West Bengal Fake Doctors Medical Degree Verification: ভুয়ো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করতে এবার বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত সমস্ত চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের নাম কাউন্সিলে নথিভুক্ত রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের নথি যাচাই করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনও চিকিৎসককে বিব্রত করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ভুয়ো চিকিৎসক চিহ্নিত করতে রাজ্যজুড়ে নথি যাচাই
ভুয়ো চিকিৎসকের ডিগ্রি এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই রাজ্যের সমস্ত নথিভুক্ত চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা যে বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি ও শংসাপত্র পেয়েছেন, সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া মান্যতাপত্র আবার যাচাই করা হবে। কেওয়াইডি হবে, অর্থাৎ ‘নো ইয়োর ডক্টর’। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনও চিকিৎসককে বিব্রত করা হবে না।”
দুই পদ্ধতিতে হবে যাচাই, প্রয়োজনে ভিডিয়ো মাধ্যমে যোগাযোগ
চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রথম পদ্ধতিতে চিকিৎসকেরা নিজেরা উপস্থিত হয়ে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারবেন।
অন্যদিকে, বয়স, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা দূরত্বের কারণে যাঁরা সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন না, তাঁদের সঙ্গে ভিডিয়ো সম্মেলনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। সেই ব্যবস্থায়ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হবে।
এই গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, নথি যাচাইয়ের নামে কোনও চিকিৎসককে অযথা হয়রানি করা হবে না।
মেডিক্যাল কাউন্সিলের একাধিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
উল্লেখ্য, ভুয়ো চিকিৎসকের ডিগ্রি সংক্রান্ত অভিযোগের জল ইতিমধ্যেই থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, প্রাক্তন নিবন্ধক, বিধায়ক সদস্য এবং কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের সিদ্ধান্তকে সামনে এনে আরও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পাঁচ বছরের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন, কী জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী?
পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের দেওয়া কিছু রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের উল্লেখ রয়েছে। কোনও কোনও শংসাপত্রে পাঁচ বছরের বৈধতার কথাও লেখা থাকে।
এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, শংসাপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ করার আইনি ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “যাই লেখা থাকুক, যতক্ষণ না নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ সমস্ত রেজিস্ট্রেশন বৈধ থাকবে।”
অর্থাৎ, নথি যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নতুন নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের বর্তমান রেজিস্ট্রেশন বাতিল হচ্ছে না।
মৃত ও চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের আরও একটি উদ্দেশ্য হল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নথিভুক্ত চিকিৎসকদের তালিকা হালনাগাদ করা।
যে সমস্ত চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে, যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন অথবা দেশে থাকলেও আর চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের চিহ্নিত করে কাউন্সিলের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় জানিয়েছেন, আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকলেও নথি যাচাইয়ের ভাবনা থেকেই শংসাপত্রের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পাঁচ বছর পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে শংসাপত্র পুনর্নবীকরণ করতে বলা হত। মূলত মৃত চিকিৎসক কিংবা বিদেশে চলে যাওয়া চিকিৎসকদের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
অন্যদিকে, মেডিক্যাল কাউন্সিলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়েও বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
এদিন রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তবে হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং কলকাতার শহরতলির কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগের পর রাজ্যের সমস্ত নথিভুক্ত চিকিৎসকের যোগ্যতা ও শংসাপত্র যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। একই সঙ্গে কাউন্সিলের তালিকা থেকে মৃত এবং চিকিৎসা পেশায় আর যুক্ত নন, এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

