Cockroach Janata Party: বেকারত্ব, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অসন্তোষকে সামনে রেখে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ থেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ককরোজ জনতা পার্টি’, যা এখন তরুণ সমাজের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এবার যোগ হল এক নতুন এবং ব্যঙ্গাত্মক অধ্যায়। নাম— “ককরোচ জনতা পার্টি”। প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে নিছক সোশ্যাল মিডিয়ার মজা বা ব্যঙ্গ বলে মনে করলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রাজনৈতিক ক্ষোভ, বেকারত্ব, পরীক্ষায় দুর্নীতি, মিডিয়ার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ— এই সমস্ত ইস্যুকে সামনে রেখেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে এই নতুন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
২০২৬ সালের ১৬ মে আম আদমি পার্টির সদস্য অভিজিৎ দীপক এই প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। এর ঠিক একদিন আগে, ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, দেশে এমন কিছু তরুণ রয়েছে যারা “আরশোলার মতো”— তারা না কোনও স্থায়ী কর্মসংস্থান পায়, না নিজেদের পেশাগত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে। এরপর তারা কেউ সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী, কেউ আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সমাজের সকলকে আক্রমণ করতে শুরু করে।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু তরুণ মনে করেন, দেশের বেকার ও হতাশ যুবসমাজকে অপমান করা হয়েছে। আর সেই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় “ককরোজ জনতা পার্টি”।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বাস্তব রাজনীতির পথে (Cockroach Janata Party)
শুরু থেকেই এই আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ভাষা, মিম সংস্কৃতি এবং প্রতিবাদী স্লোগানের মাধ্যমে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই প্ল্যাটফর্ম। দলটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট চালুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে সদস্য সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে দলটির জনপ্রিয়তা মিলিয়ন ফলোয়ারের ঘর স্পর্শ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি-র জনপ্রিয়তা যে কত দ্রুত বাড়ছে, তার বড় প্রমাণ মিলছে সামাজিক মাধ্যমেই। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এই মুহূর্তে দলটির সদস্য ও সমর্থকের সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছুঁয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেন-জি এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম, প্রতিবাদী গান, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং লাইভ আলোচনার মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই সিজেপি নিজেদের এক বিশাল ডিজিটাল কমিউনিটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করে জানান, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বেকার তরুণদের নয়, বরং জাল ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশায় প্রবেশ করা এবং আদালতের পরিবেশ নষ্ট করা কিছু ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্ম? (Cockroach Janata Party)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “ককরোজ জনতা পার্টি” শুধু একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বড় ইস্যু বেকারত্ব। দেশে শিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে ২৯.১ শতাংশ। এই হতাশাই আন্দোলনের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়েও দেশজুড়ে ছাত্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় “সিজিপি হ্যাঁ, ম্যায় হুঁ ককরোচ” নামে একটি প্রতিবাদী গানও প্রকাশ করে এই প্ল্যাটফর্ম, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এছাড়াও বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সরব হয়েছে দলটি। তাদের দাবি, স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচাতে কর্পোরেট একচেটিয়া মনোভাব ভাঙা জরুরি।
পাঁচ দফা ইস্তেহারে কী রয়েছে?
নিজেদের “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক অলস তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট” বলে দাবি করেছে দলটি। তাদের প্রকাশিত পাঁচ দফা ইস্তেহারে রয়েছে—
- অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে রাজ্যসভার আসন দেওয়া যাবে না।
- বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে তা “গণতান্ত্রিক সন্ত্রাস” হিসেবে গণ্য করতে হবে।
- সংসদে ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে।
- বড় কর্পোরেট মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে জায়গা দিতে হবে।
- কোনও সাংসদ বা বিধায়ক পদত্যাগ করলে তাঁকে আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে লড়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
কারা সমর্থন জানালেন? (Cockroach Janata Party)
দলটি গঠনের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
এছাড়াও একাধিক পরিচিত মুখ এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অনুরাগ কাশ্যপ, কঙ্কনা সেনশর্মা, দিয়া মির্জা, এষা গুপ্তা, ফাতিমা সানা শেখ, কুণাল কামরা এবং কুণাল কোহলির মতো ব্যক্তিত্বরা।
এখন বড় প্রশ্ন— সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ কি সত্যিই ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে চলেছে? নাকি এটি শুধুই ক্ষণস্থায়ী ডিজিটাল ক্ষোভ?
তার উত্তরই দেবে আগামী দিনের ভারতীয় রাজনীতি।

