Om Shaped Temple Rajasthan: রাজস্থানের পালি জেলায় জাদন গ্রামে নির্মীয়মাণ এই অনন্য মন্দিরটি গড়ে উঠছে পবিত্র ‘ওঁম’ প্রতীকের আদলে। ২৫০ একর জুড়ে বিস্তৃত বিশাল কাঠামোটি সম্পূর্ণ হলে তার আকৃতি নাকি মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও স্পষ্ট দেখা যাবে, যা একে বিশ্বের প্রথম এই ধরনের আধ্যাত্মিক স্থাপত্যে পরিণত করবে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান। রাজস্থানের পালি জেলার জাদান গ্রামে তৈরি হলো বিশ্বের প্রথম ‘ওঁম’ (ॐ) আকৃতির এক সুবিশাল মন্দির। স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই ‘ওঁম আশ্রম’ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই মন্দিরের আকার ও বিস্তার এতটাই বিশাল যে মহাকাশের স্যাটেলাইট থেকেও এর ‘ওঁম’ আকৃতি স্পষ্ট দেখা যাবে।
বিশাল এই মন্দিরটি ২৫০ একর জমির উপর বিস্তৃত এবং এটি বিশ্বের প্রথম মন্দির, যা সম্পূর্ণভাবে পবিত্র ‘ওম’ প্রতীকের আকৃতিতে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১৩৫ ফুট। নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন চার শতাধিক শ্রমিক ও কারিগর। স্থাপত্যে উত্তর ভারতের প্রচলিত নাগর শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। এই মন্দির কেবল ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, স্থাপত্যশৈলী ও আকারের দিক থেকেও বিশ্বদৃষ্টি আকর্ষণ করতে চলেছে। এমনকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর বিশাল গঠন মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হতে পারে।
মন্দিরের বিশেষত্ব
ওম আকৃতির এই মন্দিরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো—এখানে একসঙ্গে ১,০০৮টি মহাদেবের মূর্তি এবং ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ স্থাপন করা হবে। যা একে অনন্য ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। মন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২,০০০টি স্তম্ভের উপর। প্রাঙ্গণে থাকবে ১০৮টি কক্ষ, যা সাধু-সন্ন্যাসী ও ভক্তদের জন্য নির্ধারিত। মন্দির চত্বরে কেন্দ্রীয় স্থানে রয়েছে গুরু মাধবানন্দজির সমাধি, যা এই প্রকল্পের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু। উপরের অংশে স্থাপন করা হয়েছে একটি বিশেষ গর্ভগৃহ, যেখানে ধোলপুরের বানসি পাহাড় থেকে আনা স্ফটিক পাথর দিয়ে নির্মিত শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও মন্দিরের নীচে নির্মিত হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টন ধারণক্ষমতার বিশাল জলাধার। এই মন্দিরের পরিকল্পনাকারী ও প্রবর্তক হলেন বিশ্বগুরু মহামণ্ডলেশ্বর পরমহংস স্বামী মহেশ্বরানন্দ পুরীজি মহারাজ, যিনি ওম আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি মন্দির নয়—বরং আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতীক।
এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে একটি বিশাল ‘গুরুকুল’ এবং লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে প্রাচীন বৈদিক শিক্ষা ও সংস্কৃত চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এখানে আর্তসেবার জন্য হাসপাতাল ও যোগাভ্যাস কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে।
কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?
রাজস্থানের পালি জেলার জাদান গ্রামে অবস্থিত এই মন্দিরটি জাতীয় সড়ক ৬২-এর পাশে অবস্থিত। কলকাতা থেকে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে যোধপুর বা বিকানেরগামী যেকোনো ট্রেনে আপনাকে যোধপুর বা বিকানীর যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে ট্রেনে উঠে আপনাকে নামতে হবে ‘মাড়ওয়াড় জংশন’ (Marwar Junction) স্টেশনে। সেখান থেকে জাদান আশ্রমের দূরত্ব মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার। অটো বা বাসে করে সহজেই মন্দিরে পৌঁছানো যায়।
যোধপুর বিমানবন্দর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৭১ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে সরাসরি আশ্রমে যাওয়া সম্ভব। যারা দিল্লি থেকে আসতে চান, তারা দিল্লি-আমেদাবাদ রুটের ট্রেনে চেপে মাড়ওয়াড় জংশনে নামতে পারেন। রাজস্থানের তপ্ত বালুকাবেলায় গড়ে ওঠা এই সাদা পাথরের ‘ওঁম’ মন্দিরটি ভারতের প্রাচীন বৈদিক ঐতিহ্য ও আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যার এক চূড়ান্ত মিলনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই মন্দির নাগর শৈলীতে নির্মিত, যা উত্তর ভারতের প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারা। ওম প্রতীকটি হিন্দু ধর্মে ‘মহামন্ত্র’ হিসেবে পরিচিত—প্রতিদিন ভোরে বহু ভক্ত এই মন্ত্র জপ করেন। সেই পবিত্র প্রতীককে বাস্তব স্থাপত্যে রূপ দেওয়া নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। প্রায় অর্ধ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে বিস্তৃত এই নকশা কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্য নৈপুণ্যেরও প্রতিফলন।
#OmShapedTempleRajasthan, #OmAakarTemple, #PaliRajasthan,#MahadevTemple, #Jyotirlinga, #NagaraArchitecture
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

