Falta By Election Jahangir Khan: জাহাঙ্গীর খান নির্বাচনে না থাকলেও ফলতার রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এখনও স্পষ্ট। শান্তিপূর্ণ ভোট, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং স্থানীয়দের বিস্ফোরক অভিযোগে বদলে গিয়েছে এবারের ফলতার উপনির্বাচনের চিত্র।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শেষ হয়ে হইল না শেষ, জাহাঙ্গীর খানকে ছাড়া ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও সম্পূর্ণ হচ্ছে না। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ফলতার এই দাপুটে নেতাকে ঘিরেই এখনও আবর্তিত হচ্ছে এলাকার ভোটের আলোচনা। ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাহাঙ্গীর খান ঘোষণা করেছিলেন, তিনি এবারের নির্বাচনে লড়ছেন না। তবে এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত, নাকি দলীয় স্তরে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি কিছু না বললেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে দল ধীরে ধীরে জাহাঙ্গীর খানের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে।
একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর খান মানেই ছিল প্রভাব, ক্ষমতা এবং অঘোষিত দাপটের এক আলাদা অধ্যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল শর্মাকে পর্যন্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় নিয়ে এসেছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সেই সময় জাহাঙ্গীর খানের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য— “পুষ্পা ঝুঁকে না”— রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ছবিটাই যেন বদলে গিয়েছে। যে নেতা একসময় ফলতার রাজনৈতিক ময়দানে শেষ কথা বলে পরিচিত ছিলেন, তিনিই এবারের উপনির্বাচনের আগেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— জাহাঙ্গীর খানের ছায়া ছাড়া আজকের ফলতা ঠিক কেমন?
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আগের ফলতায় ভোট মানেই ছিল আতঙ্ক, চাপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে ছবিটা অনেকটাই আলাদা। কড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে বহু মানুষ নাকি প্রথমবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছেন। এলাকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই— জাহাঙ্গীর-পরবর্তী ফলতার রাজনৈতিক বাস্তবতা।
এই প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরব আগের ফলতা আর আজকের ফলতার পার্থক্য, মানুষের অভিজ্ঞতা, ভোটের পরিবেশ এবং বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের গল্প। অন্যদিকে ভোটপর্ব শেষ হলেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। ফলে এখন রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে এই উপনির্বাচনে।
এই পরিস্থিতিতে ফলতার উপনির্বাচনের চিত্রও অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এলাকায় প্রায় পঁয়ত্রিশ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বহু ভোটার জানাচ্ছেন, বহু বছর পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারছেন। দু’হাজার চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় এক লক্ষ আটষট্টি হাজারেরও বেশি লিড পেয়েছিলেন। অথচ সেই একই এলাকায় আজ অনেকের দাবি, রাজনৈতিক লড়াইয়ের চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এতদিন তাঁরা অবাধে ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের দাবি, জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠদের তরফে ভোটের দিন বাড়ি থেকে বেরোলে হুমকি দেওয়া হত, এমনকি পরিবারের উপর হামলার আশঙ্কাও দেখানো হত। মহিলাদের অসম্মান করার হুমকির অভিযোগও উঠেছে। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁরা প্রথমবার নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন বলেই দাবি করছেন অনেকে।
শুধু ভোট নয়, আম্ফান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, যাদের পাকা বাড়ি ছিল তারাই সরকারি সাহায্য পেয়েছেন, অথচ যাদের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছিল, তাদের ছবি তুলে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনও সহায়তা মেলেনি। বহু পরিবার এখনও ভাঙা বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে।

