Pakistan vs Afghanistan Military Power: ডুরান্ড লাইনে বারুদের গন্ধ। টিটিপি (TTP)-কে দমনের নামে আফগানিস্তানের গভীরে ঢুকে পাকিস্তানের লাগাতার এয়ারস্ট্রাইক, আর তার বদলা নিতে প্রত্যাঘাত তালিবানের। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণার পর দুই দেশের সামরিক শক্তির তুল্যমূল্য আলোচনা। পাকিস্তানের এফ-১৬ বনাম তালিবানের লুটে নেওয়া মার্কিন অস্ত্র—যুদ্ধে কে কাকে টেক্কা দেবে? জানুন বিস্তারিত।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাস বড়ই অদ্ভুত। যে পাকিস্তান একসময় আফগান তালিবানদের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’, সৃষ্টিকর্তা এবং মদতদাতা বলে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হতো, আজ সেই দুই দেশের মধ্যেই বেজে উঠেছে সর্বনাশা যুদ্ধের দামামা। ২০২৬ সালের শুরুর দিক থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং ভয়ংকর মোড় এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রকাশ্যে এটিকে ‘খোলা যুদ্ধ’ (Open War) বলে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।
ডুরান্ড লাইন (Durand Line) বরাবর দুই দেশের ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এখন কার্যত রণক্ষেত্র। একদিকে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের বড় বড় শহরগুলোতে (কাবুল, কান্দাহার, খোস্ত, পাকতিকা) বোমা বর্ষণ করছে, অন্যদিকে আফগান তালিবানরা মাটি কামড়ে পড়ে থেকে পাকিস্তানের বর্ডার পোস্টগুলোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে একটা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে—খাতায়-কলমে পরমাণু শক্তিধর, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা পাকিস্তানের সামনে তালিবানরা কতটা টিকতে পারবে? নাকি গেরিলা যুদ্ধে ওস্তাদ তালিবানদের কাছে, আমেরিকার পর এবার পাকিস্তানও নাকানিচোবানি খাবে?
আসুন, সাম্প্রতিক এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের সামরিক কাঠামোর (Defence Structure) একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ দেখে নেওয়া যাক।
সংঘাতের সূত্রপাত: কেন হঠাৎ জ্বলে উঠল ডুরান্ড লাইন?
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব এক দিনে তৈরি হয়নি। এর মূলে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী—’তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ বা টিটিপি (TTP)। পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২১ সালে কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগান তালিবানরা টিটিপি জঙ্গিদের আফগানিস্তানের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় (Safe haven) দিচ্ছে। সেই আশ্রয়স্থল থেকে টিটিপি জঙ্গিরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, বালোচিস্তান এবং খোদ ইসলামাবাদে লাগাতার আত্মঘাতী ও জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে।
পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে ২০২৬ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি এবং তার পরবর্তী দিনগুলোতে। অপারেশন গজব লিল হক (Operation Ghazab Lil Haq) পাকিস্তান বায়ুসেনা (PAF) আফগানিস্তানের নানগারহার, পাকতিকা, খোস্ত এবং খোদ রাজধানী কাবুলে টিটিপি এবং আল-কায়দার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক এয়ারস্ট্রাইক বা বিমান হামলা চালায়।
এর পালটা জবাব দিতে আফগান তালিবানরাও ড্রোন এবং ভারী আর্টিলারি ব্যবহার করে পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিগুলোতে হামলা শুরু করে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তারা পাকিস্তানের বহু সেনাকে হত্যা করেছে এবং বর্ডার পোস্ট ধ্বংস করেছে। এই ‘টিট-ফর-ট্যাট’ বা ইটের বদলে পাটকেল নীতিই আজ দুই দেশকে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
সামরিক শক্তির পরিসংখ্যান: খাতায়-কলমে কে কোথায়? (The Numbers Game)
যেকোনো যুদ্ধের প্রথম বিচার্য বিষয় হলো সেনাসংখ্যা, বাজেট এবং সামরিক পরিকাঠামো। বিশ্বের সামরিক শক্তির সূচক ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ (Global Firepower Index)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সামরিক শক্তিতে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
