Daily Movement Habit: বয়স বাড়া মানেই ক্লান্তি নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট নড়াচড়া—সিঁড়ি ব্যবহার, হাঁটা, নিজে কাজ করা—এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই শরীরকে রাখে সচল, মনকে রাখে সতেজ। আলাদা করে কঠিন শরীরচর্চা নয়, জীবনযাত্রার মধ্যেই লুকিয়ে আছে দীর্ঘ ও সক্রিয় জীবনের আসল শক্তি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: সকালের নরম আলোয় তিনি ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামছিলেন। হাতে ছোট একটি বাজারের ব্যাগ, মুখে শান্ত হাসি। কেউ দেখলে ভাবতেই পারে—এ তো খুব সাধারণ এক দৃশ্য। কিন্তু সেই সাধারণ দৃশ্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ এক রহস্য। বয়স তাঁর পেরিয়েছে ষাট, তবু হাঁটায় নেই ক্লান্তি, চোখে নেই অবসাদ। কারণ তিনি আলাদা করে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন না—তিনি শুধু জীবনটাকে নড়াচড়ার সঙ্গে বেঁধে নিয়েছেন। আমরা অনেকেই মনে করি—৬০ পেরিয়ে যারা এখনো ঝরঝরে, চনমনে আর এনার্জিতে ভরপুর, তারা বুঝি জেনেটিক লটারি জিতেছেন। যেন তাদের শরীর আলাদা কোনো ছাঁচে তৈরি। কিন্তু মনোবিজ্ঞান, বার্ধক্য এবং দৈনন্দিন চলাফেরার (Daily Movement Habit) উপর সাম্প্রতিক গবেষণা অন্য কথা বলছে। বাস্তবতা হলো—এই মানুষগুলো ভাগ্যবান নন, বরং তারা অজান্তেই এমন কিছু ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলেছেন, যা তাদের শরীরকে সারাক্ষণ হালকা গতিশীল রাখে। সত্যি বলতে, সুস্থতা কোনো হঠাৎ পাওয়া উপহার নয়। এটি গড়ে ওঠে প্রতিদিনের সচেতন চলাফেরায়। বয়স থামানো যায় না, কিন্তু অচল হয়ে যাওয়া ঠেকানো যায়। আজ আপনি যদি মাত্র একটি ছোট অভ্যাস বেছে নেন—হয়তো সিঁড়ি ব্যবহার, হয়তো আধঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো—তাহলেই শুরু হয়ে যাবে পরিবর্তন।
আরও পড়ুন : গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো
মজার বিষয় হলো, তারা জিমে ঘাম ঝরিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান না। বরং তাদের “exercise” শব্দটাই অভিধানে নেই। তারা শুধু বাঁচেন—কিন্তু সক্রিয়ভাবে। মন যখন কোনো কাজকে বাধ্যতামূলক ব্যায়াম হিসেবে দেখে না, তখন সেই কাজ দীর্ঘদিন ধরে করা অনেক সহজ হয়। এই প্রতিবেদনে জানুন সেই ৭টি সহজ, কার্যকর অভ্যাস, যা ৬০-এর পরেও শরীর ও মনকে রাখে তরতাজা।
সিঁড়ি ব্যবহার করুন
এশিয়ার বহু শহরে দেখা যায়—বয়সী মানুষরা লিফট ব্যবহার না করে নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করেন। তারা এটিকে শরীরচর্চা ভাবেন না; তারা শুধু বাড়ি ফেরেন বা কাজে যান। কিন্তু এই স্বাভাবিক অভ্যাসই তাদের হৃদ্যন্ত্র ও রক্তসঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে বলা যায় উদ্দেশ্যনির্ভর নড়াচড়া। যখন কোনো কাজের পেছনে বাস্তব প্রয়োজন থাকে, তখন মস্তিষ্ক বাধা দেয় না। “আজ শরীরচর্চা করব কি করব না”—এই দ্বিধা তৈরি হয় না। কাজটি জীবনের অংশ হয়ে যায়। লিফটের বদলে অন্তত এক থেকে দুই তলা সিঁড়ি ব্যবহার করুন। গাড়ি একটু দূরে রাখুন, যাতে কিছুটা হাঁটতে হয়। কর্মস্থলে গেলে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ির একটি অংশ ব্যবহার করুন। এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।
হাঁটাচলা করুন
