Pradhan Mantri Vishwakarma Yojana: প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বকর্মা যোজনার মাধ্যমে বাংলার কামার, তাঁতি, কুমোর, নাপিত ও অন্যান্য কারিগরদের জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, ঋণ ও ডিজিটাল সহায়তার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনার পাশাপাশি এবার বিশেষ গুরুত্ব পেল প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগের সরকারের সময় আটকে থাকা লক্ষাধিক আবেদন দ্রুত কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে রাজ্যের হাজার হাজার কারিগরের সামনে খুলতে চলেছে নতুন সুযোগের দরজা।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। কামার, কুমোর, তাঁতি, স্বর্ণকার, নাপিত, রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে চর্মকার— বহু মানুষ নিজেদের দক্ষতা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু আধুনিক বাজার, প্রযুক্তি এবং আর্থিক সহায়তার অভাবে তাঁদের অনেকেই পিছিয়ে পড়ছিলেন। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছিল প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা। এবার পশ্চিমবঙ্গেও সেই প্রকল্প কার্যকর করার পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল।
কী এই প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা?
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা মূলত দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর এবং হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রকল্প। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারিগরি পেশাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিপণন এবং ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও দেওয়া হবে এই যোজনার মাধ্যমে। সরকারের বক্তব্য, দেশের বহু কারিগর আজও নিজেদের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বড় বাজারে পৌঁছতে পারেন না। তাঁদের কাজের সঠিক মূল্যও অনেক সময় মেলে না। বিশ্বকর্মা যোজনা সেই সমস্যা দূর করতেই চালু করা হয়েছে।
বাংলায় আট লক্ষের বেশি আবেদন নিয়ে কী ঘোষণা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় আট লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। অভিযোগ, আগের সরকার সেই আবেদনগুলি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরে পাঠায়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত আবেদন দ্রুত কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে বহু কারিগর এবার সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই প্রকল্প চালু হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। যাঁরা ঐতিহ্যবাহী কারিগরি বা হাতের কাজের পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাই এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
বর্তমানে মোট ১৮ ধরনের পেশার মানুষকে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- কামার
- কুমোর
- চুতোর
- স্বর্ণকার
- তাঁতি
- চর্মকার
- রাজমিস্ত্রি
- নাপিত
- ধোপা
- মালাকার
- দর্জি
- মূর্তিশিল্পী
- ঝুড়ি প্রস্তুতকারক
- নৌকা নির্মাতা
- তালা প্রস্তুতকারক
- হাতুড়ে কারিগর
- মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক
- অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কারিগর
সরকারের মতে, ভবিষ্যতে আরও কিছু পেশাকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হতে পারে।
কী কী সুবিধা মিলবে এই যোজনায়?
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার অন্যতম বড় আকর্ষণ হল প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা।
প্রথমেই কারিগরদের দেওয়া হবে উন্নত মানের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকার সহায়তা। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করতে হয় বলে উৎপাদন কম হয়। নতুন সরঞ্জাম পেলে কাজের মান ও গতি দুটোই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণে শেখানো হবে—
- আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
- ডিজিটাল লেনদেন
- বাজারজাতকরণ
- ব্র্যান্ড তৈরি
- ব্যবসা পরিচালনা
- আর্থিক সচেতনতা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ শেষ করার পর বিনা সুদে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধাও দেওয়া হবে। এই ঋণের মেয়াদ থাকবে ১৮ মাস পর্যন্ত।
ডিজিটাল লেনদেনেও বাড়তি সুবিধা
সরকার ডিজিটাল লেনদেনকে বিশেষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। তাই যাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করবেন, তাঁদের প্রতি লেনদেনের জন্য অতিরিক্ত এক টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, এতে ছোট কারিগররাও ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যবসাও আরও বড় বাজারে পৌঁছতে পারবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
আবেদন করার সময় সাধারণত যে নথিগুলি লাগতে পারে—
- আধার কার্ড
- মোবাইল নম্বর
- ব্যাঙ্কের তথ্য
- পেশার প্রমাণপত্র
- পরিচয়পত্র
অনলাইন আবেদন করার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারী প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারিগরদের নতুন পরিচয় দেওয়ার একটি বড় উদ্যোগ। বাংলার গ্রামাঞ্চলে এখনও বহু পরিবার হাতের কাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আধুনিক বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় তাঁদের অনেকেই সমস্যায় পড়েন। বিশ্বকর্মা যোজনা সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে।
একদিকে যেমন কারিগররা প্রশিক্ষণ পাবেন, তেমনই আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ঋণের সুবিধা তাঁদের ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করবে। ফলে কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।
#PradhanMantriVishwakarmaYojana #WestBengal #ArtisanScheme #PMVishwakarma #IndianArtisans #GovernmentScheme #BJPGovernment #SkillDevelopment
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