র্যাঙ্কিং ও সেনাসংখ্যা (Manpower & Active Personnel):
পাকিস্তান: বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের নিয়মিত সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ৬,৬০,০০০ (৬ লক্ষ ৬০ হাজার)। এর মধ্যে ৫,৬০,০০০ সেনাবাহিনী, ৭০,০০০ বায়ুসেনা এবং ৩০,০০০ নৌবাহিনী রয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের প্রায় ৫ লক্ষ প্যারামিলিটারি ফোর্স এবং ৫.৫ লক্ষ রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে।
আফগানিস্তান: তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের নির্দিষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং না থাকলেও, তাদের সক্রিয় সেনাসংখ্যা আনুমানিক ১,৭২,০০০ থেকে ২,০০,০০০-এর মধ্যে। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর তালিবানরা পুরোনো আফগান ন্যাশনাল আর্মির কিছু সেনা এবং নিজেদের লড়াকুদের মিলিয়ে ৩১৩ সেন্ট্রাল কর্পস (313 Central Corps), ২০৫ আল-বদর কর্পস-এর মতো নতুন সামরিক কাঠামো তৈরি করেছে।
প্রতিরক্ষা বাজেট (Defence Budget & Economy): পাকিস্তান: চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকলেও এবং আইএমএফ-এর ঋণে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও, পাকিস্তানের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
আফগানিস্তান: তালিবান সরকারের কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। তাদের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা বাজেটও সেই অর্থে নেই। আন্তর্জাতিক অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি আধুনিক সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
স্থলবাহিনীর গঠন ও সমরাস্ত্র (Land Forces & Ground Arsenal): স্থলযুদ্ধে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং আর্টিলারির ভূমিকা অপরিসীম। ডুরান্ড লাইনের পাহাড়ি অঞ্চলে এই স্থলবাহিনীর লড়াই-ই সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
পাকিস্তানের গ্রাউন্ড ফোর্স: পাক সেনার গঠন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল (Structured Command System)। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ২,৬০০ থেকে ৪,২০০টি মেন ব্যাটল ট্যাঙ্ক (Main Battle Tank)। এর মধ্যে নিজেদের তৈরি ‘আল-খালিদ’ (Al-Khalid), ইউক্রেনের টি-৮০ ইউডি (T-80UD) এবং চিনের তৈরি অত্যাধুনিক ভিটি-৪ (VT-4) ট্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া তাদের কাছে ১৭,০০০-এর বেশি আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকেল (সাঁজোয়া যান) এবং ৪,৬০০-এর বেশি আর্টিলারি বা কামান রয়েছে (যার মধ্যে সেলফ-প্রপেলড এবং টোড আর্টিলারি দুইই আছে)। মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমেও তারা বেশ শক্তিশালী।
আফগানিস্তানের স্থলবাহিনী: তালিবানদের নিজস্ব কোনো অস্ত্র কারখানা বা সমরাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি নেই। তাদের স্থলবাহিনীর প্রধান এবং একমাত্র ভরসা হলো ২০২১ সালে তাড়াহুড়ো করে আফগানিস্তান ছাড়ার সময় ফেলে যাওয়া মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর বিপুল সমরাস্ত্র।
যানবাহন: তাদের হাতে রয়েছে হাজার হাজার মার্কিন হামভি (Humvees), এমআরএপি (MRAP – মাইন প্রতিরোধী সাঁজোয়া যান), ফোর্ড রেঞ্জার ট্রাক এবং কিছু পুরোনো সোভিয়েত আমলের টি-৫৫ বা টি-৬২ ট্যাঙ্ক।
অস্ত্রশস্ত্র: পদাতিক বাহিনীর অস্ত্রের দিক থেকে তাদের কাছে আছে অত্যাধুনিক মার্কিন এম-৪ কার্বাইন (M4 Carbine), এম-১৬ (M16) রাইফেল, এএসএইচ-৭৮ (ASH-78) এবং স্নাইপার রাইফেল।
সবচেয়ে বড় দুর্বলতা: সমস্যা হলো রক্ষণাবেক্ষণ বা মেইনটেন্যান্স। মার্কিন প্রযুক্তি অত্যন্ত আধুনিক ও জটিল হওয়ায়, খুচরো যন্ত্রাংশ (Spare parts) এবং দক্ষ মেকানিকের অভাবে তালিবানদের হাতে থাকা অনেক সাঁজোয়া যান এবং অস্ত্রই এখন অকেজো হতে শুরু করেছে।
বায়ুসেনা ও নৌবাহিনী: আসমানি লড়াইয়ে কে রাজা? (Air Force & Navy)
