Messi Kolkata Controversy ঘিরে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নতুন তদন্তের নির্দেশের পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সামনে আসছে ঘটনার দিনের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দুহাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক চরম বিশৃঙ্খলায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটেও একবারের জন্য মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গোটা ঘটনাই পরে “মেসি কাণ্ড” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে অব্যবস্থা, টিকিট দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ভিআইপি দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে চরম বঞ্চনার।
সেই সময় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। ঘটনার পর থেকেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, মাঠে রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন দফতরের কর্তা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিড়ের কারণে সাধারণ দর্শকরা প্রবল সমস্যার মুখে পড়েন। এমনকি জলের বোতল বিক্রি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু দর্শক দাবি করেছিলেন, তাঁরা টাকা খরচ করে টিকিট কাটলেও মাঠে মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি।
সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই বহুচর্চিত “মেসি কাণ্ড”-এর ফাইল পুনরায় খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্ত হবে এবং যাঁরা টিকিট কেটেও প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরতের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, অরূপ বিশ্বাস শুধু ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রীই ছিলেন না, তিনি বিদ্যুৎ ও আবাসন দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এবং দুহাজার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাঁকে ঘিরে পুরনো বিতর্কগুলি ফের সামনে আসতে শুরু করেছে।
এদিকে, গোটা অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তও এবার মুখ খুলেছেন। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে দাবি করেছেন, মেসিকে কলকাতায় আনার জন্য তাঁর তিন বছরের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায় কিছু রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কয়েকজন পুলিশ অফিসারের হস্তক্ষেপে। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের দিন বহু রাজনৈতিক নেতার পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সাধারণ দর্শকরা বঞ্চিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শতদ্রু দত্ত আরও দাবি করেছেন, সেই দিনের বিশৃঙ্খলা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীনতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল। তিনি সরাসরি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, প্রশাসনিক স্তরে সঠিক সমন্বয় না থাকায় গোটা অনুষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়ে। তাঁর কথায়, “যে স্বপ্ন নিয়ে মেসিকে কলকাতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা কিছু প্রভাবশালী মানুষের জন্য নষ্ট হয়ে যায়।”
রাজ্য সরকারের তরফে এখন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই মামলার পুরনো নথি ও সমস্ত তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা, টিকিট বণ্টনের পদ্ধতি, ভিআইপি প্রবেশ এবং আর্থিক লেনদেন—সব কিছুই খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ফলে “মেসি কাণ্ড” নিয়ে আবারও নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন চাপা পড়ে থাকা কোন কোন তথ্য এবার সামনে আসতে চলেছে? আর নতুন তদন্তে আদৌ কি শাস্তি হবে দোষীদের? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেই আবহেই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। সম্প্রতি বাংলার জনপ্রিয় পডকাস্ট সঞ্চালক অরিজিৎ চক্রবর্তীর একটি আলোচিত পডকাস্টে এসে সতদ্রু দত্ত এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, সেই দিনের বিশৃঙ্খলার পিছনে শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারও বড় কারণ ছিল।
শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতিতে বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের শরীরে অনুমতি ছাড়া হাত দেওয়া বা অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়াকে অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়। কিন্তু যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে সেদিন সেই সীমারেখা ভেঙে ফেলা হয়। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের কাছে মাঠে প্রবেশের বৈধ অনুমতিপত্র ছিল না। তবুও তাঁরা বলপূর্বক মাঠে প্রবেশ করেন এবং মেসির সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেন।
শুধু তাই নয়, শতদ্রু দত্তের আরও অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা সামলানোর বদলে অনেকেই সেদিন সেলফি তোলা এবং ছবি তুলতেই ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি এক পুলিশ কর্তা মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে তাঁর গায়ে আঁচড় লাগিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন শতদ্রু দত্ত। এই ঘটনার পরেই মেসির ম্যানেজার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
শতদ্রু দত্তের কথায়, “মেসির মতো বিশ্ববিখ্যাত একজন ফুটবলারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা দরকার ছিল। আমি প্রথম থেকেই স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে বারবার আবেদন করেছিলাম, যাতে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে কিছু প্রভাবশালী মানুষের জন্য।”
তিনি আরও জানান, মেসিকে কলকাতায় আনার জন্য তিনি প্রায় তিন বছর ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন রাজনৈতিক প্রভাব, ভিআইপি সংস্কৃতি এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের কারণে গোটা আয়োজন ভেস্তে যায়। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের প্রভাব খাটিয়ে অনুমতিপত্র ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেন এবং সেই ঘটনাই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।
শতদ্রু দত্ত যদিও এও স্পষ্ট করেছেন যে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তাঁর বক্তব্য, “যে দোষী হোক না কেন, তার শাস্তি হওয়া উচিত। প্রয়োজনে আমি নিজেও যদি কোথাও দোষী প্রমাণিত হই, তাহলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এদিকে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, “মেসি কাণ্ড”-এর পুরনো ফাইল পুনরায় খোলা হবে। টিকিট কেটে বঞ্চিত হওয়া দর্শকদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম, নিরাপত্তা ভাঙন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা—সব কিছুই নতুন করে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বহুদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা এই বিতর্কে আদৌ কি সত্য সামনে আসবে? যারা দোষী, তারা কি সত্যিই শাস্তি পাবে? আর যেসব দর্শক মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় টাকা খরচ করেও হতাশ হয়েছিলেন, তাঁদের আবেগের কি কোনও উত্তর মিলবে? “মেসি কাণ্ড”-এর তদন্ত এবার কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

