এই প্রতিবেদনে যা যা রয়েছে
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন বছরের রেজোলিউশন তো নিয়েছিলেন যে জিমে ভর্তি হবেন, কিন্তু কাজের চাপে সেই প্রতিজ্ঞা কি ১ মাসেই ভেঙে গেছে? অফিসের ব্যস্ততা, বাড়ির কাজ আর ট্রাফিক জ্যামের পর জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোর (Weight Loss Without Gym) সময় বা এনার্জি—কোনোটাই অবশিষ্ট থাকে না। ফলে চর্বি জমতে থাকে পেটে আর কোমরে।
কিন্তু যদি বলি, জিমে না গিয়েও, ভারী ডাম্বেল না তুলেও আপনি ঝরিয়ে ফেলতে পারেন বাড়তি মেদ? অবাক হচ্ছেন? বিজ্ঞান কিন্তু তাই বলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় NEAT (Non-Exercise Activity Thermogenesis)। অর্থাৎ, ব্যায়াম না করেও দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমেই ক্যালোরি বার্ন করা (Burn Calories Naturally)। রান্নাঘর থেকে অফিস—আপনার সারাদিনের রুটিনে মাত্র ৫টি ছোট পরিবর্তন আনলেই জিমের অভাব আর বোধ করবেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সহজ উপায়গুলো।
গবেষণা কী বলছে? “সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে (Best Pract Res Clin Endocrinol Metab), যারা জিমে না গিয়েও সারাদিন ছোটখাটো কাজে সচল থাকেন, তাদের মেটাবলিজম রেট অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। বিখ্যাত মায়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র NEAT বা ‘নন-এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি’-র মাধ্যমে একজন মানুষ দিনে ৩৫০ থেকে ২০০০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরাতে পারেন (Burn Calories Naturally), যা ওবেসিটি বা স্থূলতা আটকাতে জিমে যাওয়ার চেয়েও বেশি কার্যকরী হতে পারে।”
১. রান্নাঘরই যখন আপনার জিম (Turn Your Kitchen into a Workout Zone)
রান্না করার সময়টা আমরা অনেকেই দাঁড়িয়ে বা এক জায়গায় স্থির হয়ে কাটাই। কিন্তু এই সময়টাকেই আপনি মেদ ঝরানোর কাজে লাগাতে পারেন।
- দাঁড়িয়ে সবজি কাটা: অনেকেই বঁটি বা টুলে বসে সবজি কাটেন। চেষ্টা করুন কিচেন কাউন্টারে দাঁড়িয়ে চপিং বোর্ডে সবজি কাটার। বসে থাকার চেয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করলে শরীর প্রায় ২০-৩০% বেশি ক্যালোরি খরচ (Burn Calories) করে।
- বাসন মাজার এক্সারসাইজ: শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, বাসন মাজা বা সিঙ্ক পরিষ্কার করা হাতের পেশির জন্য দুর্দান্ত ব্যায়াম। এতে হাতের মুভমেন্ট হয় এবং আপার বডি টোনড থাকে।
- অপেক্ষা করার সময়: চা ফুটছে বা মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম হচ্ছে? এই ২ মিনিট চুপ করে দাঁড়িয়ে না থেকে রান্নাঘরেই পায়চারি করুন বা কাউন্টার ধরে ১০টা ‘কাফ রেইজ’ (পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়ানো) করে নিন। এটি জিম ছাড়া ওজন কমানোর (Weight Loss Without Gym) এক গোপন মন্ত্র।
২. অফিসের চেয়ারে বসেই ‘ফিটনেস’ (Stay Active at Workplace)
দিনে ৮-৯ ঘণ্টা আমরা অফিসে একজায়গাতেই বসে থাকি। একেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘সিটিং ডিজিজ’ (Sitting Disease), যা হার্টের ক্ষতি করে এবং ভুঁড়ি বাড়ায়। অফিসে বসেই কীভাবে অ্যাক্টিভ থাকবেন?
