Suvendu Adhikari Instructions to Bureaucrats: প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই আমলাদের উদ্দেশে একাধিক কড়া নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত চালু, স্বচ্ছ প্রশাসন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং ভয়মুক্তভাবে কাজ করার বার্তায় নতুন সরকারের প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবার শপথ নেওয়ার পর আজ রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করলেন। কার্যভার গ্রহণের পরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনিক বৈঠক, আমলাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা এবং নতুন সরকারের রূপরেখা— সব মিলিয়ে নবান্নে আজ ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দিন।
নতুন মন্ত্রিসভায় অগ্নিমিত্রা পালকে নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগর উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। মহিলাদের সুরক্ষা, শিশু উন্নয়ন এবং শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব। আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে বিশেষ জোর দিতে চলেছে নতুন সরকার। নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, বুধবার বিধানসভায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শাসকদলের ২০৭ জন বিধায়ক-সহ বিরোধী দলের বিধায়কেরাও উপস্থিত থাকবেন। নবনির্বাচিত সমস্ত বিধায়ক ওইদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আমলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা (Suvendu Adhikari Instructions to Bureaucrats)
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর রাজ্যের আমলাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠক থেকেই প্রশাসনের জন্য একাধিক কড়া এবং স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি। রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের সচিব এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এবার থেকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে দ্রুত ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আমলাদের উদ্দেশে যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশগুলি দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হল— সমস্ত দপ্তরের সচিবদের নিয়ে সমন্বয়কারী দল গঠন করতে হবে। প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে কোনও আধিকারিককে নাম ধরে ডাকা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, অন্যায় বা বেআইনি কোনও কাজ চোখে পড়লে সরাসরি “না” বলতে হবে। কোনওরকম রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের স্বাধীন দায়িত্ব পালন করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আমলারাই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায়” এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। প্রকল্প হবে মানুষের জন্য, প্রশাসনের দায়িত্বে— এই বার্তাই দিতে চেয়েছে নতুন সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনিক কাজে কোনও সমস্যা হলে সরাসরি তাঁকে বা মুখ্য সচিবকে জানাতে হবে। সরকারি অর্থের অপচয় যাতে না হয়, সেই বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও প্রকল্পে সুবিধা বা অসুবিধা থাকলে তা দ্রুত মুখ্য সচিবকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।
এই বৈঠক থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প দ্রুত চালুর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতদিন পশ্চিমবঙ্গে চালু না থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবার থেকে রাজ্যে কার্যকর করা হবে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী জনসেবা যোজনা, ফসল বীমা যোজনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষ এতদিন যেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এবার সেই পরিষেবাগুলি দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রই হবে সরকারের মূল রোডম্যাপ। সেই সংকল্পপত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।
আমলাদের উদ্দেশে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল— “ভয় না পেয়ে কাজ করুন।” প্রশাসনের স্বচ্ছতা, দ্রুততা এবং মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নতুন সরকার এগোতে চাইছে বলে বৈঠক থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

