Abhishek Banerjee: একুশের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বার্তা। ‘দশ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে হ্যালোজেন হয়ে গেছি’ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা জানিয়ে দলীয় কর্মীদের শক্ত থাকার আহ্বান, দলত্যাগীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: একুশের মঞ্চ থেকে ফের একবার রাজনৈতিক আক্রমণের সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দলত্যাগী নেতাদের প্রসঙ্গ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের প্রতি আনুগত্য, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই এবং আগামী দিনের নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “দশ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে, হ্যালোজেন হয়ে গেছি।” তাঁর কটাক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের মূল শক্তিকেন্দ্র। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শকে সামনে রেখেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পথচলা।
অভিষেকের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জনসমর্থনের প্রশ্ন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সত্যিই যদি মানুষের রায়ে কেউ জিতে থাকেন, তাহলে ভয় পাওয়ার কী আছে? তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে থাকেন, সেখানেই মানুষের ভিড় দেখা যায়। অথচ যাঁরা নিজেদের জনপ্রিয়তার দাবি করছেন, তাঁদের কর্মী-সমর্থক কোথায়—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বা চমকে-ধমকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করে কোনও লাভ হবে না।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার বার্তা দেন। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রতিকূলতা আসবেই, কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই সমর্থন করে, যাঁরা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের জন্য লড়াই করেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল দলীয় কর্মীদের প্রতি আস্থা এবং আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির আহ্বান।
তিনি বলেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনও রয়েছেন, তাঁদের ভয় দেখিয়ে বা চাপে ফেলে রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দেওয়া যাবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসকে চমকে-ধমকে লাভ নেই। বরং রাজনৈতিক লড়াই হবে মানুষের ময়দানে, আর সেই লড়াইয়ে দলের কর্মীদের শক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
“দশ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে, হ্যালোজেন হয়ে গেছি”—কাকে নিশানা অভিষেকের?
অভিষেকের বক্তব্যের অন্যতম চর্চিত অংশ ছিল তাঁর ‘দশ ওয়াটের বাল্ব’ মন্তব্য। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দশ ওয়াটের বাল্ব ভাবছে, হ্যালোজেন হয়ে গেছি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনসমর্থনের সঙ্গে তুলনা করলে অন্য কারও রাজনৈতিক শক্তি বা জনপ্রিয়তাকে অতিরঞ্জিত করে দেখার কোনও কারণ নেই।
অভিষেক আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই রয়েছে সেই রাজনৈতিক ‘বিদ্যুৎ’, যা দলের কর্মীদের শক্তি জোগায়। তাঁর বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ‘শক্তিকেন্দ্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শকে সামনে রেখেই যাঁরা রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছেন এবং পথ চলেছেন, তাঁদের সেই সম্পর্ক ও দায়বদ্ধতার কথা মনে রাখা উচিত।
এই প্রসঙ্গেই তিনি দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা মাকে ত্যাগ করেন, তাঁদের কোনও সন্তানই শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কের দায় এড়াতে পারেন না। রাজনৈতিক রূপক ব্যবহার করে অভিষেক বলেন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে দলে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়—এমনটাই তিনি নেত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন।
মামলা, তদন্ত আর চাপ—নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথাও বললেন অভিষেক
নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার মামলার প্রসঙ্গও তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ইডি, সিবিআই, সিআইডি, আয়কর দফতর এবং এসটিএফের মতো সংস্থার তদন্ত ও মামলার প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, এত চাপ, মামলা বা তদন্তের পরেও তিনি রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে যাননি এবং আগামী দিনেও লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তাঁর জীবন শেষ হয়ে গেলেও তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শ শেষ হবে না। আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যখন শ্মশানের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখনও যদি তাঁর বুক থেকে কোনও শব্দ শোনা যায়, সেই শব্দ হবে “জয় বাংলা”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন।
অভিষেকের এই মন্তব্য তাঁর বক্তব্যের আবেগঘন অংশগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিকূলতা কোনও কিছুই তাঁকে তাঁর আদর্শ থেকে সরাতে পারবে না—এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
“গদ্দারকে ইতিহাস সমর্থন করে না”—দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা
দলত্যাগীদের প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল আরও তীব্র। তিনি বলেন, ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে, যাঁরা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনগণের পাশে থেকে লড়াই করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দল পরিবর্তন করা নেতাদের তিনি সমর্থন করেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দল পরিবর্তন করেছেন—এমন নেতাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে মানুষের দরবারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন তাঁরা, যাঁরা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন।
অভিষেকের কথায়, এই লড়াই কোনও ব্যক্তিগত লড়াই নয়; এটি রাজনৈতিক আদর্শ ও বিশ্বাসের লড়াই। তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, লড়াইয়ের ময়দানেই শেষ পর্যন্ত মানুষের রায় পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
“ময়দানে আবার দেখা হবে”—কর্মীদের উদ্দেশে শেষ বার্তা
বক্তব্যের শেষ দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি দলের নির্ভীক, সাহসী, সংগ্রামী এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানান। তাঁর বক্তব্যে ছিল কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান।
তিনি জানান, বক্তব্য দীর্ঘায়িত করতে চান না। তবে কর্মীদের শক্ত থাকতে হবে এবং আগামী দিনে ফের রাজনৈতিক ময়দানে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা যতই আসুক, দলের কর্মীদের ভেঙে পড়লে চলবে না। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করেই আগামী দিনের লড়াইয়ে নামতে হবে।
একুশের মঞ্চ থেকে অভিষেকের বক্তব্য তাই শুধু বিরোধীদের আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। একইসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আনুগত্য, সংগঠন এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। ‘দশ ওয়াটের বাল্ব’ মন্তব্য থেকে শুরু করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের আবেগ—পুরো বক্তব্যজুড়েই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা এবং দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক অবস্থান।
এখন দেখার, অভিষেকের এই বার্তা আগামী দিনের রাজনৈতিক ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে তাঁর কড়া অবস্থান এবং কর্মীদের শক্ত থাকার আহ্বান তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রাজনীতিতে কী নতুন সমীকরণ তৈরি করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
#abhishekbannerjee #trinamoolcongress #mamatabanerjee #ritabratabanerjee #bengalpolitics #westbengalpolitics #tmcnews #ekusheymancha #politicalnews #newsoffbeat
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

