নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক:,পুজোর আগে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্ধমানে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। তবে এখনও যে সমস্ত উপভোক্তার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, অথচ টাকা পাননি, তাঁদের নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর আগেই অনুমোদিত বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে যাঁরা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাননি, তাঁদের মধ্যে নতুন করে অপেক্ষার অবসানের আশা তৈরি হয়েছে। বর্ধমানের সভা থেকে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই জেলায় কয়েক লক্ষ মহিলা ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। পনেরোটি বিধানসভা ধরে হিসাব করলে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে প্রায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার মহিলা এই আর্থিক সহায়তার আওতায় এসেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বর্ধমানে অন্নপূর্ণা যোজনায় কত আবেদন পড়েছিল?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্ধমান জেলায় পঁচিশ থেকে ষাট বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বারো লক্ষ আটত্রিশ হাজার সাতশো একাশি। অর্থাৎ প্রকল্পের আওতায় আসার জন্য বিপুল সংখ্যক মহিলা আবেদন করেছেন।
এই আবেদনগুলির মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পরে এগারো লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার তিনশো বত্রিশ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কিছু আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আবার সতেরো হাজার পঁয়তাল্লিশটি আবেদন বাতিল হয়েছে। এছাড়াও দশ হাজার সাতশো চোদ্দো জনের ক্ষেত্রে যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ আবেদন করার পরে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই পর্যায়ে প্রক্রিয়া এগোয়নি। কারও আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, কারও আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন, আবার কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে কিছু আবেদন বাতিলও হয়েছে। ফলে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আবেদনের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
ইতিমধ্যেই নয় লক্ষ বাহান্ন হাজারের বেশি অ্যাকাউন্টে টাকা
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় এখনও পর্যন্ত নয় লক্ষ বাহান্ন হাজার তিনশো একত্রিশ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
বর্ধমানের পনেরোটি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে এই সংখ্যা দেখলে বিষয়টির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার করে দিদি-বোনেরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। ফলে জেলায় প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই বড় সংখ্যায় মহিলার অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা হল এখনও যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়নি তাঁদের পরবর্তী পর্যায়ে কী হবে। বর্ধমান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সেই বিষয়েই স্পষ্ট বার্তা সামনে এসেছে।
অনুমোদিত হয়েও যাঁরা টাকা পাননি, তাঁদের জন্য বড় ঘোষণা
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার পরে অনেকের আবেদন অনুমোদিত হলেও এখনও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়নি। তাঁদের উদ্দেশেই পুজোর আগে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের বাকি টাকা পুজোর আগেই অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ফলে ইতিমধ্যেই অনুমোদন পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের অপেক্ষার সময়সীমা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বার্তা সামনে এসেছে।
এখানে মূল বিষয় হল, আবেদন অনুমোদিত হওয়া এবং টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে। বর্ধমানের সভা থেকে দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী সেই বাকি অর্থ স্থানান্তরের কথাই জানিয়েছেন। তাই যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা পুজোর আগে টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
যাচাই এখনও বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে কী অবস্থা?
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় দশ হাজার সাতশো চোদ্দো জনের যাচাই এখনও বাকি রয়েছে। তাঁদের আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে সতেরো হাজার পঁয়তাল্লিশটি আবেদন বাতিল হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে টাকা পৌঁছবে এমন নয়। আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না, যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে কি না এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা কী—তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।
তবে যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পুজোর আগে টাকা পাঠানোর ঘোষণাই বর্ধমানের এই বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাৎ অনুমোদিত হয়েও যাঁরা এখনও আর্থিক সহায়তা পাননি, তাঁদের জন্য সামনে রয়েছে টাকা পাওয়ার নতুন সময়সীমার বার্তা।
পনেরোটি বিধানসভায় গড়ে পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার উপভোক্তা
বর্ধমান জেলার পনেরোটি বিধানসভা কেন্দ্রের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার করে মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। ফলে একটি জেলার মধ্যেই প্রকল্পের আওতায় বিপুল সংখ্যক মহিলার কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
নয় লক্ষ বাহান্ন হাজার তিনশো একত্রিশ জনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা জমা পড়ার পরিসংখ্যানও সেই বিষয়টিই সামনে আনছে। এর পাশাপাশি অনুমোদিত বাকি উপভোক্তাদের টাকা পুজোর আগে পাঠানোর ঘোষণা হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী অর্থপ্রদানের দিকেও নজর রয়েছে।
বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করা মহিলাদের মধ্যে যাঁদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, কিন্তু এখনও টাকা পাননি, তাঁদের কাছে পুজোর আগের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এবং প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হওয়া বাকি উপভোক্তাদের টাকা পুজোর আগেই স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থাৎ এখন মূল অপেক্ষা সেই সমস্ত মহিলার, যাঁদের আবেদন ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয়নি। বর্ধমান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বার্তা অনুযায়ী, তাঁদের জন্য পুজোর আগেই টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে বা প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে।
সব মিলিয়ে বর্ধমান থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—আবেদনকারীর সংখ্যা, ইতিমধ্যে টাকা পাওয়া উপভোক্তার সংখ্যা এবং অনুমোদিত হয়েও টাকা না পাওয়া মহিলাদের জন্য পুজোর আগের সময়সীমার ঘোষণা। এখন নজর থাকবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে বাকি অনুমোদিত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছয় কি না, তার দিকে।
#AnnapurnaYojanaPayment #AnnapurnaYojana #AnnapurnaScheme #WestBengal #Bardhaman #WomenWelfare #GovernmentScheme #PaymentUpdate

