Kalyan Singh Kothari Death: সাংবাদিকতা থেকে জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শিক্ষায় অসামান্য অবদান রেখে যাওয়া প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ সিং কোঠারির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সংবাদমাধ্যম ও গণযোগাযোগ জগৎ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক কল্যাণ সিং কোঠারি আর নেই। গত ১৮ মে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংবাদমাধ্যম, জনসংযোগ এবং গণযোগাযোগ জগতে। পরিবারে রেখে গেলেন স্ত্রী হংসা কোঠারি, পুত্র পুনীত কোঠারি, পুত্রবধূ সঞ্জনা কোঠারি, কন্যা পূর্বা মহনোত, জামাতা অভয় মহনোত, নাতনি ঈশী এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে এক বৃহৎ পরিবার।
১৯৪৪ সালের ৭ জুন যোধপুরে জন্মগ্রহণ করেন কল্যাণ সিং কোঠারি। দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনে তিনি শুধু সাংবাদিকতাই করেননি, সমাজমুখী যোগাযোগ ও জনসচেতনতার ক্ষেত্রেও রেখে গিয়েছেন অসামান্য অবদান। যুদ্ধ সাংবাদিকতা থেকে আইন, রাজনীতি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, নাগরিক সাংবাদিকতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা— নানা ক্ষেত্রে তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আরও পড়ুন : ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য শুধু কি জেনজি? কী তাদের এজেন্ডা? কেন তাদের ফলোয়ার্ হু হু করে বাড়ছে?
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। সেই সময় সীমান্তের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকিও নিতে হয়েছিল তাঁকে। বাঙ্কারে থেকে সীমিত খাবার ও জলের মধ্যেও তিনি সংবাদ পাঠিয়েছেন পাঠকদের কাছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতিকে শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
কল্যাণ সিং কোঠারির অভিজ্ঞতা ও কাজ থেকে উপকৃত হয়েছেন অসংখ্য সাংবাদিক, গবেষক, গণমাধ্যম শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে অধ্যাপক রমেশ কুমার রাওয়াত একটি গ্রন্থ এবং তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সেই গ্রন্থ ও তথ্যচিত্র ভারত এবং এশিয়ার রেকর্ড তালিকাতেও স্থান পায়।
তিনি দেশের বিশিষ্ট গণমাধ্যম শিক্ষক সঞ্জীব ভানাবতের সঙ্গে মিলে সর্বভারতীয় গণমাধ্যম শিক্ষাবিদ সম্মেলনের সূচনাও করেছিলেন। এই সম্মেলনে বহু শিক্ষক, গবেষক ও পেশাদার অংশ নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
শুরুতে তিনি প্রকৌশলী হতে চাইলেও গণিতে দুর্বলতার কারণে সেই পথ ছেড়ে কলা বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে আইন পেশাতেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতাকেই জীবনের মূল পথ হিসেবে বেছে নেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সফল জনসংযোগ কর্মী ও গণমাধ্যম পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বহু মানুষকে দিশা দেখিয়েছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বহু সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট তাঁকে ‘মাণক অলংকরণ’ সম্মানে সম্মানিত করেছিলেন।
তাঁর প্রয়াণের পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক, গণমাধ্যম শিক্ষক, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী এবং জনসংযোগ বিশেষজ্ঞরা শোকপ্রকাশ করেছেন।
২১ মে “স্মৃতিতে শ্রদ্ধেয় কল্যাণ কোঠারি” শীর্ষক একটি অনলাইন শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সাংবাদিক, অধ্যাপক, গবেষক এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কল্যাণ সিং কোঠারিকে নীতিবান, সংবেদনশীল, সমাজমনস্ক এবং মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন।
রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান সঞ্জীব ভানাবত বলেন, কল্যাণ কোঠারি শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রাণবন্ত।
বিভিন্ন বক্তা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি সবসময় তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহ দিতেন এবং সামাজিক মূল্যবোধকে সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি বলে মনে করতেন।
অনুষ্ঠানের শেষে তাঁর পুত্র পুনীত কোঠারি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণ তাঁদের পরিবারের কাছে মানসিক শক্তি হয়ে থাকবে। কল্যাণ সিং কোঠারির প্রয়াণ শুধু একজন সাংবাদিকের মৃত্যু নয়, ভারতীয় সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান বলেই মনে করছেন সংবাদমাধ্যমের একাংশ।
#KalyanSinghKothari #VeteranJournalist #IndianJournalism #MediaEducation #WarJournalist #JournalismNews #Tribute #RajasthanNews

