West Bengal Budget 2026: পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, মহার্ঘ্য ভাতা, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঋণের বোঝা কমানোর রূপরেখা কী হবে, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর। বাংলার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে কী ঘোষণা আসে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: আজ পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই নজর গোটা রাজ্যের। অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট বাংলার অর্থনীতিকে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্তের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ, বিপুল ঋণের বোঝা এবং রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কীভাবে বাংলার অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়া যায়, সেই রূপরেখাই উঠে আসবে তাঁর বাজেটে। বাজেট পেশের আগে তিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা এই বাজেটে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে।
সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ), কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নকে ঘিরে। আগের সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ বিতর্ক, প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল এবং দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন এই বাজেটে দেখা যায় কি না, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। তাই নতুন শিল্পে বিনিয়োগ, স্টার্টআপকে উৎসাহ এবং শিল্পবান্ধব নীতির ওপর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেটিও হবে বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ। রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তার দিকেও নজর থাকবে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত ইতিমধ্যেই বাংলার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির সংকটের সঙ্গে তুলনা করে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর মতো বৃহৎ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত, এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তাই হতে পারে বাংলার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রধান শক্তি।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন করে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা চাপিয়ে নয়, বরং রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে রাজ্যের আয় বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্য রাজস্ব আদায় করা হয়নি, যার ফলে কোষাগারে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং আয়ের নতুন উৎস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে।
মদ ও পেট্রোলের উপর নির্ভরশীল রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে রাজ্যের আয় বাড়ানোর পথ খুঁজছে নতুন সরকার। পাশাপাশি জিএসটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে, কারণ এই কর কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাজ্যের হাতে নয়, জিএসটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
মহার্ঘ্য ভাতা নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকার সদ্য দায়িত্ব নিয়েছে। তাই সব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে সমস্ত বিষয়েরই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও কম নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পে নতুন বিনিয়োগ এবং রাজ্যের আর্থিক পুনরুজ্জীবনের স্পষ্ট রোডম্যাপ দেখতে চাইছেন তাঁরা। এখন দেখার, নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট বাংলার অর্থনীতিকে কতটা নতুন দিশা দেখাতে পারে এবং মানুষের সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
কলেজে ভর্তি নিয়ে বড় খবর, এক নজরে দেখে নিন স্নাতকে ভর্তির আবেদন কবে

