করে পিঠ ও কোমরে ব্যথা এই ঘাটতির ক্লাসিক লক্ষণ।
- ডিপ্রেশন বা মনমরা ভাব: গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি মুড রেগুলেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ঘনঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ: ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে সংক্রমণ বাড়ে, যা এই ভিটামিনের অভাবের কারণে হতে পারে।
- চুল পড়া ও ত্বকের সমস্যা: হরমোন ব্যালান্স নষ্ট হলে ত্বক শুষ্ক, ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
কেন শীতে ভিটামিন ডি-এর অভাব বাড়ে?
শীতের সময়ে সূর্যের রোদ কম পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ঠান্ডা এড়াতে ঘরে থাকা বেড়ে যায়। ফলে ত্বকে সূর্যের আলো পড়ার সুযোগ কমে। পাশাপাশি মোটা জামাকাপড় ও সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারও বাধা দেয় UVB রশ্মিকে।
বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশে দেখা গেছে — শহরাঞ্চলের ৭০% মানুষের শরীরে শীতকালে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যায়।

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের প্রাকৃতিক উপায়
রোদে সময় কাটান: সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ১৫-২০ মিনিট রোদে থাকা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন:
- ফ্যাটি মাছ (স্যালমন, সার্ডিন, টুনা)
- ডিমের কুসুম
- ফোর্টিফায়েড দুধ ও কমলালেবুর জুস
- মাশরুম
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত গ্রহণ করলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। তাই রক্ত পরীক্ষা করে ঘাটতির মাত্রা জানা জরুরি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
- বয়স্ক মানুষ
- যারা দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি ঘরের ভেতর থাকেন
- গাঢ় ত্বকের মানুষ (যাদের ত্বকে মেলানিন বেশি থাকে)
এদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির (Vitamin D Deficiency Signs) লক্ষণগুলি দ্রুত নজরে আনা দরকার, যাতে সময়মতো প্রতিকার সম্ভব হয়।
গবেষণা যা বলছে
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে যে, ভিটামিন-ডির ঘাটতি শুধু হাড়ের সমস্যা নয় — অনেক সময় আমাদের শরীরেই নিভৃত “নীরব সমস্যা” হয়ে থাকে। ২৫-hydroxyvitamin-D (25(OH)D) রক্ত পরীক্ষায় যদি মাত্রা খুব কম হয় (ধরুণ ১২ ng/mL বা তার নিচে), তাহলে সেটিকে ঘাটতি (Vitamin D Deficiency), আর মাঝে মাত্রা হলে insufficiency ধরা হয়।
রেগুলার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাত্রা কম থাকলে হাড় দুর্বল হওয়া ছাড়াও পেশি শিথিলতা, প্রায়ই ক্লান্তি, ব্যথা, সহনশীলতা কমে যাওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এখন দেখা যাচ্ছে — যারা নিয়মিত রোদ পান না, যারা গাঢ় ত্বকের, বা যারা পুরনো বয়সে — তাদের ভিটামিন-ডি ঘাটতির (Vitamin D Deficiency) ঝুঁকি অনেক বেশি। এ কারণেই, রূপ-দুইভাবে — সময় মতো রোদে বের হওয়া এবং প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ভিটামিন-ডি মাত্রা জানার বিকল্প নেই। কারণ অনেক সময় ঘাটতি কোনো লক্ষণ দেখায় না, কিন্তু এর প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরের মূলতন্ত্র যেমন হাড়, পেশি আর রোগ প্রতিরোধ শক্তিতে পড়ে যায়।
শেষ কথা (Vitamin D Deficiency Symptoms)
ভিটামিন ডি কেবল হাড় নয়, মস্তিষ্ক, ত্বক, ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্যও অপরিহার্য। শীতের অলস সকালে একটু রোদে দাঁড়ানোই হতে পারে শরীর ও মনের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ। মনে রাখবেন — এই ঘাটতি যতটা নীরব, ফলাফল ততটাই ভয়াবহ হতে পারে। তাই আজই পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।
১. ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি (Vitamin D Deficiency) হলে প্রথম দিকে শরীরে তেমন স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে ধীরে ধীরে ক্লান্তি, পেশি ও হাড়ে ব্যথা, মনমরা ভাব, চুল পড়া, এবং ঘনঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে অস্টিওপরোসিস বা ফ্র্যাকচারের ঝুঁকিও বাড়ে।
২. শীতকালে কেন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বেশি হয়?
শীতের সময় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় এবং আমরা বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতর থাকি। ফলে ত্বকে আল্ট্রাভায়োলেট (UVB) রশ্মি পৌঁছাতে পারে না, যা ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। এছাড়া মোটা জামাকাপড় ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ত্বকে সূর্যের আলো পড়া আরও কমে যায়, তাই ঘাটতি বেড়ে যায়।
৩. কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করা যায়?
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ১৫–২০ মিনিট রোদে থাকা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ফ্যাটি মাছ (স্যালমন, সার্ডিন, টুনা), ডিমের কুসুম, ফোর্টিফায়েড দুধ, কমলালেবুর জুস এবং মাশরুম রাখলে উপকার পাওয়া যায়। তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Most Viewed Posts
- মোটা হবেন না, মিষ্টি খান নিশ্চিন্তে │ Guilt-Free Sweets for Diwali Delight
- Dharmendra death: ধর্মেন্দ্রর জীবনের এই ১১টি তথ্য অনেকেই জানেন না │ 11 Untold Facts About Dharmendra
- ২০২৬-এ মেষ রাশির জন্য আসছে বড় মোড় │ Aries Horoscope 2026 Full Prediction
- জানেন কি নবরাত্রির চতুর্থ দিনে মা কুষ্মাণ্ডা পূজা কেন বিশেষ? ︱Why Ma Kushmanda Puja on Navratri Day 4 is Special?
- Digha Jagannath Temple Facts ︱দীঘা জগন্নাথ মন্দির সম্পর্কে জানুন এই দশটি অজানা তথ্য

