COVID Symptoms: কলকাতায় শিশুর করোনা আক্রান্তের খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও চিকিৎসকদের মতে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বর্ষাকালে ফ্লু ও ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে করোনার উপসর্গের মিল থাকায় সতর্কভাবে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনে পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবার ফিরছে—এমন খবর শুনলেই ছয় বছর আগের আতঙ্ক অনেকের মনে ফিরে আসছে। কলকাতায় এক শিশুর কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার খবর, মুম্বাইয়ে মৃত্যুর সংবাদ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন সংক্রমণের আলোচনা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি জ্বর বা সর্দি-কাশিকে করোনা ধরে নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ বর্ষাকালে ফ্লু, ভাইরাল জ্বর ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণও বাড়ে, আর এগুলোর অনেক উপসর্গই করোনার সঙ্গে মিলে যায়। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উপসর্গ চিনে নেওয়া, প্রয়োজনে সঠিক সময়ে পরীক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এই প্রতিবেদনে জানুন নতুন করে করোনা সংক্রমণ নিয়ে কেন আলোচনা হচ্ছে, শিশুদের ক্ষেত্রে কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বাড়িতে কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত।
কলকাতায় শিশুর করোনা আক্রান্তের খবরে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
কলকাতায় এক শিশুর কোভিড পজিটিভ হওয়ার খবর সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ ছিল। চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ার পর কোভিড পরীক্ষা করা হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পাশাপাশি ফুসফুসে সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য অন্যান্য পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও নজরদারিতে রাখার মতো সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে একটি শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর মানেই নতুন করে মহামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। বর্ষাকালে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ খুবই সাধারণ। একই ধরনের লক্ষণ কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণেও দেখা যেতে পারে। ফলে শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
এই কারণেই চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো শিশুর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে বা শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বাড়িতে বসে অপেক্ষা না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
নতুন করে Covid-19-এর কোন কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?
বর্তমানে করোনা সংক্রমণের উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণের মতো হতে পারে। তাই শুধু জ্বর হয়েছে বলেই করোনা ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা উপসর্গকে একেবারে অবহেলা করাও উচিত নয়।
সাধারণভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর দুর্বল লাগা এবং ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শরীর ব্যথা, খাবারে অনীহা বা স্বাদ-গন্ধের পরিবর্তনের মতো সমস্যাও দেখা যেতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে উপসর্গ খুবই সামান্য হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নজর রাখা বিশেষ জরুরি। কারণ ছোটরা অনেক সময় নিজের অসুস্থতা স্পষ্ট করে বোঝাতে পারে না। শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঘুম, খাওয়া কমে যাওয়া বা খেলাধুলায় অনীহাও অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হলো শ্বাসকষ্ট। যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খুব দ্রুত শ্বাস নেয়, বুক ভেতরের দিকে ঢুকে শ্বাস নেয়, ঠোঁট বা মুখ নীলচে দেখায়, বারবার বমি হয় বা শিশুকে অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ মনে হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
জ্বর হলেই কি করোনা? ফ্লু আর কোভিডের পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?
এখনকার সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—জ্বর বা কাশি হলেই অনেকেই ধরে নিচ্ছেন করোনা হয়েছে। এই ধারণা যেমন অযথা আতঙ্ক তৈরি করে, তেমনই কখনও কখনও সঠিক চিকিৎসা পেতেও দেরি হতে পারে।
ফ্লু, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ এবং কোভিড-১৯—তিনটির উপসর্গের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তাই শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় কোন রোগ হয়েছে। সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে উপসর্গ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। কিন্তু জ্বর কয়েক দিন ধরে না কমলে, কাশি বাড়তে থাকলে বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোভিডের সম্ভাবনা যাচাই করতে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। বিশেষ করে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা, পরিবারের একাধিক সদস্য একই সময়ে অসুস্থ হওয়া বা শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গ দ্রুত বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা থাকলে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
এখানে মনে রাখা দরকার, পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিজে থেকে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়াই ভালো। কারণ রোগীর বয়স, উপসর্গ, পূর্ববর্তী অসুস্থতা এবং সংক্রমণের পরিস্থিতি—সবকিছু বিবেচনা করেই সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে কখন বাড়তি সতর্কতা জরুরি?
শিশুদের করোনা নিয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা উচিত। বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বহু শিশুর ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণ মৃদু উপসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রত্যেক শিশুর শারীরিক অবস্থা এক নয়। তাই কিছু লক্ষণকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।
যদি জ্বর দীর্ঘ সময় ধরে থাকে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার। একইভাবে কাশি ক্রমশ বাড়তে থাকলে, শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা ও খেলাধুলা করতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। খাওয়া-দাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও গুরুত্ব দিতে হবে।
যেসব শিশুর আগে থেকেই হাঁপানি, হৃদ্রোগ, ফুসফুসের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এমন শিশুদের জ্বর বা শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
অভিভাবকদের উচিত শিশুকে নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ না দেওয়া। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত কার্যকর নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ালে বরং সমস্যা বাড়তে পারে।
করোনা থেকে বাঁচতে এখন কী কী করবেন?
করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ সংক্রমণ প্রতিরোধের অভ্যাসগুলোই নিয়মিত মেনে চলা সবচেয়ে কার্যকর। অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি যাওয়া এড়ানো, ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ জ্বর, কাশি বা সর্দিতে আক্রান্ত হলে সম্ভব হলে কিছুদিন বিশ্রামে থাকা এবং অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ভালো। বিশেষ করে বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন কেউ থাকলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ভিড় বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এমন পরিবেশে মাস্ক ব্যবহার পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং ব্যবহৃত টিস্যু বা রুমাল যথাযথভাবে ফেলে দেওয়াও জরুরি।
সবচেয়ে বড় কথা, আতঙ্ক নয়—সচেতনতাই এখন প্রধান অস্ত্র। বর্তমানে জ্বর, সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথা হলেই সেটিকে করোনা বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। আবার উপসর্গ গুরুতর হলে শুধুমাত্র সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে বসে থাকাও ঠিক নয়। শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ঝুঁকির পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করান।
কলকাতায় শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর কিংবা দেশের অন্যত্র সংক্রমণের ঘটনা অবশ্যই নজরে রাখার মতো বিষয়। তবে চার বছর আগের মহামারির স্মৃতি থেকে আতঙ্কিত না হয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে তথ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে দেখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চললে এবং সতর্ক সংকেতগুলো সময়মতো চিনতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
জ্বর হলেই করোনা নয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, বাড়তে থাকা কাশি বা শ্বাসকষ্টকে কখনও অবহেলা করবেন না। শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গেও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
#covid19 #covidsymptoms #coronavirus #covidinkolkata #childhealth #healthnews #covidprecautions
সাম্প্রতিক পোস্ট
রাত পেরিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এল না? এবার কী করতে হবে জেনে নিন, মিস করবেন না
রাজ্যে চালু প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা, ১১ হাজার টাকা পাবেন কারা? জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন?
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে
আপনার এলাকায় কি মিলবে ১২৫ দিনের কাজ? আজ থেকেই চালু নতুন প্রকল্প, জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা

