Bengal Govt Potato Procurement: মাঠে সোনার ফসল, অথচ কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বাম্পার ফলনের জেরে আলুর দাম তলানিতে নামার আশঙ্কা। লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে এবার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনবে রাজ্য। ভোটের আবহে এই সিদ্ধান্ত কতটা স্বস্তি দেবে আলুচাষিদের? জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের বিদায়বেলা মানেই বাংলার দিগন্তবিস্তৃত মাঠে আলু তোলার ব্যস্ততা। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মাঠে আলুর ফলনও হয়েছে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কৃষি অর্থনীতিতে একটা খুব অদ্ভুত নিয়ম আছে—ফলন ভালো হলেই যে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। বরং বাম্পার ফলন অনেক সময়ই কৃষকদের জন্য এক অশনি সংকেত বয়ে আনে। বাজারে জোগান বেড়ে গেলে হুড়মুড় করে কমতে শুরু করে ফসলের দাম। তখন ফসল ফলানোর আসল খরচটুকুও ওঠে না। বাধ্য হয়ে কৃষকদের জলের দরে ফসল বিক্রি করে দিতে হয়, যাকে বলা হয় ‘ডিসট্রেস সেল’ (Distress Sale) বা অভাবের তাড়নায় বিক্রি।
এই আসন্ন লোকসানের হাত থেকে বাংলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আলুচাষিদের বাঁচাতে এবার একটি বড়সড় ও সময়োচিত পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে ঠিক করা হয়েছে যে রাজ্য সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনবে।
কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার?
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৯.৫০ টাকা প্রতি কেজি দরে মোট ১২ লক্ষ টন আলু সংগ্রহ করবে। তবে যাতে গুটি কয়েক বড় চাষি বা ফড়ে এই সুবিধার পুরোটা লুটে নিতে না পারে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩৫ কুইন্টাল পর্যন্ত আলু সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা কৃষিকাজ সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার এই প্রসঙ্গে বলেন, “অত্যধিক উৎপাদনের কারণে যাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের বাধ্য হয়ে লোকসানে আলু বিক্রি করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে”।
কেন এমন আশঙ্কার মেঘ? (Bengal Govt Potato Procurement)
পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের কৃষি দপ্তরের অনুমান অনুযায়ী এবার বাংলায় ১১০ থেকে ১২০ লক্ষ টন আলু উৎপাদিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত রাজ্যে মোট আলুর উৎপাদন ৯০ লক্ষ টনের গণ্ডি পেরোলেই বাজারে আলুর দাম মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করে। এবারের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে এবার আলুর দাম কমে কেজি প্রতি ৫ টাকায় নেমে যেতে পারে। অথচ একজন কৃষকের এক কেজি আলু ফলাতেই প্রায় ৬.৫০ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ, বাজারে আলু বিক্রি করলে লাভের বদলে কৃষকদের পকেট থেকে উল্টে লোকসান গুনতে হতো। এই পরিস্থিতি এড়াতেই সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।
নেপথ্যে কৃষকদের বাস্তব লড়াই
আলু হলো বাংলার একটি অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বা ক্যাশ ক্রপ (Cash Crop)। গ্রামের ছোট বা প্রান্তিক কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই আলুর চাষ করেন। মাঠ থেকে আলু ওঠার পর সেই ঋণ শোধ করার একটা বিরাট চাপ তাদের ওপর থাকে। এর পাশাপাশি, এই আলু বিক্রির টাকা দিয়েই তাদের আগামী বোরো মরসুমের চাষের খরচ জোগাড় করতে হয়। তাই অনেক কৃষকের পক্ষেই কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘরে আলু সংরক্ষণ করে রেখে, বাজারে দাম বাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাদের হাতে কাঁচা টাকার প্রয়োজন থাকে। রাজ্য সরকারের ৯.৫০ টাকা দরে আলু কেনার সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে তাদের হাতে সেই প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে দিতে সাহায্য করবে।
ভোটের অঙ্ক এবং আলুর অর্থনীতি
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Polls)। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ করে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলোতে নির্বাচনী সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি রয়েছে এই আলু চাষিদেরই হাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাভাবিকভাবেই চাইছেন না যে নির্বাচনের ঠিক আগে আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের আয় নিয়ে কোনো রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক। অতীতেও আমরা দেখেছি, বামফ্রন্ট সরকার নির্বাচনের আগে কৃষকদের খুশি করতে আলু কিনেছিল। এমনকি, তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও এই কৌশল দারুণভাবে কাজ করেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আলু বলয়ের অন্তত দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল সরকার হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ টন আলু সরাসরি কিনেছিল। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, সঠিক সময়ে সরকারের এই আলু কেনার সিদ্ধান্ত শাসকদলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল এবং ফলস্বরূপ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ওই অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ‘ক্লিন সুইপ’ করেছিল।
তবে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন যে, এই নিয়ে মোট ষষ্ঠবার রাজ্য সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনতে চলেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, “যখনই কৃষকরা বিপদে পড়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ফসলের সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত কেবল ভোট আসছে বলেই নেওয়া হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক নয়”।
শুধু বাংলাতেই নয়, এবার শীতের আবহাওয়া খুব ভালো থাকায় পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের মতো অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতেও আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। এর ফলে যেসব রাজ্যে আগে আলু ওঠে, সেখানে ইতিমধ্যেই আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। বাংলায় সাধারণত মার্চের শুরু থেকে আলু তোলার কাজ পুরোদমে শুরু হয় (Bengal Govt Potato Procurement)। সেই সময়ের আগেই রাজ্য সরকারের এই ৯.৫০ টাকা কেজি দরে আলু কেনার ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই বাংলার চাষিদের মনে অনেকটাই স্বস্তি এনে দেবে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

