Public Speaking Fear: কেন মঞ্চে ওঠার আগেই বাড়ে হৃদস্পন্দন, কাঁপে হাত-পা এবং কীভাবে মানসিক প্রস্তুতি ও সঠিক কৌশলে এই ভয়কে আত্মবিশ্বাসে রূপান্তর করা যায়।
নিউজ অফবিট ডিজিটাল ডেস্ক: মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে রাহুল। সামনে প্রায় তিনশো মানুষ। আলো জ্বলছে, মাইক্রোফোন ঠিক করা হয়েছে, সঞ্চালক তার নাম ঘোষণা করলেন। মুহূর্তের মধ্যে হাতের তালু ভিজে উঠল ঘামে। বুক ধড়ফড় করছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। মাথায় যে দারুণ কথাগুলো সাজানো ছিল, সেগুলো যেন হঠাৎ করেই উধাও। এই দৃশ্য কি আপনারও চেনা?
উচ্চতা, অন্ধকার বা পোকার ভয়ের কথা আমরা প্রায়ই শুনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সবচেয়ে সাধারণ ভীতিগুলোর একটি হচ্ছে পাবলিক স্পিকিং ভীতি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি তিন জনে একজন মানুষ জনসমক্ষে কথা বলতে গেলে অস্বস্তি, উদ্বেগ বা তীব্র ভয়ের মুখোমুখি হন। অথচ বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার দক্ষতা শুধু একটি গুণ নয়, প্রায় অপরিহার্য শর্ত। তাহলে কীভাবে কাটাবেন এই ভয়? চলুন গল্পের ভেতর দিয়েই খুঁজে নিই উত্তর। আজকের যুগে সফল হতে গেলে কথা বলার দক্ষতা আর আত্মবিশ্বাস প্রায় বাধ্যতামূলক। আপনি ছাত্র, কর্মজীবী বা উদ্যোক্তা—সবার জন্যই দরকার পরিষ্কারভাবে নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা। এই প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে কীভাবে কয়েকটি সহজ কিন্তু বৈজ্ঞানিক কৌশলে কাটিয়ে ওঠা যায় এই ভীতি।
পাবলিক স্পিকিং ভীতি কেন হয়?
মঞ্চে ওঠার আগে হঠাৎ বুক ধড়ফড়, হাত ঘামা, গলা শুকিয়ে যাওয়া—এসব আসলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আমাদের মস্তিষ্ক বিপদের আশঙ্কা করলেই শরীরে সংকেত পাঠায়। ফলস্বরূপ শ্বাস দ্রুত হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। মজার বিষয় হলো, ভয় আর উত্তেজনার লক্ষণ প্রায় একই রকম। শরীর বুঝতে পারে না আপনি ভয় পাচ্ছেন, না কি খুব উত্তেজিত। এই কারণেই অনেক সময় মানুষ নিজের অনুভূতিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। মঞ্চে ওঠার আগে যে শারীরিক পরিবর্তন হয়, সেটিকে ভয় হিসেবে না দেখে উত্তেজনা হিসেবে গ্রহণ করলে মানসিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে।
বিশেষজ্ঞরা এই ভয় কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু বিশেষ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন:
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
জনসমক্ষে কথা বলার আগে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়ন্ত্রিত গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস। ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রেখে মুখ দিয়ে ছেড়ে দিন। এভাবে কয়েকবার করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে এবং স্নায়ু শান্ত হয়।গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস শুধু দেহকে নয়, মনকেও স্থির করে। বক্তৃতার আগে পাঁচ মিনিটের এই অনুশীলন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে উল্লেখযোগ্যভাবে। এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করলে মঞ্চভীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভয় নয়, উত্তেজনা ভাবুন
মানবমনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, শরীরের ভঙ্গি মনের অবস্থাকে প্রভাবিত করে। যদি আপনি আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে দাঁড়ান, মস্তিষ্কও সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেয়। ফলে ভীতি অনেকটাই কমে যায়। শরীরের ভঙ্গিমা বদলান, সোজা হয়ে দাঁড়ান, হালকা হাসি রাখুন মুখে। চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস গড়ুন।
