Suvendu Adhikari First Cabinet Meeting: প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একাধিক বড় ঘোষণা করল নতুন সরকার। চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড়, নতুন আইন কার্যকর, কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর বড় বার্তা দিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, বাংলার মানুষ যে গণতান্ত্রিক রায় দিয়েছেন, তার প্রতি সরকার নতমস্তকে শ্রদ্ধাশীল। ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক নাগরিক, কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, সংবাদমাধ্যম, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই।
সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পথে যাঁরা আত্মবলিদান দিয়েছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জন কর্মী-সমর্থককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “এই সরকার দায়বদ্ধ সরকার। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার। সূত্রের খবর, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের বিষয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে ৪৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, এতদিন পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর না হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবার থেকে রাজ্যে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে বলে ঘোষণা হয়েছে। অর্থাৎ আগের আইপিসির পরিবর্তে নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী চলবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনও আপস করা হবে না।”
আয়ুষ্মান ভারত থেকে উজ্জ্বলা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে রাজ্য
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের অন্যতম বড় ঘোষণা হল কেন্দ্রীয় একাধিক প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে আর বঞ্চিত না হন, তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, ফসল বীমা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-সহ একাধিক প্রকল্প।
সরকারি সূত্রে খবর, জেলা শাসকদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন শুরু করা যায়। বিশেষ করে উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় আরও কয়েক লক্ষ মহিলা যাতে রান্নার গ্যাসের সুবিধা পান, সেই দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
নতুন সরকারের বক্তব্য, “মা-বোনেরা এতদিন যেসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এবার সেই সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।”
সরকারি নিয়োগে বড় ছাড়, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০১৫ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে কার্যত কোনও বড় সরকারি নিয়োগ হয়নি। সেই কারণেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সে অতিরিক্ত ৫ বছরের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ছিল অন্যতম বড় ইস্যু। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেই অসন্তোষ অনেকটাই কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও আইএএস, আইপিএস-সহ সর্বভারতীয় পরিষেবার আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মুখ্য সচিবকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আগামী সোমবার ফের ক্যাবিনেট বৈঠক, আলোচনায় আরজি কর ও ডিএ
প্রথম বৈঠকের পরই ঘোষণা হয়েছে আগামী সোমবার ফের বসবে মন্ত্রিসভার বৈঠক। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্রের খবর, আরজি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, বকেয়া ডিএ-সহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সরকারের বক্তব্য, “ক্ষমতা হাতে এসেছে মাত্র কয়েকদিন। সব বিষয় খতিয়ে দেখতে সময় প্রয়োজন। আগামী এক সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি বিষয়গুলি পরীক্ষা করবে। তারপর পরবর্তী ক্যাবিনেট বৈঠকে বিস্তারিত সরকারি সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই স্পষ্ট, প্রশাসনিক রদবদল থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা থেকে চাকরি— একাধিক বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার।

