Suvendu Adhikari First Day as Chief Minister: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিনেই ব্যস্ত কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে সংবর্ধনা থেকে নবান্নে প্রশাসনিক ও পুলিশ বৈঠক— নতুন সরকারের প্রথম দিন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জল্পনা।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ জল্পনা, উত্তেজনা আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর শপথ নেওয়ার পর কীভাবে শুরু হল তাঁর প্রশাসনিক সফর? কোথায় ছিল প্রথম বৈঠক? কারা পেলেন মন্ত্রিত্বের ইঙ্গিত? কেন সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় যেন উৎসবের মঞ্চে পরিণত হল?— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন রাজ্যবাসীর কৌতূহল তুঙ্গে।
শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এই দিনটি ছিল আবেগ, শক্তি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক বার্তার এক বিরাট মিশেল। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের চোখে এ যেন “পরিবর্তনের দিন”। আর সেই পরিবর্তনের মুখ হয়ে প্রথম দিন থেকেই কার্যত দৌড় শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের বিজেপি সদর কার্যালয় থেকে নবান্ন— প্রতিটি মুহূর্তে ছিল কড়া নিরাপত্তা, উচ্ছ্বাস, রাজনৈতিক সংকেত এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততা।
উৎসবের আবহ, কুলো হাতে মহিলাদের বরণ (Suvendu Adhikari First Day as Chief Minister)
শপথ নেওয়ার পর প্রথম সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে যেন একেবারে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন দলীয় অফিস চত্বরে। ফুলের মালা, গেরুয়া পতাকা, ব্যানার, ঢাক-ঢোল— সব মিলিয়ে এলাকা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্র।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল মহিলা সমর্থকদের উপস্থিতি। কুলো, শঙ্খ ও প্রদীপ হাতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে ঐতিহ্যবাহী বরণে স্বাগত জানান। অনেকের চোখে জল, কারও মুখে “বাংলার গর্ব” স্লোগান। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এটা শুধুই রাজনৈতিক জয় নয়, “জনতার জয়”। এই সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।
প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত (Suvendu Adhikari First Day as Chief Minister)
রাজনৈতিক সংবর্ধনার পরই শুরু হয় প্রশাসনিক ব্যস্ততা। বিজেপি সূত্রে খবর, সল্টলেকের এই দলীয় কার্যালয়েই প্রথম দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর। মূল আলোচনার কেন্দ্র ছিল সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন।
কে পাবেন স্বরাষ্ট্র? কার হাতে যাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ কিংবা কৃষি?— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয় টানা আলোচনা। সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং জেলার প্রতিনিধিত্ব— এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভা গঠনের রূপরেখা তৈরি হয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনেই দপ্তর বণ্টনের ইঙ্গিত দেওয়া আসলে একটি শক্তিশালী বার্তা। এর মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক মুখ নন, প্রশাসনিক কাজেও দ্রুত সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার কথায়, “সরকারের প্রথম ১০০ দিনের রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।” অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই কার্যত অ্যাকশন মোডে নতুন সরকার।
নবান্নে পৌঁছে উচ্চপদস্থ আমলা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক। জানা গিয়েছে, রাজ্যের আর্থিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান এবং জেলা প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বৈঠকে। নবান্নে আজ মুখ্যমন্ত্রী কে বিশেষ গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিন নবান্নে পৌঁছনোর পর রাজ্য পুলিশের তরফে তাঁকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানো হবে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এই মুহূর্তে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আমলাদের সঙ্গে প্রথম বড় প্রশাসনিক বৈঠক করছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার, একাধিক মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব-সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো নিয়েই এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে। প্রত্যেকটি দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনের উপর কড়া নজর এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তিনি।
এই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নেওয়া সমস্ত নতুন মন্ত্রীরা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, খুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
জানা গিয়েছে, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব, প্রশাসনিক রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। নতুন সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলিও এই বৈঠক থেকেই উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি হবেন। সেখানে প্রথম দিনের প্রশাসনিক বৈঠক, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য রাখতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় বিকেল পাঁচটার বৈঠক (Suvendu Adhikari First Day as Chief Minister)। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক হিংসা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি রোধ— এই চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি বোঝাতে চাইছেন যে তাঁর সরকার “মাঠের রাজনীতি” এবং “প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ”— দুই ক্ষেত্রেই সমান সক্রিয় থাকবে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম দিনেই হাইভোল্টেজ বৈঠক, বিরোধীদের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের দাবি, “এটাই নতুন বাংলার সূচনা।” তাঁদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে পারে।
সাম্প্রতিক পোস্ট
- মেদিনীপুরের ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: কণ্টকাকীর্ণ পথে শুভেন্দু অধিকারীর রাজকীয় উত্থানের মহাকাব্য
- মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন জোড়া পোস্ট শুভেন্দু অধিকারীর। কী লিখলেন তিনি?