আজকাল ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। কিন্তু সুস্থ প্রবীণরা এখনো নিজেরা বাজারে যান, হাঁটেন, কখনো সাইকেল চালান, নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করেন। হাঁটা হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে—এটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। তবে তারা হাঁটেন ডাক্তারি পরামর্শ মানতে নয়; তারা হাঁটেন কারণ সেটিই স্বাভাবিক জীবনযাপন। কাছের দোকানে হেঁটে যান। নতুন রাস্তা ধরে হাঁটুন। এতে শরীর যেমন সচল থাকবে, তেমনি সমাজের সঙ্গে সম্পর্কও মজবুত হবে।
বাগান তৈরি করুন (Daily Movement Habit)
গাছ লাগানো, মাটি খোঁড়া, আগাছা পরিষ্কার—এসব কাজ করতে গিয়ে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়। এটি এক ধরনের পূর্ণাঙ্গ শরীরচর্চা। বাগান করার মধ্যে এক ধরনের ধ্যানমগ্নতা রয়েছে। মাটির সংস্পর্শে এলে মন শান্ত হয়, উদ্বেগ কমে। বড় জায়গা না থাকলেও সমস্যা নেই—বারান্দার টবে গাছ লাগালেও একই উপকার পাওয়া যায়।
আনন্দময় শখেই লুকিয়ে সুস্থতা
যে সব খেলাধুলায় আনন্দ ও সামাজিকতা আছে, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে করা যায়। অনেক প্রবীণ নাচেন, হাঁটার দলে যোগ দেন, বন্ধুদের সঙ্গে খেলেন। শরীরচর্চা তখন আর আলাদা কোনো দায় নয়; এটি হয়ে ওঠে আনন্দের অংশ। যে কাজ ভালো লাগে, সেটিই টিকে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া—এসব কার্যকলাপ শরীর ও মনকে সচল রাখে। শুধু বসে আড্ডা নয়, সক্রিয় আড্ডা গড়ে তুলুন।
ছোট ছোট নড়াচড়ার বড় প্রভাব
অনেক সুস্থ প্রবীণকে দেখা যায়—তারা খুব কম সময় স্থির বসে থাকেন। কথা বলতে বলতে হাঁটেন, পড়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকেন, মাঝেমধ্যে শরীর টানটান করেন। এই ক্ষুদ্র নড়াচড়াগুলো দিনে মিলিয়ে অনেকটা সময় সক্রিয় রাখে। ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন। টেলিভিশনের বিরতিতে উঠে দাঁড়ান। ছোট অভ্যাস বড় উপকার দেয়। কাছের জায়গায় হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করলে আলাদা করে শরীরচর্চার প্রয়োজন কমে যায়। এক কিলোমিটারের মধ্যে হলে হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই সক্রিয় থাকবে।
ঘরের কাজেই শরীরচর্চা (Daily Movement Habit)
বাড়ি পরিষ্কার করা, মেঝে মোছা, জানালা ধোয়া—এসব কাজ শরীরের জন্য উপকারী। অনেকে সুবিধার জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেন, কিন্তু নিজের হাতে করলে শরীর বেশি সক্রিয় থাকে। মনোযোগ দিয়ে করলে এটি এক ধরনের ধ্যানের মতোও কাজ করে। অনেকে সারাদিন বসে থাকেন, মাঝে মাঝে ওঠেন। কিন্তু সুস্থ মানুষরা সারাদিন চলাফেরা করেন, মাঝে মাঝে বসেন। প্রতি আধঘণ্টায় একবার উঠে দাঁড়ান। ফোন অন্য ঘরে রাখুন। ঘণ্টায় অন্তত একবার হাঁটুন।
রান্না করার উপকার (Daily Movement Habit)
নিজে রান্না করলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, কাটা, নাড়া, মাখা—সব মিলিয়ে শরীর সচল থাকে। পাশাপাশি ঘরে তৈরি খাবার সাধারণত স্বাস্থ্যকর হয়। শরীর ও খাদ্যাভ্যাস—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু অচল হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। সুস্থ ও সক্রিয় থাকা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, আবার শুধু জন্মগত বৈশিষ্ট্যের ওপরও নির্ভর করে না। এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ফল। লিফটের বদলে সিঁড়ি বেছে নেওয়া, কাছের দোকানে হেঁটে যাওয়া, নিজে রান্না করা, ঘরের কাজ নিজের হাতে করা—এই সাধারণ কাজগুলিই দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সচল রাখে। সবচেয়ে বড় কথা, নড়াচড়াকে আলাদা করে কঠিন অনুশীলন ভাবার দরকার নেই। জীবনযাত্রার ভেতরেই যদি চলাফেরা মিশে যায়, তাহলে তা ধরে রাখা সহজ হয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

