Parambrata Chattopadhyay Controversy: পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং পুরনো পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে জনমানসে প্রশ্ন উঠছে অভিনেতা ও জনমান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য কতটা সংযত হওয়া উচিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদল এসেছে টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াতেও— এমনটাই মনে করছেন চলচ্চিত্র জগতের একাংশ। বহুদিন ধরেই টলিপাড়ায় “ব্যান কালচার” নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। অভিনেতা, কলাকুশলী, রূপসজ্জা শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ানদের একাংশের দাবি ছিল, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে বহু শিল্পীকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো। কোনও লিখিত নোটিস নয়, কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নয়— হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যেত বলে অভিযোগ।
বিশেষ করে প্রাক্তন সরকার এবং তৎকালীন তালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বহুবার উঠেছিল। টলিপাড়ার একাংশের দাবি, তাঁদের আমলেই স্টুডিও পাড়ায় “ব্যান কালচার” তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, কোনও শিল্পী বা কর্মী যদি সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করতেন বা মতানৈক্য তৈরি হতো, তাহলে তাঁকে কার্যত কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো।
তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলেই মনে করছে টলিপাড়ার একাংশ। এই পরিস্থিতিতে উদ্যোগ নিয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, বর্তমান তালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এবং অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়রা। সম্প্রতি তাঁরা টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে বহু শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা। যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ না পেয়ে সমস্যায় ছিলেন, যাঁদের অভিযোগ ছিল অন্যায়ভাবে তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন উদ্যোক্তারা। রুদ্রনীল ঘোষ জানান, স্টুডিও পাড়ায় সুস্থ কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে শিল্পচর্চার দাবি তুলেছেন অনেকেই। ফলে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে আশার আলো দেখছেন টলিপাড়ার বহু কর্মী ও শিল্পী। এখন দেখার, এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়।
সম্প্রতি অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। আর সেখানেই তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার বিজেপি বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, সেই সময় তিনি পরিস্থিতির চাপে পড়েই ওই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
পরমব্রত জানান, পরিচালক গিল্ডের পক্ষ থেকে যখন তিনি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তখন তাঁর পাশে খুব বেশি মানুষ দাঁড়াননি। তিনি দাবি করেন, সেই সময়ে বহু শিল্পী ও কর্মী কার্যত কাজ হারানোর মুখে পড়েছিলেন। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো অভিনেতারাও সেই সমস্যার মধ্যে ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিনেতার কথায়, সেই সময় তাঁর সন্তান জন্মায় এবং পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বেড়ে যায়। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি “দাঁতে দাঁত চেপে” পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হন। তাঁর দাবি, সেই কারণেই তৎকালীন মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এদিন পরমব্রত আরও বলেন, বর্তমান সরকার যেন চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত মানুষদেরই শিল্প সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রাখে। অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, টেকনিশিয়ান, এক্সিকিউটিভ— যাঁরা সত্যিই চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের হাতেই যেন সংগঠনের দায়িত্ব থাকে। রাজনৈতিক প্রভাব যেন শিল্পের পরিবেশকে আর প্রভাবিত না করে, সেই আবেদনও জানান তিনি।
একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ২০১১ সালের আগের কাজের পরিবেশের কথা। তাঁর বক্তব্য, তখন শিল্পীরা অনেক বেশি স্বাধীনতা ও আনন্দ নিয়ে কাজ করতে পারতেন। নতুন সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, সেই সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ যেন আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় পরমব্রতর একটি পুরনো পোস্ট। সেখানে ২০২১ সালের ২ রা মে ভোট পরবর্তী সময়ে “বিশ্ব রগড়ানি দিবস হোক” ধরনের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই পোস্টে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি লিখেছিলেন “হোক হোক”।
পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে পরমব্রত দাবি করেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২১ সালে দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই সেই প্রতিক্রিয়া এসেছিল।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ধরনের মন্তব্য ভোট-পরবর্তী হিংসা ও উত্তেজনাকে উসকে দিতে সাহায্য করেছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত কোনও রায় প্রকাশ্যে আসেনি।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে— টলিপাড়ায় কি সত্যিই রাজনৈতিক চাপের সংস্কৃতি ছিল? আর নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে কি সেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে চলেছে? এখন সেদিকেই নজর টলিপাড়ার।
টলিপাড়ার সাম্প্রতিক বৈঠকে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর এবার নতুন করে সামনে এল ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেই পোস্টকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পোস্টের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হওয়ার ঘটনাও সেই আবহের মধ্যেই ঘটে বলে অভিযোগ।
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জয়দীপ সেন এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে অভিজিৎ সরকারের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, সমাজে জনপ্রিয় মুখ এবং অভিনেতাদের বক্তব্যের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। তাই তাঁদের মন্তব্য যদি উস্কানিমূলক হয়, তাহলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় বহু বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হন, একাধিক বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারান। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু মন্তব্য সেই সময় দুষ্কৃতীদের “অক্সিজেন” জুগিয়েছিল এবং পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিল।
এই মামলার সূত্র ধরেই কলকাতা হাইকোর্টে বিষয়টি ওঠে এবং সেখানে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত হয় বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আদালতের তরফে কোনও চূড়ান্ত রায় বা দোষী সাব্যস্ত করার নির্দেশ সামনে আসেনি।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে— জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের কি আরও সংযত হওয়া উচিত নয়? জনসমক্ষে তাঁদের প্রতিটি বক্তব্য সমাজে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন একাংশ।
আরও একটি বড় প্রশ্ন ঘুরছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে— তাহলে কি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের মুখে? নাকি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই আগামী দিনই দেবে।
#ParambrataChattopadhyay #Tollywood #BengalPolitics #PostPollViolence #KolkataHighCourt #PoliticalControversy #SwastikaMukherjee #BJP