- লিফটের বদলে সিঁড়ি: যদি আপনার অফিস ৫ তলার নিচে হয়, তবে আজ থেকেই লিফটকে ‘না’ বলুন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা হলো অন্যতম সেরা কার্ডিও (Cardio Exercise)। দিনে দুবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে আপনার মেটাবলিজম রেট হু হু করে বাড়বে।
- ডেস্ক এক্সারসাইজ: প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর নিজের সিট থেকে উঠুন। জল খাওয়ার জন্য বোতল ডেস্কে না রেখে ওয়াটার কুলারের কাছে হেঁটে গিয়ে জল খান। সহকর্মীকে ইমেল বা ইন্টারকমে ফোন না করে তাঁর ডেস্কে গিয়ে কথা বলুন। এই ছোট ছোট হাঁটাচলা সারা দিনে অনেকটা ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন : সকালে উঠেই বেড-টি? লিভারের 12টা বাজাতে এই 1টি ভুলই যথেষ্ট! জানুন বাঁচার উপায় | Side Effects of Bed Tea
৩. ফোনে কথা বলুন হাঁটতে হাঁটতে (Walk While You Talk)
আমাদের সারাদিনের অনেকটা সময় কাটে মোবাইল ফোনে। অফিস কল হোক বা বাড়ির গল্প—ফোন কানে নিলেই আমরা সোফায় বা বিছানায় গা এলিয়ে দিই। এই অভ্যাসটি আজই বদলান।
- পেস ওয়াকিং (Pace Walking): যখনই ফোনে কথা বলবেন, নিয়ম করুন—হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলবেন। ঘরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত হাঁটুন। যদি দিনে ১ ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন এবং সেই সময়টা হাঁটেন, তবে জিমে ট্রেডমিলে হাঁটার (Walking for Weight Loss) সমান উপকার পাবেন। এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি NEAT পদ্ধতি।
৪. বাড়ির কাজই আসল ব্যায়াম (Household Chores as Workout)
উন্নত দেশে মানুষ বাড়ির কাজ নিজেরা করে বলেই তাঁরা অনেক বেশি ফিট থাকেন। আমাদের দেশে কাজের লোকের ওপর নির্ভরতা আমাদের অলস করে দিচ্ছে।
- ঘর মোছা ও ঝাড়ু দেওয়া: বিশ্বাস করুন, ঘর মোছা বা ‘মপিং’ (Mopping) হলো পেটের চর্বি কমানোর বা বেলি ফ্যাট লস (Belly Fat Loss) করার সেরা ব্যায়াম। এতে কোমর এবং পেটের পেশিতে টান পড়ে, যা ক্রাঞ্চেস বা সিট-আপের মতোই কাজ করে। সপ্তাহে অন্তত দুদিন নিজের ঘর নিজেই পরিষ্কার করুন।
- কাপড় কাচা: ওয়াশিং মেশিনের বদলে ছোটখাটো কাপড় হাতে কাচলে হাতের ও কাঁধের দারুণ ব্যায়াম হয়।
৫. টিভি বা ওটিটি দেখার সময় সচল থাকুন (Active Binge Watching)
নেটফ্লিক্স বা টিভিতে সিনেমা দেখার সময় আমরা একবাটি চিপস নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা শুয়ে থাকি। এই সময়টাই মেদ জমার আসল সময় বা ‘কাউচ পটেটো’ সিনড্রোম।
- বিজ্ঞাপনের বিরতিতে কাজ: টিভিতে অ্যাডের সময় বা ওটিটি-তে এক এপিসোড শেষ হওয়ার পর পরেরটা শুরু হওয়ার মাঝে ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এই সময় ১০টা জাম্পিং জ্যাক বা একটু স্ট্রেচিং (Stretching) করে নিন।
- ফ্লোর সিটিং: সোফায় না বসে মাটিতে বসার অভ্যাস করুন। মাটি থেকে বারবার ওঠাবসা করলে শরীরের নমনীয়তা বাড়ে এবং জিম ছাড়া ওজন কমাতে (Lose Weight Naturally) সাহায্য করে।
নিউজ অফবিট টিপস (Conclusion):
ওজন কমাতে জিমে গিয়ে ১ ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর চেয়ে সারা দিন সচল থাকা অনেক বেশি জরুরি। এই পদ্ধতিগুলো আপনার জীবনযাত্রায় মিশিয়ে নিলে আলাদা করে সময়ের প্রয়োজন হবে না, অথচ মাস শেষে দেখবেন কোমরের মাপ কমতে শুরু করেছে। আজ থেকেই শুরু করুন এই ‘স্মার্ট মুভ’।
১. জিমে না গিয়ে শুধু ঘরের কাজ করে কি ওজন কমানো সম্ভব?
হ্যাঁ, অবশ্যই। একে বিজ্ঞানের ভাষায় NEAT বলা হয়। রান্না করা, ঘর মোছা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার মাধ্যমে শরীর প্রচুর ক্যালোরি খরচ করে (Burn Calories Naturally)। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকেন, তারা জিমে যাওয়া অনেকের চেয়ে বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে পারেন।
২. ওজন কমাতে দিনে কত পা হাঁটা জরুরি?
জিমে না গেলে দিনে অন্তত ১০,০০০ পা হাঁটার লক্ষ্যমাত্রা রাখা উচিত। তবে শুরুতেই এত বেশি না হেঁটে, ফোনে কথা বলার সময় বা অফিসের করিডোরে হেঁটে (Walking for Weight Loss) ধাপে ধাপে এই লক্ষ্য পূরণ করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করাও এর মধ্যে পড়ে।
৩. এই ৫টি পরিবর্তনের সাথে কি ডায়েট করা প্রয়োজন?
অবশ্যই। ওজন কমানোর মূল মন্ত্র হলো ক্যালোরি ডেফিসিট। আপনি যদি সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকেন কিন্তু প্রচুর তেল-মশলা বা চিনিযুক্ত খাবার খান, তবে ওজন কমবে না। তাই ঘরের কাজের পাশাপাশি সুষম খাবার বা ব্যালেন্সড ডায়েট (Balanced Diet) মেনে চলা আবশ্যিক।
- কথা না বলেও মনের ভাব পাঠানো সম্ভব? কিভাবে মনের শক্তি আজ প্রযুক্তিতে রূপ নিচ্ছে
- ডাবলুবিসিএস পরীক্ষায় কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিয়ে চিন্তিত? জানুন, কী পড়লে মিলবে নিশ্চিত সাফল্য?
- বিমানবন্দরে ব্যাগ হারালে আতঙ্ক নয়! এই উপায়ে ট্র্যাক করে ফিরে পেতে পারেন সব জিনিসপত্র
- কেন মোজতবা খামেনির হাতেই ক্ষমতা? ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাকেই কেন বেছে নেওয়া হল
- গ্রামবাংলার নারী শক্তি: সংগ্রাম পেরিয়ে গ্রামবাংলার ৫জন উদ্যোক্তা নারীদের সাফল্যের গল্প

