Hasi Rasi Rasi Bengali: সময় বদলায়। বদলাবেই। নিয়নের আলো ফিকে হয়ে এলইডি’র উজ্জলতায়। স্মার্টফোন মাপে রক্তচাপ। মুহূর্তগুলো বন্দি আজ আঙুলের ছোঁয়ায়। তবু ছুটির দিনে ক্লান্ত দুপুরে ভাতঘুম মন। শিরিষ গাছের দীর্ঘ ছায়া আড়মোড়া ভাঙে তপ্ত ছাদে। আর মন কেমন করা রবিবার দুপুরে মজে থাকে ‘রোদ্দুরের কথকতা‘। কলমে-দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার অফিসের বস খুব স্নেহশীল। আগের দিন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, – কি ব্যাপার মুখটা শুকনো লাগছে কেন? চিন্তা? হাসি খুশি থাকো। বুঝলে ভায়া, হাসির অনেক গুণ। সময় করে আমার কাছে বোসো একদিন। তোমাকে আমি অনেক রকম হাসির গুনাগুণ বুঝিয়ে দেব। আরেকটা কথা বলি। হাসি নিয়ে ভাবো, হাসি নিয়ে লেখো। দেখবে জীবনকে মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।
মানুষের মুখে হাসি দেখলেই আমরা ধরে নিই, মানুষটি সুখী। অথচ হাসি বড় বিচিত্র জিনিস। একই মুখ, একই দাঁত, একই ঠোঁট—তবু পরিস্থিতি বদলালেই হাসির চরিত্র বদলে যায়। কোনো হাসি আনন্দের, কোনোটা ভদ্রতার, কোনোটা বিপদের, আবার কোনো কোনো হাসির সঙ্গে আনন্দের দূরতম সম্পর্কও নেই।
ছোটবেলায় হাসি ছিল খুব সহজ জিনিস। ভালো লাগলে হাসতাম, মজা পেলে হাসতাম, বন্ধুরা পড়ে গেলে, যদিও পরে অপরাধবোধ হতো – তবু হাসতাম। তখন হাসির জন্য কোনো কারণ দেখাতে হতো না। এখন বয়স বেড়েছে, জীবন বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে—হাসিটাও যেন অনেক হিসেব করে হাসতে হয়।
সবচেয়ে সহজ হাসি হল মুচকি হাসি। এই হাসির কোনো শব্দ নেই, কিন্তু অর্থ অনেক। রাস্তা দিয়ে পরিচিত কাউকে দেখলাম, কিন্তু দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় নেই—একটু মুচকি হাসি। অফিসে এমন একজন সহকর্মীকে দেখলাম, যাঁকে দেখে বিশেষ আনন্দ হল না—তবু মুচকি হাসি। পাশের বাড়ির কাকিমা জিজ্ঞেস করলেন, “কী রে, বিয়ে কবে?”—সেখানেও মুচকি হাসি। এই হাসির আড়ালে কত কথা যে চাপা থাকে, তার হিসেব কোনো অভিধানে নেই।
তারপর আছে অট্টহাসি। এই হাসির কোনো ব্যক্তিগত পরিসর নেই। একজন হাসলে আশপাশের পাঁচজন জানবে। পাড়ার চায়ের দোকানে বসে কেউ পুরোনো একটা গল্প বলল, আর অট্টহাসি শুরু হল—দোকানের বেঞ্চ কেঁপে উঠল, পাশের দোকানদার তাকালেন, রাস্তার কুকুরও একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। অট্টহাসির একটা সমস্যা আছে—গল্প যতটা মজার, হাসি তার চেয়ে অন্তত তিনগুণ বড় হয়।
আবার আছে ভদ্রতার হাসি। এই হাসি সভ্য সমাজের অন্যতম প্রয়োজনীয় জিনিস। কেউ এমন একটি গল্প বললেন, যার শুরুতে আপনি বুঝলেন না, মাঝখানে বুঝলেন না, শেষেও বুঝলেন না—কিন্তু সবাই হাসছে। তখন আপনাকেও হাসতে হবে। না হলে সবাই ভাববে, আপনার রসবোধের সমস্যা আছে। তাই মুখে একটা হাসি এনে মাথা নাড়তে হয়। অনেক সময় গল্পের চেয়ে এই হাসিটাই বেশি অভিনয়ের গল্প হয়ে ওঠে।
লজ্জার হাসি একেবারে আলাদা। কেউ প্রশংসা করলেই অনেকের মুখে এই হাসি ফুটে ওঠে। “আপনাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে”—এই কথা শুনে মুখ নিচু করে হাসা।
আবার বিপদের হাসি আছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে যখন বোঝা যায়, গত ছয় মাস ধরে যে বিষয়টি পড়িনি, প্রস্তুতি পর্বে বাদ দিয়েছি। আজ সেটি থেকে প্রশ্ন এসেছে। তখন পাশের বন্ধুর দিকে তাকিয়ে যে হাসি বেরোয়, তার মধ্যে আনন্দের চেয়ে অসহায়ত্ব বেশি। দুজনেই হাসে। হাসতেই থাকে। ঈশ্বর লাভের ইচ্ছে হয়।
ভারতযুদ্ধে অর্জুনকে ভগবান কি যেন বলেছিলেন!
আজ এই পর্যন্তই।।
#HasiRasiRasi #BengaliPoetry #BengaliRhymes #Kobita #BengaliLiterature #ChildrenPoetry
সাম্প্রতিক পোস্ট
স্কুলের শৌচাগারে সাপ! নামী বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, কী বলছে কর্তৃপক্ষ
নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিজিৎ দীপকে কি তবে এবার বিজেপিতে? রাজনৈতিক প্রস্তাব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পদক্ষেপ কী?

