২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে (77th Republic Day West Bengal) পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো ও NSS-এর ৭ পড়ুয়ার অংশগ্রহণ কীভাবে বাংলাকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরল, জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই শুধু দিল্লির কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ নয়, বরং গোটা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ভবিষ্যতের ভারতের এক শক্তিশালী বার্তা। আর সেই জাতীয় মঞ্চে ২০২৬ সালে আবারও গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলার নাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, প্রাথমিক আপত্তি ও টানাপোড়েন পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো যেমন অনুমোদন পেয়েছে, তেমনই ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS)-এর মাধ্যমে রাজ্যের সাত পড়ুয়া সুযোগ পেয়েছেন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের। সব মিলিয়ে ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস বাংলার কাছে শুধুই একটি দিন নয়—এ এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার ভূমিকা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ যুবসমাজ—সবকিছু সম্মিলিত প্রতিফলন ঘটতে চলেছে এই প্রজাতন্ত্র দিবসে। এই প্রতিবেদনে জানুন, ঠিক কীভাবে এবং কোন কোন মাধ্যমে ২০২৬-এর প্রজাতন্ত্র দিবসে অংশগ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ।
বাংলার ট্যাবলোতে ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা’
৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো অনুমোদন। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির আপত্তির মুখে পড়লেও দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত পায় বাংলার প্রস্তাবিত ট্যাবলো। ২০২৬ সালের ট্যাবলোর থিম— ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা’, যার মূল ভাবনা গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনতার মন্ত্র—বন্দে মাতরম’ স্লোগানের উপর। এই ট্যাবলোর মাধ্যমে দিল্লির কর্তব্য পথে তুলে ধরা হবে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকা—বিপ্লবী আন্দোলন, সাংস্কৃতিক জাগরণ, সাহিত্য ও গান এবং সর্বোপরি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবিস্মরণীয় অবদান। ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে সুর মিলিয়ে বাংলার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প দেখবে গোটা দেশ।
NSS-এর হাত ধরে জাতীয় মঞ্চে বাংলা │ নির্বাচিত ৭ পড়ুয়া
শুধু ট্যাবলো নয়, বাংলার গর্ব আরও উজ্জ্বল হয়েছে ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS)-এর মাধ্যমে। দেশজুড়ে নির্বাচিত মোট ১৪৮ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে স্থান পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৭ জন পড়ুয়া। টানা ২৫ দিনের কঠোর মহড়া, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন ও মানসিক প্রস্তুতির পর তাঁরা অংশ নিতে চলেছেন প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে।
এই পড়ুয়ারা হলেন—
- সূর্যকান্ত মাইতি (ব্রেনওয়ার ইউনিভার্সিটি, বারাসাত)
- সঙ্গম রায় (আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্স, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)
- ইয়ারানা শেখ (গৌড় কলেজ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)
- শুভদীপ মাহাতো (সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়)
- সমাদৃতা মুখোপাধ্যায় (নিউটাউন, MAKAUT-এর অধীন)
- ঐশ্বর্য সরকার (মালদহ কলেজ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)
- মহিমা বাউরি (কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, আসানসোল)
এই সাত পড়ুয়ার সাফল্য প্রমাণ করে—রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও উঠে আসছে জাতীয় নেতৃত্বের মুখ।
২৫ দিনের মহড়া │ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের কঠিন পরীক্ষা
প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া মানেই শুধু একদিনের পারফরম্যান্স নয়। তার আগে রয়েছে টানা ২৫ দিনের কঠোর প্রশিক্ষণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা—শারীরিক কসরত, কুচকাওয়াজের তাল, সময়ানুবর্তিতা ও দলগত সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের তৈরি করা হয় জাতীয় প্রতিনিধিত্বের জন্য। NSS-এর এই প্রশিক্ষণ পড়ুয়াদের শেখায় শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নেতৃত্ব। তাই এই অভিজ্ঞতা তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যও হয়ে উঠবে এক শক্ত ভিত।
রাষ্ট্রপতি ভবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান │ নৃত্যে-গীতে বাংলার পরিচয়
৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলার অংশগ্রহণ শুধুই কুচকাওয়াজে সীমাবদ্ধ নয়। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, রাইসিনা হিলসের রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে মোট ৩০ জন পড়ুয়া অংশ নেবেন।
এই অনুষ্ঠানে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবেন সূর্যকান্ত মাইতি, ঐশ্বর্য সরকার ও সমাদৃতা মুখোপাধ্যায়।
“হিন্দুস্থান হিন্দুস্তান, হ্যাঁ তুঝমে কহি মেরি জান”—এই দেশাত্মবোধক গানে লোকনৃত্যের মাধ্যমে তাঁরা তুলে ধরবেন ভারতের ঐক্য ও বৈচিত্র্যের বার্তা। ওইদিন রাষ্ট্রপতি ভবনেই মধ্যাহ্নভোজ এবং পরবর্তীতে উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও পাবেন তাঁরা। এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত পড়ুয়াদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের মতে, এই অর্জন ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজসেবা ও জাতীয় চেতনায় যুক্ত থাকার যে শিক্ষা NSS দেয়, এই সাত পড়ুয়া তার বাস্তব উদাহরণ।
২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস বাংলার জন্য বিশেষ কারণ—
- স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা হচ্ছে
- দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ট্যাবলো অনুমোদন
- NSS-এর মাধ্যমে ৭ পড়ুয়ার ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ
- রাষ্ট্রপতি ভবনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলার উপস্থিতি
সব মিলিয়ে, ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস বাংলার কাছে শুধুই উৎসব নয়—এ এক জাতীয় স্বীকৃতি।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- Gen Z-এর প্রেমের নতুন শব্দভান্ডার জানেন? ভালোবাসার নতুন ব্যাকরণ শিখুন | Gen Z Love Trends 2026
- ব্যস্ত সকালে এই ৫টি Tiffin Recipe রাখুন রোজের তালিকায় | Easy Tiffin Recipes
- ঠাকুর, দেবতা, ভগবান ও ঈশ্বর কি একই? গুলিয়ে ফেলার আগে জেনে নিন আসল তফাৎ | God vs Deity Meaning in Bengali
- জানুন, ব্যক্তি সুভাষের অনন্য প্রেমকাহিনী: সুভাষ ও এমিলি
- গান্ধী বনাম নেতাজি—মূল পার্থক্যটা কোথায়? | Gandhi vs Netaji

