Durga Idol Immersion Guidelines: গঙ্গায় প্রতিমা বহনকারীদের পরিচয় নথিভুক্ত করার নির্দেশ পুলিশ কমিশনারকে। বিসর্জনে ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলি ব্যবহার, ঘাটে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং চার পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৮ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নজরদারি।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় কারা প্রতিমা স্পর্শ করবেন এবং কারা প্রতিমা বহন করে গঙ্গায় নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতার বাবুঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি জানান, যাঁরা সনাতন ধর্ম অনুসরণ করেন, তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। প্রতিমা বহনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় নথিভুক্ত রাখার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্মীয় আচার, শাস্ত্র এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
বাবুঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। বিসর্জনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রতিমা বহন, ঘাটের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘যাঁরা সনাতন ধর্ম অনুসরণ করেন, তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন’
বাবুঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যাঁরা প্রতিমা বহন করে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়ার কাজে যুক্ত থাকবেন, তাঁদের পরিচয় নথিভুক্ত রাখতে পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি। যাঁরা সনাতন ধর্ম অনুসরণ করেন, তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার কোনও বিষয় নেই।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিমা বহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের সময় এই নির্দেশ মেনে চলার বিষয়টি দেখার কথাও বলেছেন তিনি।
ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘বিসর্জনের পবিত্রতা বজায় রাখতে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা প্রথা, শাস্ত্র এবং নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এটি একটি উৎসব, কিন্তু মূলত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান।’
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিসর্জনের আচার পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন ও প্রচলিত রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই প্রতিমা স্পর্শ ও বহনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলি, বিসর্জনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন
এবার প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রতিমা সামলানোর ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমা ওঠানো-নামানোর কাজে ক্রেন ব্যবহারের পরিবর্তে ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আগের ব্যবস্থায় ক্রেন ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পর এই পরিবর্তন করা হয়েছে। বিসর্জনের সময় প্রতিমা সামলানোর কাজ যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ এবং কলকাতা পুরসভা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তা নিতে পারবে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
বিসর্জন পর্ব শেষ হওয়ার পরে নদী ও ঘাটসংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থার কথাও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। নিরঞ্জনের পরে প্রতিমার কাঠামো ও অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
চোরবাগানের ঘটনার পরে নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা, নজরদারিতে ১৮ আধিকারিক
কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর বিসর্জনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। ওই ঘটনায় প্রাণহানির পর বড় জমায়েত ও প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কলকাতা এবং সংলগ্ন তিনটি পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় বিসর্জন তদারকির জন্য মোট ১৮ জন ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন কলকাতায় এবং বাকি ছয়জন হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগরে নজরদারি করবেন।
২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জনের বিভিন্ন পর্যায়ে এই আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনের কথা জানানো হয়েছে। প্রতিমা বহন, ঘাটে মানুষের যাতায়াত এবং বিসর্জনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নজর রাখবেন তাঁরা।
এ ছাড়াও ঘাটগুলিতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ, পুরসভা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রেখে বিসর্জনের ব্যবস্থা পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বাবুঘাট পরিদর্শনের পরে নৌকায় করে হাওড়ার দিকের গঙ্গার ঘাটগুলির বিসর্জন প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক পোস্ট
নিয়োগ দুর্নীতি কি আগামী দিনে কমবে? জানুন, চাকরির নিয়মে এই পরিবর্তনে আসবে কি স্বচ্ছতা?
এক্সপোজড! ককরোচ জনতা পার্টির নেপথ্যে কোন চক্রান্তের গন্ধ? সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন
মহিলাদের বাসে টিকিট কাটতে হবে না! জানুন, এই কার্ড থাকলেই দিঘা থেকে দার্জিলিং সফর ফ্রী তে

