নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ সিং কোঠারির প্রয়াণে এখনও শোকস্তব্ধ সংবাদমাধ্যম ও গণযোগাযোগ জগৎ। তাঁর চলে যাওয়াকে ভারতীয় সাংবাদিকতার এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেই মনে করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক, অধ্যাপক, গবেষক ও শুভানুধ্যায়ীরা। আর সেই কারণেই গত ২১ মে আয়োজিত হল “স্মৃতিতে শ্রদ্ধেয় কল্যাণ কোঠারি” শীর্ষক একটি অনলাইন শ্রদ্ধাঞ্জলি সভা, যেখানে তাঁকে স্মরণ করতে একত্রিত হন দেশের নানা প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
এই শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয় জয়পুর থেকে প্রকাশিত গণমাধ্যম বিষয়ক পত্রিকার উদ্যোগে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা কল্যাণ সিং কোঠারিকে নীতিবান, মানবিক, সমাজমনস্ক এবং গভীর মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে একজন সাংবাদিকের পাশাপাশি সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথাও।
রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান সঞ্জীব ভানাবত বলেন, কল্যাণ কোঠারি শুধুমাত্র একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আন্তরিক, প্রাণবন্ত এবং সংলাপমুখী। সমাজের নানা সমস্যাকে তিনি সবসময় গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন এবং সংবাদমাধ্যমকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।
বিভিন্ন বক্তা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, কল্যাণ কোঠারি সবসময় তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহ দিতেন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক, সমাজকর্মী ও গণযোগাযোগ শিক্ষকেরা বলেন, সাংবাদিকতা তাঁর কাছে কখনও শুধুমাত্র পেশা ছিল না। মানুষের কথা বলা, সমাজের কথা তুলে ধরা এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর জীবনের মূল আদর্শ।
অনুষ্ঠানের শেষে তাঁর পুত্র পুনীত কোঠারি আবেগঘন বক্তব্যে সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাবাকে নিয়ে এত মানুষের ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ এবং শ্রদ্ধা তাঁদের পরিবারের কাছে গভীর মানসিক শক্তি হয়ে থাকবে।
সংবাদমাধ্যমের একাংশ মনে করছে, কল্যাণ সিং কোঠারির প্রয়াণে ভারতীয় সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে তাঁর কাজ, আদর্শ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