যেকোনো আধুনিক যুদ্ধে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে, জয় তার পক্ষেই যায়। আর এখানেই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্টেজ লুকিয়ে আছে।
পাকিস্তান বায়ুসেনা (PAF): পাকিস্তানের বায়ুসেনা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুপ্রশিক্ষিত। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৪৬৫টি কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অত্যাধুনিক ‘এফ-১৬’ (F-16) এবং চিনের সহায়তায় তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ (JF-17 Thunder) সবচেয়ে ভয়ংকর। আকাশপথে নজরদারির জন্য তাদের কাছে ‘সুইডিশ এরিআই’ বা ‘অ্যাওয়াকস’ (AWACS) রাডার সিস্টেম রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে, যার মধ্যে ‘এএইচ-১ কোবরা’ (AH-1 Cobra) অ্যাটাক হেলিকপ্টারও শামিল। সাম্প্রতিক আফগান এয়ারস্ট্রাইকে পাক বায়ুসেনাই মূল ভূমিকা পালন করেছে।
আফগান বায়ুসেনা (The Missing Link): আফগানিস্তানের কোনো কার্যকরী বায়ুসেনা বা ফাইটার জেট নেই। তাদের হাতে কয়েকটি মেরামতি করা মার্কিন ব্ল্যাক হক (UH-60 Black Hawk) এবং রাশিয়ান এমআই-১৭ (Mi-17) হেলিকপ্টার রয়েছে। এগুলো মূলত সেনা যাতায়াতের কাজে লাগে।
যুদ্ধবিমান বলতে কিছুই নেই। তাই আকাশপথে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো যখন বোমা ফেলে যায়, তখন তা প্রতিহত করার মতো কোনো শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ডিফেন্স সিস্টেম’ (Anti-aircraft defense system) বা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল তালিবানদের কাছে নেই।
নৌবাহিনী (Navy): আরব সাগরের তীরে অবস্থিত পাকিস্তানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী নৌবাহিনী (সাবমেরিন, ফ্রিগেট, করভেট ও ডেস্ট্রয়ার সহ) রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান একটি ল্যান্ডলকড (Landlocked) বা স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় তাদের নৌবাহিনীর কোনো অস্তিত্বই নেই।
পারমাণবিক শক্তি: চূড়ান্ত গেমচেঞ্জার (The Nuclear Deterrent) হলো পারমাণবিক অস্ত্রে। পাকিস্তান একটি স্বীকৃত পরমাণু শক্তিধর দেশ। তাদের হাতে আনুমানিক ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড (Nuclear Warheads) রয়েছে। এই বোমাগুলো নিক্ষেপ করার জন্য তাদের কাছে ‘শাহীন’, ‘ঘৌরি’ বা ‘গজনাভি’-র মতো ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক সক্ষমতা বা মিসাইল প্রযুক্তি নেই। যদিও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য, তবুও এটি পাকিস্তানের জন্য একটি বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ঢাল।
পরিসংখ্যানের বাইরে: তালিবান কেন পাকিস্তানের জন্য মারাত্মক হুমকি? (The Asymmetric Advantage)
ওপরের পরিসংখ্যান দেখে মনে হতে পারে যে, পাকিস্তান চাইলে এক সপ্তাহেই আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ শুধু খাতায়-কলমে হয় না, মাটির লড়াইয়ের নিয়ম আলাদা। আর এখানেই লুকিয়ে আছে আফগান তালিবানের আসল শক্তি, যাকে বলা হয় ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ (Asymmetric Warfare) বা অসম যুদ্ধ।
তালিবানদের প্রধান শক্তি তাদের প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র নয়, বরং তাদের অদম্য মানসিকতা এবং গেরিলা যুদ্ধকৌশল। গত ২০ বছর ধরে তারা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মার্কিন সেনা এবং ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধই লড়েছে এবং তাদের দেশছাড়া করেছে। পাকিস্তানের প্রথাগত সেনাবাহিনী (Conventional Army) ইউনিফর্ম পরে নিয়ম মেনে লড়তে অভ্যস্ত। কিন্তু পাহাড়ে লুকিয়ে থেকে অতর্কিতে হামলা চালানো তালিবানদের হারানো অত্যন্ত কঠিন।
ডুরান্ড লাইনের ভৌগোলিক সুবিধা (Terrain Advantage): আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী ডুরান্ড লাইন বরাবর রয়েছে হিন্দুশুকুশ পর্বতমালার অত্যন্ত দুর্গম খাঁজ। এই পাহাড়ি এলাকা তালিবানদের হাতের তালুর মতো চেনা। এই সরু পাহাড়ি পথগুলোতে ভারী আল-খালিদ ট্যাঙ্ক বা আর্টিলারি নিয়ে পাক সেনার প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তান বায়ুসেনা হয়তো ওপর থেকে বোমা ফেলতে পারে, কিন্তু পদাতিক বাহিনী ছাড়া কোনো ভূখণ্ড দখল করা বা ধরে রাখা যায় না।