কনটেন্ট মুখস্থ নয়, ধারণা আয়ত্ত করুন
অনেকেই বক্তৃতার প্রতিটি লাইন মুখস্থ করার চেষ্টা করেন। এতে সামান্য ভুল হলেই পুরো বক্তব্য গুলিয়ে যায়। বরং মূল ধারণা পরিষ্কার রাখুন। আপনি বিষয়টি যদি সত্যিই বোঝেন, তাহলে নিজের ভাষায় সাবলীলভাবে বলতে পারবেন। যেমন, পরিবার নিয়ে কথা বলতে গেলে তো আপনাকে কিছু মুখস্থ করতে হয় না। কারণ বিষয়টি আপনার জানা। ঠিক তেমনি বক্তৃতার বিষয়বস্তুও যদি গভীরভাবে বোঝেন, তাহলে ভুলে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা তৈরি
বক্তা হিসেবে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে শ্রোতাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া। তাই ভাষণ দেওয়ার আগেই নিজে নিজে সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর একটি তালিকা এবং তার উত্তর তৈরি করে রাখুন। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নিজের বক্তব্য থেকে কী কী প্রশ্ন উঠতে পারে, তা ভেবে তালিকা করুন। এই প্রস্তুতি আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত করবে। কারণ তখন জানবেন, যেকোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আপনার আছে। এতে বক্তৃতার সময় চাপ কমে যায়।
নিজের ‘লাইটহাউস’ খুঁজে নিন
মঞ্চে প্রবেশের ধরনই বলে দেয় আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী। সামনের সারিতে বসে থাকা শ্রোতাদের চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসির সাথে কথা শুরু করুন। চোখে চোখ রেখে কথা বললে শ্রোতাদের সাথে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। পুরো শ্রোতামণ্ডলীর মধ্যে এমন কিছু মানুষকে খুঁজে বের করুন যারা আপনার কথা মন দিয়ে শুনছেন বা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। এদের বিশেষজ্ঞরা ‘লাইটহাউস’ বা আলোকবর্তিকা বলেন। আপনি যখনই কথা বলতে গিয়ে ঘাবড়ে যাবেন, এই ইতিবাচক মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। এতে আপনার ভয় দূর হবে এবং সাবলীলভাবে বক্তৃতা শেষ করতে পারবেন।
আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কথা বলার দক্ষতা শুধু প্রশিক্ষক বা বক্তাদের জন্য নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই জরুরি। চাকরির সাক্ষাৎকার, অফিসের উপস্থাপনা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে—সব জায়গাতেই প্রয়োজন আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগ। পাবলিক স্পিকিং ভীতি অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং এটি খুব সাধারণ। তবে সঠিক প্রস্তুতি, মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই ভয় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। মনে রাখবেন, ভয়কে স্বীকার করলেই তা দুর্বল হয়। আর আত্মবিশ্বাস চর্চার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে।
(আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও রাশিফল আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল WhatsApp চ্যানেলে যোগ দিন! সবচেয়ে আগে পান জ্যোতিষ, অফবিট নিউজ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, বিনোদন, জীবনধারা ও অফবিট এক্সক্লুসিভ আপডেট —আমাদের WhatsApp Channel-এ যোগ দিন)
সাম্প্রতিক পোস্ট
- গায়ে হঠাৎ র্যাশ? মিথ ভেঙে জানুন, চিকেন পক্সের এই লক্ষণগুলো
- স্ট্রেস আর অ্যাংজাইটির মহৌষধ! জানুন মাত্র ৫ অক্ষরের ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র কীভাবে বদলে দেয় স্নায়ুতন্ত্রের গঠন
- মহাশিবরাত্রির রাতে কেন জেগে থাকতে হয়? জানুন, ধর্মীয় প্রথার আড়ালে রয়েছে কোন রহস্য?
- কেন শিবলিঙ্গের উপর অবিরাম জল ঢালা হয়? এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?
- রানি মুখার্জির কামব্যাক—মার্দানী থ্রি কি প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে?