মার্কিন ‘নাইট ভিশন’ প্রযুক্তি (The Night Advantage): মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার সময় প্রচুর ‘নাইট ভিশন গগলস’ (Night Vision Goggles) এবং থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস ফেলে গেছে। রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান বর্ডার পোস্টে স্নাইপার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি তালিবানদের মারাত্মক সুবিধা দিচ্ছে। পাক বর্ডার গার্ডদের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই রাতের বেলা দেখার এই অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকে না।
টিটিপি-র প্রক্সি সাপোর্ট (The Enemy Within):
আফগান তালিবানরা একা লড়ছে না। তাদের সবথেকে বড় তুরুপের তাস হলো পাকিস্তানের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ‘টিটিপি’ বা পাকিস্তানি তালিবান। আফগান তালিবানদের প্রচ্ছন্ন মদতে টিটিপি যদি পাকিস্তানের ভেতরে (খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালোচিস্তানে) অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ আরও জোরদার করে, তবে পাক সেনাকে চরম বিপদে পড়তে হবে। তাদের একইসঙ্গে বর্ডার সামলাতে হবে এবং দেশের ভেতরের সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়তে হবে—যা তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য কফিনের শেষ পেরেক হতে পারে।
এই যুদ্ধ শুধু কাবুল আর ইসলামাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর আঁচ পড়বে গোটা এশিয়ায়।
চীন—যারা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শরিক—তারা এই পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। কারণ এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা চীনের হাজার হাজার কোটি টাকার ‘সিপিইসি’ (CPEC) প্রজেক্টের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে ইরান ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ভারতের তরফ থেকেও এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভারত আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য বরাবরই ত্রাণ পাঠিয়ে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান যদি আফগান সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয় এবং টিটিপি-কে নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে, তবে কাশ্মীর সীমান্তে ভারতের ওপর তাদের চাপ কিছুটা হলেও কমতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, সামরিক পরিসংখ্যানে, বায়ুসেনায়, কাঠামোতে এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে পাকিস্তান যোজন যোজন এগিয়ে। একটি প্রথাগত বা ‘কনভেনশনাল’ যুদ্ধে আফগানিস্তানের জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, আফগানিস্তানের রুক্ষ মাটি কোনোদিনই প্রথাগত যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলেনি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আমেরিকা—সবাইকে এই মাটিতে হার মানতে হয়েছে। তালিবানদের অদম্য জেদ, গেরিলা কৌশল এবং ভূ-প্রাকৃতিক সুবিধা এই সংঘাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদী, রক্তক্ষয়ী এবং ক্লান্তিকর পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর সেই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের খরচ সামলানোর মতো অর্থনৈতিক জোর এই মুহূর্তে পাকিস্তানের নেই বললেই চলে। তাই খাজা আসিফের ‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জন্য বুমেরাং হয়ে ফেরে কি না, সেটাই এখন দেখার।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- স্মার্ট সিটির কর্পোরেট চাকচিক্যের আড়ালে ‘বিষ-জল’! আইটি হাবের ঠিকানায় সাপুরজির ই-ব্লকে হাহাকার
- ভাগ্য বদলাতে চান? গ্রহের প্রতিকার হিসেবে এই রঙের পোশাকই হতে পারে চাবিকাঠি!
- টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের জয় অব্যাহত │ লণ্ডভণ্ড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান
- মঞ্চে উঠলেই ভয়? │ পাবলিক স্পিকিং ভীতি কাটানোর ৫টি কৌশল জানুন এখনই
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো

